চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় নবজাতকসহ ১০ জনকে উদ্ধার করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। পরে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে ফেরত দেয়া হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এক বৃদ্ধ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া ১০ জনের মধ্যে মায়ের কোলে থাকা ২০ দিনের শিশু তানিশাও রয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধারের ঘটনায় প্রশংসা পাচ্ছে বিএসএফ।
জানা যায়, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বাখেরআলী থেকে জোহরপুর-টেকের দিকে যাওয়ার পথে পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। নৌকাটিতে থাকা ১২ যাত্রীর মধ্যে সোহেল ও তানিয়া খাতুন দম্পতির মাত্র ২০ দিন বয়সী সন্তান তানিশাও ছিল।
নৌকাডুবির পর পদ্মার উত্তাল স্রোতে ভেসে তানিশাসহ ১০ বাংলাদেশি ভারতীয় জলসীমায় পৌঁছে যান। সেখানে তাদের দেখতে পেয়ে উদ্ধার করেন বিএসএফের সদস্যরা। পরে রাতে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের পর ১০ জনকে বাংলাদেশে ফেরত দেয় বিএসএফ। পরে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় ১০ জনকে বিএসএফের খানদোহা ক্যাম্পের সদস্যরা উদ্ধার করেছেন। আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। পরে রাতে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফ তাদের ফেরত দেয়। পরে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে শিশু তানিশাসহ ১০ জনকে উদ্ধারের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএসএফকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন অনেকে। স্পিডবোটে করে বিএসএফ সদস্যদের উদ্ধার অভিযান পরিচালনার কয়েকটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ভিডিওর মন্তব্যের ঘরে অনেকেই বিএসএফের মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।
বাবুল হোসেন নামের একজন মন্তব্য করেন, ‘অসংখ্য ধন্যবাদ ভারতীয় বিএসএফকে। আসলে সম্পর্ক তৈরি হয় আন্তরিকতা ও কাজের মাধ্যমে। আশা করি, প্রতিবেশী দুই দেশ মিলেমিশে থাকবে। প্রতিবেশী ভালো না থাকলে কেউ ভালো থাকবে না। পৃথিবীতে শান্তি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠিত হোক।’
নাজমুল হক নামের আরেকজন মন্তব্য করেন, ‘মানবতার জয় হোক। অনেক অনেক শুভকামনা রইল ভারতীয় বিএসএফের জন্য।’
নায়েম ইসলাম নামের একজন লিখেছেন, ‘নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ ছিল। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবার জন্য শুভকামনা রইল।’
২০ দিনের শিশু তানিশার বেঁচে ফেরার গল্পটি কেবল একটি মিরাকেল নয়, বরং মাতৃত্বের জয় এবং সীমানা পেরিয়ে মানবিকতার এক অনন্য নিদর্শন। মায়ের কোমল কোল ছেড়ে পদ্মার উত্তাল ও প্রমত্ত স্রোতে ভেসে গিয়ে যখন তার বেঁচে থাকার আশা প্রায় শেষ হয়ে এসেছিল, ঠিক তখনই জলসীমানার সব বাধা ভেঙে দিয়েছিল মানুষের সহানুভূতির হাত।
পড়ুন :
সা/


