বিজ্ঞাপন

যমুনার পাড়ে বিশাল কেতলি, চায়ের স্বাদে মুগ্ধ দর্শনার্থী

বিজ্ঞাপন

সিরাজগঞ্জের চায়না বাঁধে যমুনার বিস্তীর্ণ জলরাশি আর মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে প্রতিদিনই ভিড় করেন দর্শনার্থীরা। নদীর পাড়ের এই নৈসর্গিক পরিবেশে ঘোরাঘুরির পাশাপাশি চায়ের আড্ডায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে কেতলির আদলে তৈরি ব্যতিক্রমী একটি চায়ের দোকান—‘এক কাপ’।

দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এখন ছুটে আসছেন এই ভিন্নধর্মী চায়ের দোকানে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও রিভিউ দেখে অনেকেই এখানে আসছেন। কেউ চায়ের স্বাদ নিতে, আবার কেউ কেতলির ভেতরে কীভাবে চা তৈরি হচ্ছে, তা দেখতে ভিড় করছেন।

ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের উদ্যোক্তা কলেজছাত্র এস. এম. বাহাদুর আলী। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের এবং আরও তিন সহপাঠীর পড়াশোনার খরচ চালাতে তিনি গড়ে তুলেছেন ‘এক কাপ’।

উদ্যোক্তা বাহাদুর আলী জানান, সিরাজগঞ্জের মানুষের জন্য ভিন্ন কিছু করার পরিকল্পনা থেকেই এ উদ্যোগের শুরু। প্রায় এক মাস চায়না বাঁধে এসে বসে তিনি চিন্তা করেছেন, এমন একটি কী করা যায়, যা দর্শনার্থীদের নতুন অভিজ্ঞতা দেবে।

তিনি বলেন, চায়না বাঁধে প্রতিদিন শত শত গাড়িতে দর্শনার্থীরা আসেন। অনেকে বিভিন্ন ফুডকোর্টে খাওয়া-দাওয়া করে চলে যান। সেখান থেকেই ভিন্ন কিছু করার চিন্তা আসে। পরে দুই লাখ টাকার বেশি খরচ করে কেতলির আদলে তৈরি করেন ‘এক কাপ’।

এই চায়ের দোকানের বিশেষত্ব শুধু এর আকৃতিতে নয়, চা তৈরির পদ্ধতিতেও। বিশাল কেতলির ভেতরেই পানি ও দুধ গরম করে তৈরি করা হয় চা। এরপর সেখান থেকেই তা পরিবেশন করা হয়। শুরুতে এখানে পাওয়া যাচ্ছে মালাই চা, কীম চা ও পোড়া রুটি।

উদ্যোক্তারা জানান, চায়ের জন্য তারা গ্রাম থেকে দুধ সংগ্রহ করেন। তাদের দাবি, দুধে কোনো কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না। সংগ্রহ করা দুধ দীর্ঘ সময় জ্বাল দিয়ে ঘন করা হয়। সেই ঘন দুধ দিয়ে তৈরি করা হয় মালাই চা ও কীম চা।

শুরুতেই ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগে দর্শনার্থীদের ব্যাপক সাড়া মিলেছে বলে জানান উদ্যোক্তারা। অনেক সময় চাহিদা অনুযায়ী চা সরবরাহ করাও সম্ভব হচ্ছে না। ভবিষ্যতে ‘এক কাপ’-এর মেনুতে আরও নতুন নতুন খাবার ও চায়ের আইটেম যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

দর্শনার্থীরা বলছেন, চায়না বাঁধে ঘুরতে এসে যমুনার সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি কেতলির আদলে তৈরি এই দোকানে বসে চা খাওয়ার অভিজ্ঞতাও বেশ উপভোগ্য। ফলে জায়গাটি ধীরে ধীরে দর্শনার্থীদের কাছে নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠছে।

পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যতিক্রমী চিন্তা ও উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বাহাদুর আলীর এই উদ্যোগ যেমন তার নিজের ও সহপাঠীদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে সহায়তা করছে, তেমনি চায়না বাঁধের পর্যটন আকর্ষণেও যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা। যমুনার পাড়ে এক কাপ চায়ের সঙ্গে আড্ডা আর মনোরম প্রকৃতি—সব মিলিয়ে ‘এক কাপ’ হয়ে উঠছে চায়না বাঁধের নতুন এক চায়ের গল্প।

পড়ুন : সৌদি পাইপলাইন বন্ধে বিশ্ববাজারে ৪% তেল সরবরাহ কমার শঙ্কা

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন