বিজ্ঞাপন

গুলশানে আ.লীগের ঝটিকা মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণ: নেপথ্যের মাস্টারমাইন্ড জার্মান আ.লীগ নেতা শেখ বাদল!

বিজ্ঞাপন

আজ (শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের আকস্মিক ঝটিকা মিছিল এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গুলশান ৩ নম্বর সড়কে অনুষ্ঠিত এই মিছিল থেকে পুলিশের দিকে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে। চাঞ্চল্যকর এই নাশকতামূলক কর্মসূচির মূল পরিকল্পনাকারী এবং অর্থ যোগানদাতা হিসেবে ইউরোপ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং জার্মানি শাখা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক শেখ বাদল আহমেদের নাম উঠে এসেছে।

ক্ষমতাচ্যুত সরকারের পতনের পর থেকে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির নানামুখী ষড়যন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এই নেতা। জানা যায়, শুক্রবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলশান থানার ৩ নম্বর সড়কের একটি গলিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ১৫০-২০০ নেতা-কর্মী জড়ো হয়ে মিছিলের চেষ্টা করেন। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে মিছিলকারীদের পক্ষ থেকে পুলিশের দিকে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুটি রাবার বুলেট ছুড়ে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেন জানিয়েছেন, এ সময় ঘটনাস্থল থেকে আবদুর রহিম (৪৯) ও মো. আরাফাত (২০) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উত্তরা থেকেও মিছিলের প্রস্তুতিকালে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করেছিল উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ।

গুলশানে গোপন বৈঠক ও আজকের নাশকতার পরিকল্পনা

অনুসন্ধানে জানা যায়, আজকের এই ককটেল বিস্ফোরণ ও মিছিল কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি একটি সুপরিকল্পিত ছকের অংশ। গত ২৪শে আগস্ট গুলশান এভিনিউ রোডে একটি বিলাসবহুল রেস্টুরেন্ট উদ্বোধন করেন শেখ বাদল, যেখানে গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগের একাধিক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি প্রকাশ্যে উপস্থিত ছিলেন। পরদিন ২৫শে আগস্ট তিনি দেশত্যাগ করলেও, রহস্যজনক কারণে ৮ই সেপ্টেম্বরের পর থেকে তাকে পুনরায় গুলশান এভিনিউতে গোপালগঞ্জের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়মিত দেখা যায়।

তথ্যমতে, শেখ বাদল গত কয়েকদিন ধরে সেন্ট্রাল আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের পলাতক বা আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীদের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রাখছিলেন। এরই চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে গুলশানের আজকের এই ককটেল বিস্ফোরণ ও ঝটিকা মিছিল।


গাজীপুরে ধারাবাহিক ঝটিকা মিছিলের মদদদাতা

আজকের ঘটনার আগে গত দুই মাসে গাজীপুরে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ব্যানারে অন্তত ৫ থেকে ৬টি ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৬শে জুলাই গাজীপুর মহানগর এলাকার ন্যাশনাল পার্কসংলগ্ন স্থানে মিছিল করে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এসব মহড়া ও মিছিলেরও মূল সমন্বয়ক এবং অর্থ যোগানদাতা ছিলেন এই শেখ বাদল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা নজরদারি এড়িয়ে বারবার এসব ঝটিকা মিছিল আয়োজনের পেছনে তার বিপুল পরিমাণ অর্থের যোগান কাজ করেছে।

জয়ের ঘনিষ্ঠ সহচর ও হাজার কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্য

শেখ বাদল ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারভুক্ত সদস্যদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাথে তার সরাসরি যৌথ ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, জয়ের অর্থ পাচারের মূল সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। এছাড়া আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের অর্থসংক্রান্ত অনিয়ম এবং শেখ পরিবারের অবৈধ অর্থ জার্মানিতে পাচারের (মানি লন্ডারিং) সাথেও তার নাম জড়িয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নথিসূত্রে জানা গেছে, ২০২০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত শেখ বাদল কোনো প্রকার ব্যবসায়িক কর পরিশোধ করেননি। অথচ এই সময়ের মধ্যেই তিনি প্রায় ২ হাজার কোটি টাকারও বেশি সম্পদের মালিক হয়েছেন।

রাজধানীর হাতিরঝিলে একটি নির্মাণাধীন পাঁচ তারকা হোটেল। গুলশান এভিনিউতে ৯ হাজার স্কয়ার ফিটের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। উত্তরা, খুলনা ও গোপালগঞ্জে একাধিক বাড়ি, রিসোর্ট ও হোটেল। ব্যক্তিগত গ্যারেজে শত কোটি টাকা মূল্যের মার্সিডিজ, বিএমডব্লিউ (BMW), টয়োটা হ্যারিয়ার ও ভি-৮ (V8)-এর মতো বিলাসবহুল গাড়ি। ৭০টিরও বেশি বহুমূল্য ঘড়ি, যার একেকটির আনুমানিক মূল্য কোটি টাকার উপরে।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ

এক জার্মান নাগরিককে বিয়ের সূত্রে শেখ বাদল জার্মানির দ্বৈত নাগরিকত্ব পান। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে একাধিক হত্যা মামলার আসামি এবং কর ফাঁকির নোটিশ পাওয়ার পরও তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন। ৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর নিজের দ্বৈত নাগরিকত্ব ও বিদেশি স্ত্রীর সুযোগ নিয়ে তিনি প্রভাব খাটিয়ে যাচ্ছেন।

নিষিদ্ধ ঘোষিত ও ক্ষমতাচ্যুত সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্য প্রস্তুতি নিয়ে কীভাবে বারবার মিছিলের সুযোগ পাচ্ছে, তা নিয়ে সাধারণ জনগণের মনে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের নিয়ে গুলশানে রেস্টুরেন্ট খোলা এবং প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়িয়ে আজকের মতো ককটেল বিস্ফোরণের ইন্ধন যোগানো স্থানীয় গোয়েন্দা নজরদারির চরম ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়।

সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের দাবি—অনতিবিলম্বে শেখ বাদলসহ আজকের মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের নেপথ্য মদদদাতাদের গ্রেফতার করা হোক এবং প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

পড়ুন : নিজ আসনের ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন