আজীবন ভোগস্বত্ব রেখে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিল পাস

0
5
বিজ্ঞাপন

দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগস্বত্ব নিজের কাছে রেখে সন্তান, নাতি-নাতনি বা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তরের সুযোগ রেখে ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬ সংশোধিত আকারে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। তবে বিলটির সঙ্গে শরিয়াহ ও মুসলিম উত্তরাধিকার আইনের কোনও সাংঘর্ষিকতা রয়েছে কিনা, তা যাচাইয়ে ইসলামী আইন ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কমিটির বিরোধী দলীয় সদস্যরা।

কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ নওশাদ জমির ৩০ আগস্টের বৈঠকে বিলটি পরীক্ষা শেষে সংসদে রিপোর্ট উপস্থাপন করেন। রিপোর্টে বলা হয়, কমিটির বিরোধী দলীয় সদস্যরা বিলটির ওপর ইসলামিক স্কলার ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মতামত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। এরপর কমিটি সংশোধিত আকারে বিলটি পাসের সুপারিশ করে।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস করা হয়। বিলটি পাসের আগে জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দেওয়া হলে বিরোধী দল এর প্রতিবাদে ওয়াকআউট করে।

বিলের প্রস্তাবিত ১২২এ ধারায় বলা হয়েছে, কোনও দাতা সম্পত্তির আজীবন ভোগস্বত্ব নিজের কাছে রেখে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি দান করলে তা বৈধ হবে। এ ধরনের হস্তান্তর বাবা-মা বা দাদা-দাদি/নানা-নানি থেকে সন্তান বা নাতি-নাতনির মধ্যে, উল্টো দিকেও এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে করা যাবে।

স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে এ হস্তান্তর করতে হবে। দাতার জীবদ্দশায় গ্রহীতার মৃত্যু হলে সম্পত্তি আইন অনুযায়ী গ্রহীতার উত্তরাধিকারীদের কাছে যাবে। তবে দাতার আজীবন ভোগস্বত্ব বহাল থাকবে।

বিলে আরও বলা হয়েছে, এই পদ্ধতিতে সম্পত্তি হস্তান্তর একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি হিসেবে গণ্য হবে। প্রচলিত গিফট, মুসলিম আইনের হেবা বা অন্য কোনও স্বীকৃত হস্তান্তর পদ্ধতির বৈধতার ওপর এর কোনও প্রভাব পড়বে না।

বিরোধী দলের আপত্তি

কমিটির বিরোধী দলীয় সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান ও আল ফারুক আবদুল লতিফ তাদের ভিন্নমতে বলেন, প্রস্তাবিত বিলটি মুসলিম পারিবারিক আইন ও উত্তরাধিকারসংক্রান্ত বিষয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। ফলে এর বিধান শরিয়াহ, কোরআন-হাদিস এবং বিশেষ করে মিরাসের বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

তারা ইসলামী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের মাধ্যমে প্রখ্যাত ইসলামী আইন ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার প্রস্তাব দেন। বিশেষজ্ঞদের মতামত পাওয়ার পর তা যথাযথভাবে পর্যালোচনা করে বিলের বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের দাবি জানান।

যেসব সংশোধনী সুপারিশ

কমিটি বিলটিতে কয়েকটি সংশোধনী আনার সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘রাইট অব ইউসুফ্রাক্ট’-এর পরিবর্তে ‘দ্য রাইট অব লাইফটাইম এনজয়মেন্ট (লাইফটাইম ইউসুফ্রাক্ট রাইটস)’ শব্দ ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট ধারাগুলোতে ‘লাইফটাইম’ শব্দ সংযোজন।

এ ছাড়া বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতেও ‘লাইফটাইম ইউসুফ্রাক্ট’-এর পরিবর্তে ‘লাইফটাইম ইউসুফ্রাক্ট রাইটস’ ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে।

বাতিল বা পরিবর্তনের সুযোগ

প্রস্তাবিত ১২২বি ধারায় বলা হয়েছে, নিবন্ধনের পর এ ধরনের দান সাধারণভাবে অপরিবর্তনীয় থাকবে। তবে দাতা ও গ্রহীতার পারস্পরিক সম্মতিতে নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে আর্থিক, চিকিৎসা, শিক্ষা, পারিবারিক বা অন্য কোনও প্রকৃত প্রয়োজনের কারণে তা পরিবর্তন বা বাতিল করা যাবে।

কোনও পক্ষ নাবালক, নিখোঁজ, মানসিকভাবে অসুস্থ, আইনগতভাবে অক্ষম বা অন্য কোনও যথেষ্ট কারণে সম্মতি দিতে না পারলে জেলা জজ প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্টদের নোটিশ দিয়ে এ বিষয়ে আদেশ দিতে পারবেন।

মন্ত্রীর বক্তব্য

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে বলেন, প্রস্তাবিত বিধানটি প্রচলিত গিফট বা হেবার বৈধতাকে সীমিত বা অকার্যকর করবে না। বিলের ১২২এ ধারার ৪ উপধারায় বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগস্বত্ব সংরক্ষণ করে দানের বিষয়ে বিদ্যমান আইনে সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। রক্তসম্পর্কীয় নির্দিষ্ট স্বজন এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রে দাতার স্বার্থ সীমিতভাবে সুরক্ষিত রাখতেই নতুন ১২২এ ও ১২২বি ধারা যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত নতুন ব্যবস্থা সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে। একই সঙ্গে প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের হেবা বা অন্য কোনও স্বীকৃত সম্পত্তি হস্তান্তর ব্যবস্থার ওপর এর কোনও প্রভাব ফেলবে না।

পড়ুন : রাষ্ট্র মালিকানাধীন ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দেড় লাখ কোটি টাকা : সংসদে অর্থমন্ত্রী

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.