বিজ্ঞাপন

ঘাসে পড়েছিল অভিনেত্রীর খণ্ডিত দেহ, ৮০ বছরেও ধরা পড়েনি ঘাতক

বিজ্ঞাপন

১৯৪৭ সালের ১৫ জানুয়ারি লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি ফাঁকা জমি থেকে উদ্ধার হয় ২২ বছর বয়সী এলিজাবেথ শর্টের খণ্ডিত দেহ। পরে ‘ব্ল্যাক ডালিয়া’ নামে পরিচিত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য আজও অমীমাংসিত।

১৯৪৭ সালের ১৫ জানুয়ারি সকালে লস অ্যাঞ্জেলেসের সাউথ নর্টন অ্যাভিনিউয়ের একটি ফাঁকা জমিতে ঘাসের ওপর পড়ে থাকতে দেখা যায় এক তরুণীর নগ্ন দেহ। প্রথমে দূর থেকে সেটিকে পুতুল মনে হলেও কাছে গিয়ে দেখা যায়, কোমর থেকে কেটে দুই ভাগ করা হয়েছে দেহটি। মুখের দুই পাশও কান পর্যন্ত চিরে দেওয়া হয়েছিল।

নিহত তরুণীর নাম এলিজাবেথ শর্ট। কয়েক দিনের মধ্যেই সংবাদপত্রগুলো তাকে ‘ব্ল্যাক ডালিয়া’ নামে পরিচিত করে তোলে। হত্যার প্রায় আট দশক পেরিয়ে গেলেও ঘাতকের পরিচয় আজও অজানা।

১৯২৪ সালে বোস্টনে জন্ম নেওয়া এলিজাবেথের শৈশব কেটেছিল দারিদ্র্য ও অসুস্থতার মধ্যে। ১৫ বছর বয়সে ফুসফুসের অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি ফ্লোরিডা ও ক্যালিফোর্নিয়ায় ঘুরে বেড়াতে শুরু করেন।

১৯৪৬ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে আসার পর ওয়েট্রেস হিসেবে কাজ নেন তিনি। সংবাদপত্রে তাকে ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষী অভিনেত্রী’ হিসেবে বর্ণনা করা হলেও, অভিনয়সংক্রান্ত কোনও কাজের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

১৯৪৭ সালের ৯ জানুয়ারি প্রেমিক রবার্ট ম্যানলি এলিজাবেথকে লস অ্যাঞ্জেলেসের বিল্টমোর হোটেলে নামিয়ে দিয়ে আসেন। সেখান থেকেই নিখোঁজ হন তিনি। পরবর্তী ছয় দিন তিনি কোথায় ছিলেন বা কার সঙ্গে ছিলেন, তা আর জানা যায়নি।

১৫ জানুয়ারি উদ্ধার হওয়া দেহের ময়নাতদন্ত করেন কর্মকর্তা ফ্রেডরিক নিউবার। রিপোর্ট অনুযায়ী, মাথায় আঘাত ও মুখের ক্ষত থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে এলিজাবেথের মৃত্যু হয়। পরে তার দেহ দুই খণ্ড করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

দেহ কাটার সূক্ষ্মতা দেখে চিকিৎসাবিদ্যার শিক্ষার্থীদের দিকেও সন্দেহের তির ওঠে। তবে তদন্তে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রমাণ মেলেনি।

হত্যাকাণ্ডের ছয় দিন পর লস অ্যাঞ্জেলেস এক্সামিনার পত্রিকার সম্পাদক জেমস রিচার্ডসনকে ফোন করে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি নিজেকে খুনি দাবি করেন। পরে তিনি এলিজাবেথের জন্মসনদ, ছবি, ভিজিটিং কার্ড এবং মার্ক হ্যানসেনের অ্যাড্রেস বুক পেট্রল দিয়ে মুছে ডাকযোগে পাঠান।

একই সঙ্গে আত্মসমর্পণের চিঠি পাঠালেও শেষ পর্যন্ত কেউ পুলিশের কাছে হাজির হয়নি। ঘটনার পর পুলিশ ৬০টির বেশি ভুয়া স্বীকারোক্তি পায়। পরবর্তী দশকগুলোতে এই সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রখ্যাত চিকিৎসক জর্জ হোডেল, সাবেক ময়নাতদন্ত সহকারী লেসলি ডিলনসহ ১৫০ জনের বেশি সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু কারও বিরুদ্ধেই এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা দিয়ে হত্যার রহস্যের চূড়ান্ত সমাধান সম্ভব।

লস অ্যাঞ্জেলেসের ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অমীমাংসিত হত্যাকাণ্ড হয়ে আছে ‘ব্ল্যাক ডালিয়া’ মামলা। এলিজাবেথ শর্টের মৃত্যুর প্রায় ৮০ বছর পরও তার ঘাতকের পরিচয় অধরাই রয়ে গেছে।

পড়ুন:ঋতাভরীর পোস্ট নিয়ে কেন এত আলোচনা

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন