বিজ্ঞাপন

​ডিবি ওসিকে প্রত্যাহারে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম পাবনায় রাজপথে সাংবাদিকরা

বিজ্ঞাপন

পাবনা প্রেসক্লাবের সম্পাদক জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের বানোয়াট অভিযোগ তুলে সাজানো ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে পাবনার গণমাধ্যম অঙ্গন। এ ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ওসি রাশেদুল ইসলামসহ জড়িতদের দ্রুত প্রত্যাহার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন মূলধারার সাংবাদিকরা।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে উপস্থিত সাংবাদিক নেতারা ডিবি কার্যালয়ের মতো জায়গায় এমন জিম্মি ও সাজানো ভিডিও ধারণের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

প্রেসক্লাবের সাহিত্য সম্পাদক পাভেল মৃধার সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, প্রেসক্লাব সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, সাবেক সম্পাদক আব্দুল মতীন খান, সাবেক সভাপতি ও এনটিভি-সমকালের স্টাফ রিপোর্টার এবিএম ফজলুর রহমান, সাবেক সম্পাদক ও মাছরাঙা টেলিভিশনের উত্তরাঞ্চলীয় ব্যুরো চীফ উৎপল মির্জা, সদস্য ও একুশে টিভি প্রতিনিধি রাজিউর রহমান রুমী, সদস্য ও আলোকিত বাংলাদেশের প্রতিনিধি কাজী বাবলা, সদস্য ও প্রথম আলো প্রতিনিধি সরোয়ার মোর্শেদ উল্লাস, সদস্য ও এটিএন নিউজ-আগামীর সময়ের প্রতিনিধি রিজভী জয়, সদস্য ও বাংলাদেশ টুডে প্রতিনিধি আব্দুল হামিদ খান, সদস্য জিকে সাদী, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ মান্নান মাস্টার, নাগরিক টেলিভিশন ও দৈনিক জনবাণীর পাবনা জেলা প্রতিনিধি আলাল উদ্দিন, বাংলা ভিশনের ক্যামেরা জার্নালিস্ট ও ক্যামেরা জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি জিয়াউল হক রিপন, বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রেতা সমিতি পাবনার সভাপতি আব্দুল মজিদ প্রমুখ। এসময় প্রায় শতাধিক সংবাদকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক নেতারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিক নামধারী একটি কুচক্রী মহল পাবনা প্রেসক্লাবের বিপরীতে প্রায় একই নামে সংগঠন খুলে মাদক ব্যবসা, জমি দখল, ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। মূলধারার সংবাদকর্মীরা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চক্রটি কতিপয় অসাধু রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশ কর্মকর্তার সহায়তায় এক তরুণীকে ব্যবহার করে এই সাজানো নাটকের আশ্রয় নেয়।

ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিক নেতারা বলেন, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার মতো একটি দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে তরুণীকে জিম্মি করে ভিডিও ধারণের ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি। এ কারণে ডিবি কার্যালয়ে ভিত্তিহীন অভিযোগ সাজানোর দায়ে ডিবি পুলিশের ওসি রাশেদুল ইসলামকে দ্রুত প্রত্যাহারে ২৪ ঘন্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত নামধারী সাংবাদিক ও এর পেছনে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান সাংবাদিকরা। তা নাহলে আরো কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারিও দেয়া হয় মানববন্ধনে।
এদিকে এর আগে রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী তরুণী নাফিসা তার নিজ বাড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বীকার করেন যে, সুবর্ণা হালিম নামের এক নারী নেত্রী তাকে জিম্মি করে জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা বক্তব্য দিতে বাধ্য করেন। পরবর্তীতে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে মা-বাবার উপস্থিতিতে সোহেল রানা বিপ্লব নামে এক সাংবাদিক এই সাজানো বক্তব্য ভিডিও ধারণ করেন। নাফিসা ইতোমধ্যেই লিখিতভাবে থানায় দেওয়া মিথ্যা অভিযোগটি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এব্যাপারে পাবনা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি রাশেদুল ইসলাম বলেন, ভিকটিম পরিবার আতঙ্কিত হয়ে আমাদের কাছে সহায়তা চেয়েছিল। তাদের উদ্ধার করে আমাদের হেফাজতে এনেছিলাম আইনগত সহায়তা দেওয়ার জন্য। সেখানে কথা বলার একপর্যায়ে কেউ হয়তো ভিডিও করেছে।

পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ বলেন, এ বিষয়ে আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবো। কমিটি তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পড়ুন:কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ২ দিনব্যাপী ফ্রি চক্ষু শিবির শুরু

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন