বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থীদের তথ্য সুরক্ষায় মাইক্রোসফটের সঙ্গে বড় চুক্তি এএফটির

বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের তথ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল প্রশিক্ষণ বা উন্নয়নে ব্যবহার না করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শিক্ষক সংগঠন আমেরিকান ফেডারেশন অব টিচার্স (এএফটি)-এর সঙ্গে চুক্তি করেছে মাইক্রোসফট। গত ৯ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এফটি ও মাইক্রোসফটের অংশীদারিত্বে গঠিত ন্যাশনাল একাডেমি ফর এআই ইনস্ট্রাকশনকে কেন্দ্র করে ৩০ পৃষ্ঠার একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রায় ১৯ লাখ সদস্যের সংগঠনটির সঙ্গে এ চুক্তিকে স্কুলে এআই ব্যবহারে শিক্ষার্থীদের তথ্য সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য ব্যতীত শিক্ষার্থী, শিক্ষক বা স্কুলের গ্রাহক-তথ্য কোনও এআই মডেল প্রশিক্ষণ বা উন্নয়নের ব্যবহার করা যাবে না। ‘শিক্ষার্থী তথ্য’-এর আওতায় শুধু নাম, ফলাফল বা আচরণগত রেকর্ড নয়; এআই টুলে দেওয়া লেখার নির্দেশনা, মেমোরি ফাইল, কাজের ফলাফল, কিবোর্ডে চাপা অক্ষর এবং আই-ট্র্যাকিংয়ের মতো তথ্যও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি পরিচয় শনাক্ত করা না গেলেও ব্যবহারের ধরন-সংক্রান্ত টেলিমেট্রি ডেটা এআই প্রশিক্ষণ, বিজ্ঞাপন, শিক্ষার্থী প্রোফাইল তৈরি বা আচরণ অনুমানের কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, মাইক্রোসফট ও তৃতীয় পক্ষের সেবাদাতাদের কাছে থাকা তথ্য এনক্রিপ্ট করতে হবে এবং স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিরাপত্তা পরীক্ষা চালাতে হবে। তথ্য ফাঁস হলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তা জানানো, ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া এবং চুক্তি শেষ হওয়ার পরও তথ্য ফাঁসের বিষয়ে গ্রাহককে অবহিত করার দায় মাইক্রোসফটের থাকবে। শিক্ষার্থী ও ব্যবহারকারীরা নিজেদের তথ্য সংরক্ষণ, মুছে ফেলা ও অন্য সেবায় স্থানান্তরের ওপর নিয়ন্ত্রণও পাবেন। শিক্ষার্থীদের জন্য মানবিক সম্পর্কের অনুকরণে তৈরি ধারাবাহিক এআই ‘কম্প্যানিয়ন’ ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়েছে।

তবে চুক্তিটি মাইক্রোসফটের সব শিক্ষা পণ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে না। আগামী ১ নভেম্বর থেকে স্কুল ডিস্ট্রিক্টগুলো নতুন বা বিদ্যমান মাইক্রোসফট পণ্য ব্যবহারের চুক্তিতে এসব শর্ত যুক্ত করার অনুরোধ করতে পারবে। মাইক্রোসফটের ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড স্মিথ বলেন, শিক্ষার্থীদের তথ্য সুরক্ষায় চুক্তিতে স্পষ্ট জবাবদিহি ও প্রয়োগযোগ্য ব্যবস্থা থাকা জরুরি। তার মতে, অডিট ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকলে স্কুলগুলো এআই প্রযুক্তি ব্যবহারে আরও আস্থা পাবে। এবিষয়ে এএফটি প্রেসিডেন্ট র‌্যান্ডি ওয়েইনগার্টেন বলেন, “আইনগতভাবে প্রয়োগযোগ্য বিধান ছাড়া এ ধরনের প্রতিশ্রুতি কেবল ইচ্ছার তালিকায় পরিণত হয়।” তিনি জানান, একই ধরনের সুরক্ষা নীতি অ্যান্থ্রপিক ও ওপেনএআই-এর শিক্ষা পণ্যেও যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।লক্ষ্য হলো এসব সুরক্ষাকে শেষ পর্যন্ত পুরো এআই শিল্পের “শিল্পখাতের মানদণ্ড” হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

পড়ুন:সীতাকুণ্ডে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন