ভারতের নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের যৌথ ঘোষণায় একতরফা যুদ্ধ এবং বিভিন্ন দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের নিন্দা জানানো হয়েছে। অপরদিকে সদস্য দেশগুলো মার্কিন ডলার বাদ দিয়ে নিজেদের মুদ্রায় আরও বেশি বাণিজ্য করতে সম্মতি জানিয়েছে।
এছাড়া এই যৌথ ঘোষণায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলসহ আন্তর্জাতিক সংস্থায় ব্যাপক সংস্কার আনার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজক হিসেবে আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) যৌথ ঘোষণাটি ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
এ ঘোষণায় বলা হয়েছে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলসহ বহুজাতিক সংস্থাগুলোতে সংস্কার আনা প্রয়োজন। যেন আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব নিরাপত্তা কাউন্সিলে বৃদ্ধি পায়।
এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক আগ্রাসনের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জোর আহ্বান জানানো হয়েছে এতে। অপরদিকে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নিজেদের স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী তার সমাপনী বক্তব্যে যৌথ ঘোষণা নিয়ে বলেন, “”আজকের আলোচনায় একটা কথা পরিষ্কার, পৃথিবী বদলে গেছে, তাই পুরোনো আমলের নিয়মনীতি বা প্রতিষ্ঠান দিয়ে আর কাজ চলবে না। কারা সিদ্ধান্ত নেবে, কীভাবে দ্রুত কাজ হবে আর কী নিয়ম তৈরি হবে—সব কিছুতেই বড় পরিবর্তন দরকার। আমরা এটাও স্পষ্ট করে বলেছি যে, সামনের দিনের নতুন প্রযুক্তি আর সেগুলোর নিয়মকানুন তৈরিতে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোরও সমান অধিকার থাকতে হবে।”
অপরদিকে শুল্ক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ে এ যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা লক্ষ্য করছি যে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই এক চরম সংকটকাল অতিক্রম করছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়ম লঙ্ঘন করে যথেচ্ছ শুল্ক আরোপ, অ-শুল্ক বাধা সৃষ্টি কিংবা পরিবেশ রক্ষার অজুহাতে সংরক্ষণবাদী নীতি গ্রহণের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এসব পদক্ষেপ বৈশ্বিক বাণিজ্য সংকুচিত করছে, বিশ্ব সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত করছে এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। ফলে ধনী ও দরিদ্র দেশের অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক উন্নতির সম্ভাবনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
যৌথ ঘোষণায় এ নিয়ে আরও বলা হয়েছে, “একতরফা শুল্ক আরোপ ও নানা বিধিনিষেধের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং এটি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়মেরও পরিপন্থী; এ বিষয়ে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। বাণিজ্য সংকট সামলানো এবং বিকাশমান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর চাহিদা ও অগ্রাধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে আমরা ডব্লিউটিও-কে আরও কার্যক্ষম করে তুলতে একসাথে কাজ করব। একইসাথে, ঝুলে থাকা সমস্যাগুলো সমাধান করে একটি সুষম ও সর্বজনীন ব্যবস্থার পক্ষে সমর্থন জানাব, যা বিশ্ব বাণিজ্যকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বর্তমান সময়ের নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা করবে।”
এছাড়া ২০২৫ সালে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মিরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার নিন্দাও জানানো হয়েছে এতে। ওই হামলায় ২৬ পর্যটক প্রাণ হারিয়েছিলেন।
সূত্র: এনডিটিভি
পড়ুন : ব্রিকস সম্মেলন: এবারের আলোচনায় যা থাকছে, কেন গুরুত্বপূর্ণ?


