বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ প্রবেশ করছে বৈদ্যুতিক ট্রেনের যুগে, চলবে যেসব রুটে

বিজ্ঞাপন

ডিজেলের পরিবর্তে এবার বিদ্যুতে চলবে ট্রেন। এতে গতি বাড়বে ২০ শতাংশ। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুর রুটে আসছে এই ইলেকট্রিক ট্রেন। ৩ হাজার ৮২২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ইলেকট্রিক ট্রেন ২০৩১ সালে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

এ প্রকল্পসহ আরও ১২টি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন হয়েছে। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় হবে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রকল্প ঋণ থেকে আসবে ৪০ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা।

এই তালিকায় রয়েছে মেট্রোরেল-৫-এর দক্ষিণ রুটও। এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা।

বৈদ্যুতিক ট্রেন কীভাবে কাজ করে?

বিদ্যুৎ সরবরাহ: এই ট্রেন সাধারণত ওপরের তার (ওভারহেড লাইন) বা নিচের বিশেষ লাইন (থার্ড রেইল) থেকে বিদ্যুৎ সংগ্রহ করে।
ইঞ্জিন বা মোটর: সংগৃহীত বিদ্যুৎ ট্রেনের বৈদ্যুতিক মোটর চালিত চাকায় শক্তি জোগায়।
অন্যান্য উৎস: কিছু ট্রেন ব্যাটারি বা নিজস্ব শক্তির উৎস থেকেও বিদ্যুৎ ব্যবহার করে।

প্রধান সুবিধা

কম খরচ: প্রচলিত ডিজেল ট্রেনের তুলনায় বৈদ্যুতিক ট্রেনের জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ প্রায় ৪০ শতাংশ কম।
পরিবেশবান্ধব: এটি চলার সময় কোনো ধোঁয়া বা ক্ষতিকর গ্যাস ছড়ায় না, যা বায়ু দূষণ কমায়।
অধিক গতি: এই ট্রেনের গতি ও ত্বরণ (অ্যাকসেলারেশন) ডিজেল ট্রেনের চেয়ে বেশি হয়, ফলে যাতায়াতের সময় কমে।
নীরব চলাচল: এগুলো ডিজেল ইঞ্জিনের তুলনায় অনেক কম শব্দ করে।

বাংলাদেশে প্রস্তাবিত প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রেনের রুট হলো নারায়ণগঞ্জ–ঢাকা–জয়দেবপুর

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রায় ৩,৮২২ কোটি টাকা ব্যয়ের এই মেগা প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২০৩১ সালের মধ্যে এই রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর মাস্টারপ্ল্যান রয়েছে সরকারের।

১. প্রাথমিক ও প্রধান রুট (নারায়ণগঞ্জ–ঢাকা–জয়দেবপুর)

রুট বিন্যাস: ট্রেনটি নারায়ণগঞ্জ থেকে যাত্রা শুরু করে ঢাকা হয়ে গাজীপুরের জয়দেবপুর পর্যন্ত চলাচল করবে।
দৈর্ঘ্য: এই সম্পূর্ণ রেল করিডোরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫২.৩২ কিলোমিটার।
ট্রেনের সংখ্যা: প্রাথমিকভাবে এই রুটে ৫টি করে কোচ বা বগি বিশিষ্ট মোট ১৬ সেট ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (EMU) ট্রেন নামানো হবে।
প্রভাব: শিল্পাঞ্চল গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের সাথে ঢাকার সংযোগকারী এই ব্যস্ততম রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু হলে যাতায়াতের সময় অর্ধেকেরও বেশি কমে আসবে এবং তীব্র সড়ক যানজট থেকে মুক্তি মিলবে।

২. দ্বিতীয় বা ভবিষ্যতের রুট (ঢাকা–চট্টগ্রাম)

পরিকল্পনা: নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুর রুটের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর পরবর্তী ধাপে ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমান অবস্থা: চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন (Electric Traction) চালুর সম্ভাব্যতা যাচাই এবং বিস্তারিত নকশার কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। তহবিল বা অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর এই দীর্ঘ রুটের মূল কাজ শুরু হবে।

বাংলাদেশের প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রেন প্রকল্পের (নারায়ণগঞ্জ–ঢাকা–জয়দেবপুর করিডোর) অর্থায়ন মূলত বিদেশী ঋণ সহায়তা এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ তহবিলের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে।

১. প্রধান বিদেশী সহযোগী সংস্থা (উন্নয়ন সহযোগী)এই মেগা প্রকল্পে প্রধান সহযোগী হিসেবে দুটি আন্তর্জাতিক সংস্থা ঋণ সহায়তা প্রদান করছে:

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB): প্রকল্পটিতে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে Asian Development Bank (ADB) প্রধান অর্থায়নকারী হিসেবে শুরু থেকেই যুক্ত রয়েছে।

ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক (EIB): এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের পাশাপাশি European Investment Bank (EIB) এই প্রকল্পে অন্যতম ঋণদাতা সহযোগী সংস্থা হিসেবে অর্থায়ন করছে।

২. অর্থায়নের বিভাজন ও বাজেট

একনেক (ECNEC) কর্তৃক অনুমোদিত মোট ৩,৮২২.৫১ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটিতে তহবিলের বণ্টন নিচের নিয়মে করা হয়েছে:

বৈদেশিক ঋণ (ADB ও EIB): মোট ব্যয়ের সিংহভাগ অর্থাৎ ২,৮৮০.৪২ কোটি টাকা আসবে এই দুই আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার উন্নয়ন সহায়তা বা ঋণ থেকে।সরকারি তহবিল (GoB): বাকি ৯৪২.০৯ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকার তার নিজস্ব তহবিল থেকে সরবরাহ করবে।

৩. এই বিদেশী তহবিলের ব্যবহারবিদেশী সহযোগীদের এই অর্থ প্রধানত যে খাতগুলোতে ব্যয় হবে:

ওভারহেড ক্যাটেনারি সিস্টেম: রেললাইনের ওপর বৈদ্যুতিক তার বা ক্যাবল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের অবকাঠামো তৈরি।

ট্রেন কোচ সংগ্রহ: পরিবেশবান্ধব ১৬ সেট ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (EMU) ট্রেন কেনা।রক্ষণাবেক্ষণ কর্মশালা: বৈদ্যুতিক ট্রেনগুলোর দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষায় একটি ডেডিকেটেড EMU মেইনটেইন্যান্স ওয়ার্কশপ নির্মাণ।

নারায়ণগঞ্জ–ঢাকা–জয়দেবপুর করিডোরে প্রস্তাবিত বৈদ্যুতিক ট্রেন প্রকল্প চালুর মাধ্যমে ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারে পৌঁছাবে এবং দৈনিক যাত্রী ধারণক্ষমতা তিন গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ৮,৪৫,০০০-এর বেশি যাত্রায় উন্নীত হবে।

১. ট্রেনের গতি ও সময় সাশ্রয়

সর্বোচ্চ গতি: এই রুটে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (EMU) ট্রেনগুলো ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে ছুটে চলবে।

দ্রুত ত্বরণ (Acceleration): ডিজেল ট্রেনের তুলনায় বৈদ্যুতিক ট্রেন খুব দ্রুত গতি বাড়াতে এবং স্টেশনে এসে দ্রুত থামতে পারে. এর ফলে স্টেশনে থামার পরও ট্রেনটি চটজলদি তার সর্বোচ্চ গতিতে পৌঁছাতে পারবে।

যাতায়াতের সময়: গতি ও কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে এই ব্যস্ততম রুটে যাতায়াতের সময় অর্ধেকেরও বেশি কমে আসবে।

২. যাত্রী ধারণক্ষমতা ও ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি

দৈনিক ট্রিপ সংখ্যা: বর্তমানে এই করিডোরে প্রতিদিন মাত্র ৬৫টি ট্রেন ট্রিপ চলাচল করে. বিদ্যুতায়নের পর ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দৈনিক ২৩৫টি ট্রিপে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

যাত্রী ধারণক্ষমতার ব্যাপক বৃদ্ধি: বর্তমানে এই রুটে দৈনিক প্রায় ২.৩২ লাখ যাত্রী যাতায়াত করতে পারেন। নতুন প্রকল্পে দৈনিক যাত্রী ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে ৮ লাখ ৪৫ হাজারেরও বেশি হবে।

প্রতি ট্রেনের ধারণক্ষমতা: ৫টি কোচ বা বগি বিশিষ্ট প্রতিটি আধুনিক বৈদ্যুতিক ইএমইউ (EMU) সেট একবারে সর্বোচ্চ ৩,৬০০ জন পর্যন্ত যাত্রী বহন করতে পারবে।

অপেক্ষা করার সময় হ্রাস: অফিস বা ব্যস্ত সময়ে (Peak hours) প্রতি ১৫ মিনিট পরপর এবং সাধারণ সময়ে প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর অন্তর স্টেশন থেকে ট্রেন ছেড়ে যাবে, যা যাত্রীদের স্টেশনে অপেক্ষার ভোগান্তি দূর করবে।

পড়ুন : অনুমোদন পেল ৩ মেট্রোরেল প্রকল্প

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন