ঢাকার দোহার উপজেলার মেঘুলা এলাকায় রেকর্ডভুক্ত সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল এবং ওই জমির গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সকালে উপজেলার মেঘুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত করে। ভুক্তভোগী জমির মালিক মো. রোকনুজ্জামান রোকন তার বৈধ ও রেকর্ডভুক্ত সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ভুক্তভোগীর মো. রোকনুজ্জামান রোকন বলেন, মেঘুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় আমার পিতা আমিন উদ্দিন নামে রেকর্ডভুক্ত জমি রয়েছে। তিনি ওই সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি একটি পক্ষ ওই জমিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা করছে এবং জমিতে থাকা বিভিন্ন গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী আরও জানান, উপজেলার মেঘুলা মৌজার, ১৫৩ নং খতিয়ানে ও ৭ নং খতিয়ানে ৩৬৮ নম্বর দাগের জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। ২০২৩ সালে তিনি সাগর নামে এক ব্যক্তির কাছে জমিটি ভাড়া দেন। পরবর্তীতে জমির দখল ও মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে, শনিবার সকালে আব্দুস সালাম শিকদার লোকজন নিয়ে গাছ কেটে জোড় করে ঐ সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছে। এমনকি জমির গাছপালা কেটে ক্ষতিসাধন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।
মো. রোকনুজ্জামান রোকন আরও বলেন,আমার মালিকানাধীন জমির একটি অংশে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত রয়েছে। জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়ে আমি আইনগতভাবে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হই এবং আমার পক্ষে রায় প্রদান করা হয় । তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের স্বার্থে যতটুকু জমি প্রয়োজন, তা দিতে আমি রাজি। কিন্তু আমার বৈধ ও রেকর্ডভুক্ত সম্পত্তি কোনোভাবেই জোরপূর্বক দখল করতে দেওয়া হবে না।
অভিযুক্ত আব্দুস সালাম শিকদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ৩৬৭ দাগের জমিটি তার ক্রয়কৃত সম্পত্তি। তিনি দাবি করেন, তিনি কারও জমির গাছ কাটেননি নিজের জমিতে থাকা আগাছা পরিষ্কার করেছেন। একই সঙ্গে কারও জমি দখলের অভিযোগও অস্বীকার করে তিনি বলেন, অভিযোগকারীর উল্লেখ করা দাগ নম্বর ভিন্ন এবং তিনি ৩৬৭ দাগের জমির বৈধ মালিক।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে মো. রোকনুজ্জামান রোকন ওই জমি দখলে রাখার চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে প্রকৃত মালিকানা ও দখলের পরিস্থিতি নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় তদন্ত এবং নিজের সম্পত্তি রক্ষায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান আব্দুস সালাম শিকদার।
দোহারের শাইনপুকুর তদন্ত কেন্দ্রে ইনচার্জ এসআই আব্দুস সালাম জানান, ৯৯৯ নম্বর থেকে কল পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বাদী মো. রোকনুজ্জামান রোকন আবেদনের প্রেক্ষিতে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে আইনি পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
পড়ুন : জমি বিরোধে সোনারগাঁয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ১০


