বিজ্ঞাপন

রাশিয়ার এক পরমাণু অস্ত্রে মহাকাশে ঘটতে পারে ভয়ংকর প্রলয়

বিজ্ঞাপন

মহাকাশের সুনসান নীরবতা ফুঁড়ে যেকোনো মুহূর্তে ঘনিয়ে আসতে পারে শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়। ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের সেই দুঃস্বপ্ন, যা এতদিন শুধুই কল্পকাহিনির পাতায় কিংবা রূপালি পর্দায় সীমাবদ্ধ ছিল, আজ তা এক নির্মম ও বাস্তব রূপ ধারণ করেছে। রাশিয়ার হাতে তৈরি এক পরমাণু অস্ত্র এখন পৃথিবীর অরবিটে চোখ রাঙাচ্ছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়ে স্পষ্ট বলছেন, এমনটা সত্যি ঘটে গেলে মুহূর্তে বদলে যাবে চেনা পৃথিবীর সব হিসাব-নিকাশ। যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান ফরেন পলিসি কাউন্সিল সম্প্রতি এক শিউরে ওঠার মতো প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে, রাশিয়ার এই গোপন পারমাণবিক অস্ত্র মহাশূন্যে বিস্ফোরিত হলে কতটা ভয়াবহ তান্ডব সৃষ্টি হতে পারে।

ধারণা করা হচ্ছে, রাশিয়ার একটি নির্দিষ্ট স্যাটেলাইট থেকে যদি চারশো কিলোমিটার উঁচুতে নিম্ন-পৃথিবী কক্ষপথে (লো আর্থ অরবিট) পাঁচশো কিলোটন থেকে দুই মেগাটন শক্তিসম্পন্ন কোনো পরমাণু বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, তবে তা মুহূর্তেই ধ্বংস করে দেবে হাজার হাজার উপগ্রহ। বর্তমানে আমাদের দৈনন্দিন জীবন যে যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তা পুরোপুরি গুঁড়িয়ে যাবে স্রেফ এক সপ্তাহের মধ্যে। 

বিশ্বখ্যাত স্টারলিংক থেকে শুরু করে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সার্ভিসগুলো চিরতরে অকেজো হয়ে পড়বে। হারিয়ে যাবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া শত শত স্যাটেলাইট। বিমান চালক, সমুদ্রের জাহাজ, এমনকি শহরের ডেলিভারি ভ্যান থেকে শুরু করে আপনার-আমার হাতের স্মার্টফোনের জিপিএস নেভিগেশন এক পলকে অন্ধ হয়ে যাবে। এমনকি মহাকাশে অবস্থানরত মহাকাশ স্টেশনের নভোচারীদের জীবনও মারাত্মক রেডিয়েশনের তীব্র ঝুঁকিতে পড়ে যাবে।

আরও আতঙ্কের বিষয় হলো, এই বিস্ফোরণের পর যে ভয়াবহ বিকিরণ এবং হাজার হাজার টুকরো মহাকাশ-বর্জ্য তৈরি হবে, তা বছরের পর বছর পৃথিবীর চারপাশকে এক বিষাক্ত বলয়ে পরিণত করে রাখবে। এর ফলে তথাকথিত ‘কেসলার সিন্ড্রোম’ শুরু হতে পারে; যেখানে একের পর এক স্যাটেলাইটের সংঘর্ষে আরও বর্জ্য তৈরি হবে এবং পুরো মহাকাশ মানবজাতির ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়বে। অথচ সবচেয়ে উদ্বেগজনক বাস্তবতা হলো, মহাশূন্যের এই পারমাণবিক তাণ্ডব ঠেকানো বা এর প্রভাব কাটিয়ে ওঠার মতো কোনো কার্যকর প্রযুক্তি বা সক্ষমতা বর্তমানে পেন্টাগন বা আমেরিকার কাছেও নেই।

বাস্তবে মহাকাশে এই পরমাণু বোমার খেলা একদম নতুন নয়। আজ থেকে ষাট বছর আগে, সাটের দশকে ‘স্টারফিশ প্রাইম’-এর মতো পরীক্ষার মাধ্যমে আমেরিকা নিজেই দেখেছে মহাশূন্যে আণবিক বিস্ফোরণের কী মারাত্মক পরিণতি হতে পারে। সেসময় হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের ওপরের আকাশে হওয়া বিস্ফোরণে শয়ে শয়ে রাস্তার আলো নিভে গিয়েছিল, ঝলসে উঠেছিল রঙিন অরোরার আলো। এরপর ১৯৬৭ সালের ঐতিহাসিক চুক্তি অনুযায়ী মহাকাশে যেকোনো ধ্বংসাত্মক পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ করা হলেও ইতিহাস যেন আজ আবার নতুন করে পুরোনো পাপের পুনরাবৃত্তি করছে। আজকের এই আধুনিক যুগে যেখানে আমাদের জীবন মহাকাশের এক একটি কৃত্রিম উপগ্রহের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল, সেখানে রাশিয়ার এই সম্ভাব্য পারমাণবিক হুমকি পুরো পৃথিবীকে এক নতুন মহাশূন্য-যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে এনে দাঁড় করিয়েছে।

পড়ুন:শিক্ষার্থীদের তথ্য সুরক্ষায় মাইক্রোসফটের সঙ্গে বড় চুক্তি এএফটির

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন