দীর্ঘদিনের একটি দাবি এবার বাস্তবতার দ্বারপ্রান্তে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডকে ভৌগোলিক ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে পুনর্গঠন করে দুটি স্বতন্ত্র ওয়ার্ড গঠনের বিষয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিষয়টি দ্রুত কার্যকর করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতের এ আদেশের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহত্তর খিলক্ষেত এলাকায় স্বস্তি ও আশার আবহ তৈরি হয়েছে। বহুদিনের দাবি এবার বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে—এমন প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
খিলক্ষেত, নিকুঞ্জ, টানপাড়া, জামতলা, কুড়াতলী, বেপারিবাড়ি পাড়া, উত্তরপাড়া, খাপাড়া, তালেরটেক, লেকসিটি কনকর্ড ও মধ্যপাড়ার মানুষের কাছে পৃথক একটি ওয়ার্ড শুধু প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের বিষয় নয়; এটি দীর্ঘদিনের নাগরিক প্রত্যাশার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি দাবি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ এলাকা ও বিপুল জনসংখ্যার কারণে নাগরিক সেবা যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুটি থানা এলাকার বিস্তৃত অংশের প্রশাসনিক সমন্বয়ের বিষয়টি। ফলে রাস্তা, পানি, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কবাতি, পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা নিয়ে এলাকাবাসীকে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। একটি ওয়ার্ডের সীমানা পেরিয়ে যখন নাগরিকের প্রয়োজন ছড়িয়ে পড়ে, তখন সেবার প্রত্যাশা আর বাস্তবতার মধ্যে তৈরি হয় দূরত্ব। বৃহত্তর খিলক্ষেতের মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় সেই দূরত্বই যেন ক্রমে বড় হয়েছে। পৃথক ওয়ার্ড গঠনের দাবি তাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও জোরালো হয়েছে।
এই দাবির পেছনের ইতিহাসও দীর্ঘ। ২০১০ সালে খিলক্ষেত থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহিনুর আলম তৎকালীন সিটি করপোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড পুনর্গঠনের দাবিতে একটি রিট পিটিশন মামলা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তর ও দক্ষিণ—দুই সিটি করপোরেশনে বিভক্ত হওয়ায় সেই উদ্যোগ থেকে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘ সময় পর আবারও একই দাবিতে আইনি উদ্যোগ নেওয়া হয়। শাহিনুর আলমের দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণায় মো. শওকত উল ইসলাম সৈকত বাদী হয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড পুনর্গঠনের দাবিতে রিট পিটিশনটি করেন। মামলাটি পরিচালনা করেন ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী, ব্যারিস্টার হোসনে মোবারক সুমন ও ব্যারিস্টার সৈয়দ রাজি নাসিফ।
হাইকোর্টের আদেশে দীর্ঘদিনের অপেক্ষায় থাকা মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। খিলক্ষেতের অলিগলি, নিকুঞ্জের আবাসিক এলাকা, টানপাড়া ও জামতলার ব্যস্ত জনপদ, কুড়াতলীসহ আশপাশের এলাকার মানুষ এখন তাকিয়ে আছেন পরবর্তী সরকারি পদক্ষেপের দিকে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। খিলক্ষেত থানাধীন এলাকাগুলোকে নিয়ে একটি স্বতন্ত্র ওয়ার্ড গঠিত হলে নাগরিক সেবা আরও সহজ, কার্যকর ও মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে—এমনটাই আশা তাঁদের।
বহু বছরের দাবি, বহু মানুষের অপেক্ষা। সেই অপেক্ষার হাইকোর্টের এই আদেশ যেন একটি নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। এখন সেই দরজা দিয়ে বাস্তবতার আলো কত দ্রুত পৌঁছে যায় বৃহত্তর খিলক্ষেতের মানুষের ঘরে ঘরে—সেদিকেই তাকিয়ে এলাকাবাসী।
পড়ুন : অনুমোদন পেল ৩ মেট্রোরেল প্রকল্প


