গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী জরুন এলাকার কেয়া গ্রুপের নিট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন ও কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেডে হঠাৎ নোটিশ দিয়ে মোট ৬২৭ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যায় কারখানার মূল ফটকে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের নামের তালিকা সাঁটিয়ে দেওয়া হয়। এরপর আজ সকাল থেকে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকেরা কারখানার মূল ফটকে এসে ভিড় জমাতে থাকেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক বলেন, ‘আমরা এ কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করে আসছি। আজ সকালে একজন ফোন করে বললো, নোটিশ দিয়ে আমাদের বরখাস্ত করা হয়েছে। এসে দেখি আমাদের চাকরি নেই। বকেয়া পরিশোধ না করেই কেন কর্তৃপক্ষ এমনটা করলো? এখন আমাদের কী হবে? আমরা তো এখনো মালিকপক্ষের কারও সঙ্গে কথাই বলতে পারিনি।’
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন ৬২৭ জন শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কেয়া গ্রুপ কর্তৃপক্ষ শ্রমিক ছাঁটাইয়ের নোটিশের একটি কপি তাঁকে পাঠিয়েছে।
কারখানার (কেয়া কসমেটিকস লিমিটেডের নিট কম্পোজিট ডিভিশন) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যানের সই করা নোটিশে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং জটিলতা, গ্যাস বিল পরিশোধ করতে না পারায় গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং প্রয়োজনীয়তার অতিরিক্ততার কারণে ফ্যাক্টরির উৎপাদন ও প্রশাসনিক খরচ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ সব সেকশন, বিভাগ ও ডিভিশন থেকে কিছু পদ বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২০ ধারা অনুযায়ী ফ্যাক্টরির অতিরিক্ত শ্রমিক ও কর্মচারীদের আজ ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ছাঁটাই করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে একই আইন অনুযায়ী পাওনাদি পরিশোধ করা হবে বলে নোটিশে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, ছাঁটাই করা শ্রমিকদের সব পাওনাদি আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
পড়ুন : রাজধানীতেও কিছুটা লোডশেডিং মেনে নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
সা/


