বিজ্ঞাপন

দুর্গাপুরে জোড়া স্বস্তি: দখলমুক্ত সোমেশ্বরীর পাড়, ধ্বংস হলো মাদকের আস্তানা

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা থেকে অবশেষে মুক্তি পেল নেত্রকোনার দুর্গাপুরবাসী। একদিকে সোমেশ্বরী নদীর তীরবর্তী সরকারি খাসজমির অবৈধ দখল, অন্যদিকে সেসব পরিত্যক্ত স্থাপনায় মাদকসেবীদের অবাধ বিচরণ- এই দুই উপদ্রব একযোগে নির্মূল করেছে উপজেলা প্রশাসন।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে শুরু হওয়া উচ্ছেদ অভিযানের মধ্য দিয়ে তেরীবাজার সংলগ্ন নদীপাড়ের অন্তত সাতটি অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সরকারি সম্পত্তি যেমন উদ্ধার হয়েছে, তেমনি স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় জনজীবনে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপুর পৌরসভার তেরীবাজার এলাকার সোমেশ্বরী নদীপাড়ে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাসজমি দখল করে একশ্রেণির অসাধু চক্র বেশ কিছু স্থাপনা গড়ে তুলেছিল। অতীতে যখন ওই এলাকায় বালুঘাট সক্রিয় ছিল, তখন মূলত এসব ঘরবাড়ি ও আস্তানা নির্মাণ করা হয়। বালুঘাটের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পাকা, আধাপাকা ও টিনশেডের স্থাপনাগুলো দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। নির্জন এই সুযোগটিই কাজে লাগায় স্থানীয় মাদক কারবারি ও সেবীরা। ধীরে ধীরে এসব ঘর পরিণত হয় অপরাধ ও মাদকের নিরাপদ আশ্রয়ে। ফলে ওই এলাকার পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছিল।

জনস্বার্থ, এলাকার নিরাপত্তা ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় বুধবার সকাল থেকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। লোকবল ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে একে একে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় নদীর পাড় ঘেঁষে গড়ে ওঠা সাতটি অবৈধ স্থাপনা। অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত সম্পূর্ণ খাসজমি সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তড়িৎ পদক্ষেপে এলাকার পরিবেশ বদলে যেতে শুরু করেছে।

উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাংবাদিকদের কাছে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “সরকারি সম্পত্তি ও স্বার্থ রক্ষা করা প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তেরীবাজার সংলগ্ন নদীপাড়ে গড়ে ওঠা এসব অবৈধ ও পরিত্যক্ত স্থাপনাগুলো সম্প্রতি মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছিল, যা সমাজের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। সরকারি খাসজমি উদ্ধারের পাশাপাশি মাদকের আড্ডা চিরতরে বন্ধ করতেই আমরা এই অভিযান চালিয়েছি।”

ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, “সরকারি সম্পত্তি ও খাসজমি রক্ষায় প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী আমাদের এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনস্বার্থে প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও যেকোনো অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রশাসনের এমন যুগান্তকারী পদক্ষেপে তেরীবাজার ও দুর্গাপুর পৌরসভার বাসিন্দাদের মাঝে ব্যাপক সন্তোষ দেখা গেছে। স্থানীয়রা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পরিত্যক্ত ওই স্থাপনাগুলোকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলত। সাধারণ মানুষ ওই এলাকা দিয়ে চলাফেরা করতেও অস্বস্তিবোধ করত। অবৈধ এসব স্থাপনা উচ্ছেদের ফলে সরকারি সম্পত্তি যেমন বেদখলমুক্ত হলো, তেমনি এলাকাটি মাদক ও অপরাধের কালো ছায়া থেকে মুক্ত হয়ে আরও নিরাপদ হবে বলে আশা করছেন দুর্গাপুরবাসী।

পড়ুন:মেহেরপুরে ভারতীয় ফেয়াডিল সিরাপ উদ্ধার

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন