নেত্রকোনা সদর উপজেলার লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়নে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে মো. খোকন মিয়া (৪০) নামের এক চিহ্নিত ও কুখ্যাত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ সময় তার বসতঘর তল্লাশি করে প্রায় আড়াই লাখ টাকা মূল্যের ছয়শো পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ২টার দিকে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে ডিএনসি নেত্রকোনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নাজমুল হক গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তারকৃত মাদক কারবারি মো. খোকন মিয়া নেত্রকোনা সদর থানাধীন লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়নের হাসামপুর গ্রামের আব্দুল মালেক ও ললিতা বেগমের ছেলে। এলাকায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
ডিএনসি নেত্রকোনা জেলা কার্যালয় সূত্র জানায়, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে হাসামপুর গ্রামে খোকন মিয়ার বাড়িতে রেইড দেয় ডিএনসির একটি অভিযানিক দল। এ সময় তার দক্ষিণ দুয়ারী সেমিপাকা তিন কক্ষ বিশিষ্ট বসতঘরে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিকালে অত্যন্ত সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা তিনটি কালো রঙের জিপারযুক্ত পলি প্যাকেট উদ্ধার করেন কর্মকর্তারা। প্যাকেটগুলো খুললে সেখান থেকে কমলা রঙের অ্যামফিটামিনযুক্ত ছয়শো পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।
কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি প্যাকেটে দুইশো পিস করে ইয়াবা সংরক্ষিত ছিল, সব মিলিয়ে যার ওজন ৬০ গ্রাম। উদ্ধারকৃত এসব অবৈধ মাদকের বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক দুই লাখ চল্লিশ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় ইতোমধ্যেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ডিএনসি নেত্রকোনার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল হুদা বাদী হয়ে নেত্রকোনা সদর মডেল থানায় আসামির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে পুলিশ হেফাজতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন সহকারী পরিচালক নাজমুল হক। তিনি বলেন, “মাদক নির্মূলে আমাদের অভিযান নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমরা সর্বদা সোচ্চার এবং যেকোনো মূল্যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ। দেশের যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষায় এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।”
এলাকায় এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ কারবারি গ্রেপ্তারের ঘটনায় জনমনে স্বস্তি নেমে এসেছে। সচেতন মহল মনে করছেন, ধারাবাহিক এমন অভিযান মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।
পড়ুন:ইরানি হামলায় বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত
ইমি/


