মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় নাম ও পরিচয় গোপন করে এক মুসলিম তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা, পরবর্তীতে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ধর্ম পরিবর্তনের পর বিয়ে করা এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় পুরো উপজেলা জুড়ে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
অভিযুক্ত যুবকের নাম সুপ্রজিত কুমার দাস। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজের আসল পরিচয় গোপন করে ‘শাহরিয়ার শুভ’ নাম ব্যবহার করে ওই তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং পরবর্তীতে তাঁকে বিয়ে করেন।
ঘটনার বিষয়ে সুপ্রজিত কুমার দাসের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত সুপ্রজিত কুমার দাস ২০১৯ সালে বড়লেখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি তিনি নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিটের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তবে চলতি বছরের আগস্ট মাসে যখন তিনি স্কুল থেকে পদত্যাগ করেন, তখন পদত্যাগপত্রে ধর্ম পরিবর্তনের সেই নতুন নামটি ব্যবহার করেননি বলে বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) হুমায়ুন রশিদ জানান, ওই যুবক মৌলভীবাজার নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের সময় কাবিননামায় অনেক স্থানীয় মুসলিম লোকজন উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁরা এই বিয়ের সাক্ষীও ছিলেন।
এদিকে পদত্যাগের বিষয়ে বড়লেখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ময়নুল ইসলাম বলেন, সুপ্রজিত কুমার দাস গত ৩০ আগস্ট পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে সেই পদত্যাগপত্রে তিনি ধর্ম পরিবর্তনের কোনো তথ্য বা নতুন নামের উল্লেখ করেননি।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের মতে, বিষয়টি নিয়ে কোনোপক্ষ যেন হয়রানির শিকার না হয় এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা জরুরি।
পড়ুন : ব্রিকস সম্মেলনে যুদ্ধ ও শুল্কের প্রতি নিন্দা প্রকাশ করে যৌথ ঘোষণা


