বৃক্ষরোপণকে টেকসই সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। আজ সচিবালয়ের মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় বৃক্ষরোপণ সেলের সহায়ক টাস্কফোর্সের তৃতীয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণকে একটি টেকসই সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। সরকারের ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল করতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। শুধু চারা রোপণের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না; প্রতিটি চারার পরিচর্যা, রক্ষণাবেক্ষণ ও টিকে থাকার হার নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় জানানো হয়, ২০২৬ সালে মোট ৫ কোটি ১৪ লাখ ৮৮ হাজার ৯৩০টি চারা রোপণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে নিজস্বভাবে উৎপাদিত চারা দিয়ে প্রায় ৩ কোটি ৮২ লাখ এবং নিজস্ব অর্থ ব্যবহার করে সংগৃহীত চারা দিয়ে প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ চারা রোপণ ও পরিচর্যার পরিকল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থা তাদের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চারা রোপণ করছে।
এর বাইরে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর তথ্য মতে, বিভিন্ন এনজিও ২৫ লক্ষ চারা রোপণ করেছে। স্থানীয় তথ্য পেলে এ সংখ্যা মূল ডাটাবেজে অন্তর্ভূক্ত করা হবে। আগামী ডিসেম্বরে উপকূলীয় এলাকায় ম্যানগ্রোভ প্রজাতির চারা রোপণের ফলে এ বছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে সভায় জানানো হয়।
প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থানীয় আবহাওয়া, মাটির গুণাগুণ ও প্রতিবেশের উপযোগী দেশীয় প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছকে বৃক্ষরোপণে অগ্রাধিকার দিতে হবে। নদী, খাল, বেড়িবাঁধ, সড়ক ও রেলপথের পাশের উপযোগী জমিতে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করতে হবে এবং রোপিত চারার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। দুর্যোগ বা অন্য কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত চারা দ্রুত প্রতিস্থাপন করতে হবে।
সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) শামিমা বেগম এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, সেতু বিভাগ ও বন অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম, টেকনিক্যাল এক্সপার্ট মো: জামাইল বশীর জেবি, প্রকৌশলী শাহ আদনান মাহমুদসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তাগণ সভায় অংশগ্রহণ করেন।
পড়ুন : ঠাকুরগাঁও ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি


