বিজ্ঞাপন

কেন্দুয়ায় বিরোধপূর্ণ জমিতে তর্ক-বিতর্ক, বৃদ্ধের রহস্যজনক মৃত্যু

বিজ্ঞাপন

এক টুকরো জমির অধিকার নিয়ে বিরোধ। আর সেই বিরোধের জেরেই নিভে গেল ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধের জীবনপ্রদীপ। নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার দনচাপুর গ্রামে বিবাদমান জমিতে মাটি কাটা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক ও ঠেলাঠেলির একপর্যায়ে আকস্মিকভাবে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন ইসলাম উদ্দিন (৬০) নামের ব্যক্তি।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরের এ ঘটনায় নিহতের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া, পাশাপাশি পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। তবে এটি আঘাতজনিত মৃত্যু নাকি উত্তেজনার বশে শারীরিক কোনো জটিলতা- তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল থেকেই নওপাড়া ইউনিয়নের দনচাপুর গ্রামের বিবাদমান জমিতে মাটি কাটার কাজ চলছিল। বেলা পৌনে ১২টার দিকে ওই মাটি কাটাকে কেন্দ্র করেই একই এলাকার বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম ও জহিরুল ইসলামের সঙ্গে ইসলাম উদ্দিনের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় রূপ নেয় ঠেলাঠেলিতে। বয়সের ভারে ক্লান্ত ইসলাম উদ্দিন উত্তেজনার মাঝেই হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

চোখের সামনে বাবাকে মাটিতে পড়ে যেতে দেখে দ্রুত ছুটে আসেন ছেলে হোসেন মিয়া (২২)। বাবাকে কোনোমতে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান তিনি। সেখানে মাথায় পানি ঢালাসহ দেশীয় পদ্ধতিতে প্রাথমিক পরিচর্যা করে তাকে সুস্থ করে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করেন স্বজনেরা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইসলাম উদ্দিনের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হতে থাকে।

অবস্থা বেগতিক দেখে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে স্বজনেরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। ততক্ষণে বড্ড দেরি হয়ে গেছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নিশাদ ফারহানা বলেন, “রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, সেটি এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।”

খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ও ঘটনাস্থলে ছুটে যায় কেন্দুয়া থানা পুলিশ। কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, নিহতের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন ইতিমধ্যে তৈরি করা হয়েছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

এলাকাবাসী ও পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, চরম উত্তেজনা, তর্ক-বিতর্ক ও ঠেলাঠেলির কারণে বয়স্ক ব্যক্তি হয়তো হার্ট অ্যাটাক বা অন্য কোনো কারণে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তবে এই বিরোধের সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি কোনো যোগসূত্র আছে কি না, নাকি এটি নিছকই শারীরিক অসুস্থতাজনিত মৃত্যু- তা ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই পরিষ্কার হবে। সাধারণ জমির বিরোধ কীভাবে একটি পরিবারের জন্য চিরস্থায়ী কান্নার কারণ হয়ে দাঁড়াল, তা নিয়ে আক্ষেপ করছেন স্থানীয়রা।

পড়ুন : নবনির্মিত কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজ ভবনের উদ্বোধন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন