গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার পশ্চিম ঝাঝড় এলাকার ‘আল-মাদরাসাতু দারুত তাকওয়া গাজীপুর’ মাদ্রাসায় খেলাধুলার সময় অসাবধানতাবশত সহপাঠীর পরনের পোশাক খুলে যাওয়ার মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই শিশু শিক্ষার্থীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের দায়ের করা মামলায় মাদ্রাসার পরিচালকসহ তিন শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নির্যাতনের শিকার শিশুরা হলো কিশোরগঞ্জের নাজমুল মিয়ার ছেলে মো: বায়েজীদ (১৩) এবং শেরপুরের লাল মিয়ার ছেলে বোরহান আলী (১৩)। তারা উভয়েই ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং তাদের পরিবার গাছা থানা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে।
ভুক্তভোগীদের স্বজন ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর বিকেলে খেলার মাঠে ঘটে যাওয়া ঘটনার জেরে মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা শোয়াইব বায়েজীদকে উলঙ্গ করে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে বেদড়ক মারধর করেন এবং আগুনে উত্তপ্ত লোহার খুন্তি দিয়ে নিতম্বে ছ্যাঁকা দেন। একইভাবে অপর শিক্ষার্থী বোরহানকে একটি কক্ষে আটকে রেখে মুখে স্কচস্টেপ পেঁচিয়ে এবং হাত-পা দড়ি দিয়ে বেঁধে বাঁশের কঞ্চি ও লাল উত্তপ্ত লোহার খুন্তি দিয়ে তলপেট, উরু ও নিতম্বসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়।
পরবর্তীতে গুরুতর আহত বায়েজীদকে স্বজনদের না জানিয়ে কৌশলে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রাখে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। সেখানে গিয়ে ছেলেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দেখতে পান তার স্বজনরা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বায়েজীদ ও বোরহানের বাবা বাদী হয়ে গাছা থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাদ্রাসার পরিচালক ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া থানার চরমুহুরী গ্রামের মাওলানা শোয়াইব হোসেন (২৬), শিক্ষক ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল থানার বরমা গ্রামের মো: হাবিবুর রহমান (২৬) ও শেরপুর জেলার শ্রীবর্দী থানার ভাইডাঙ্গা গ্রামের মোঃ শাহিনকে (১৯) গ্রেপ্তার করে।
গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী জানান, বায়েজীদের বাবার মামলায় গ্রেপ্তার পরিচালক মাওলানা শোয়াইবকে শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর ভুক্তভোগী বোরহানের বাবার মামলায় গ্রেপ্তার হাবিবুর রহমান ও শাহিনকে রোববার আদালতে পাঠানো হবে।
এদিকে কোমলমতি দুই শিশুর ওপর এমন বর্বর নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পড়ুন : আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা নিয়ে রিট খারিজ
সা/


