গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে বিএনপি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম।
জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় জোট। এ কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে ন্যাশনাল ফুড ভিলেজ হোটেলের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, বিএনপি জনগণের রায়কে অস্বীকার করছে। তারা গণভোটের শপথ না নিয়ে জনগণের রায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়নের জন্য আমরা বারবার দাবি জানিয়েছি। কিন্তু নানা অজুহাতে তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সংসদ থেকে
ওয়াকআউটসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এরপরও বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টরা কোনো কর্ণপাত করছেন না।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবিতেই আমরা রাজপথে নেমেছি। এ দাবিতে ঢাকা-রংপুর লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা আশা করি, সরকার জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানসহ সিরাজগঞ্জ, নাটোর ও বগুড়ার বিভিন্ন পর্যায়ের জামায়াত নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, তাদের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে। ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু হওয়ার আগে উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের লংমার্চ ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে। আমাদের দাবি স্পষ্ট। জনগণ গ্যাস সংকট, বিদ্যুৎ সংকট, পানি সংকটে ভুগছে, কিন্তু তারপরও জনগণকে বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে।’ ‘এ দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে,’ বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নেমেছি। আমরা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেই ঘরে ফিরব।’
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।
ঐ দিন সকাল ৭টায় শাপলা চত্বরে সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া সমাবেশে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
সমাবেশে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এ লংমার্চ আপামর জনতার। সরকার যদি লংমার্চে বাধা দেয়, তাহলে সব বাধা উপেক্ষা করে চট্টগ্রামে পৌঁছাবে এবং ১১ দলের ছয় দফা দাবি এক দফা রূপ নেবে।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ক্ষমতার মসনদে বসে যদি জাতিকে ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করে, তাহলে টেনে নামাতে আমাদের হাত এক চুলও কাঁপবে না।’
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে ব্যর্থ হয়েছে। দিনে দিনে দুর্ভোগ বাড়ছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং তাদের দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।
‘সরকারকে সংসদে ভুল স্বীকার করে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে,’ বলেন তিনি।
এলডিপির প্রেসিডেন্ট সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা সমাবেশে বক্তব্য দেন।
জোটের আগের ঘোষণা অনুযায়ী, শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দান পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে। পথে নারায়ণগঞ্জের কাচপুর ব্রিজের কাছে ট্রাকস্ট্যান্ড, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল ও চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে পথসভা হওয়ার কথা রয়েছে। লালদীঘি ময়দানে সমাপনী জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।
লংমার্চের বহরে কতটি গাড়ি থাকবে, তা নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে আলোচনা চলছে। গত বৃহস্পতিবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানিয়েছিলেন, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে গাড়ির সংখ্যা পাঁচ-ছয় হাজার থেকে কমিয়ে প্রায় এক হাজার করা হয়েছে।
জোটের নেতারা এর আগে জানিয়েছিলেন, মহাসড়কের এক পাশ দিয়ে বহর চলবে, যাতে অন্য পাশ দিয়ে সাধারণ যানবাহন চলাচল করতে পারে। লংমার্চ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রাখতে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে তারা বৈঠকও করেছেন।
এ কর্মসূচির পর ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেট অভিমুখে লংমার্চ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে ধারাবাহিক কর্মসূচি শেষ করার কথা রয়েছে।
পড়ুন : সঞ্চয়পত্রে গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে নতুন ব্যবস্থা
সা/


