স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সাত ধাপে করার পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথম ধাপের সম্ভাব্য ভোটগ্রহণের তারিখ ১২ নভেম্বর।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর (সোমবার) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
তবে এই স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই মানিকগঞ্জে মাঠে নেমে পড়েছে ইউপি প্রার্থীরা। শুধুমাত্র হরিরামপুরের বিভিন্ন ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রচারণার ক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে বিএনপিপন্থীরা। প্রার্থীদের মধ্যে অনেকেই আবার শুভেচ্ছা পোস্টার ও লিফলেট টাঙ্গিয়েও জানান দিয়েছেন বিভিন্ন ইউনিয়নে।
এ উপজেলায় ১৩টি ইউনিয়নে বিএনপি, জামাত, স্বতন্ত্র,আওয়ামীলীগসহ সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ জন প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে।
১. এরমধ্যে বাল্লা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নাম শোনা যাচ্ছে ১০ জনের। এরা হলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান মো. বাচ্চু মিয়া, সাবেক চেয়ারম্যান কাজী রেজা, আব্দুর রউফ মোল্লা, মো. ফারুক হোসেন, সাব্বির আহমেদ লিটন, ফজলুর রহমান, মোল্লা আব্দুর রহিম, জসিম উদ্দিন, মোহাম্মদ মাহবুবুল ইসলাম (বাচ্চু), ও প্রাক্তন চেয়ারম্যান ইছাক আলী মাস্টারের ছেলে কামরুল ইসলামের শোনা যাচ্ছে।
২. গালা ইউনিয়নে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, টানা তিনবারের নির্বাচিত বর্তমান চেয়ারম্যান শফিক বিশ্বাস, মহিউদ্দিন মঞ্জু, মেহেদী হাসান চৌধুরী হিপু, ইরফান আল মাহবুব, আখেজদ্দিন আক্কাস, আলী হোসেন, মো. কামরুল হাসান খান স্বপন, তমাল শিকদার, তারিকুল ইসলাম রানা, সাব্বির হোসেন, মো. আক্কাস আলী, মোঃ মুরাদ মোল্লা ও শামসুন্নবি তুলিপসহ মোট ১২ জন।
৩. চালা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান কাজী আঃ মজিদ, প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল গফফার, মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, শাকিল মোল্লা, নিরব আহমেদ চুন্নু, গাজী আলমগীর হোসেন আক্কাস, আশরাফুল ইসলাম মিন্টু, আব্দুল গফূরসহ ৮ জনের নাম শোনা যাচ্ছে।
৪. গোপীনাথপুর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মোল্লা লাভলু, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস, মোঃ জুবায়ের ওমর ও আলমগীর হোসেনসহ চার জনের নাম শোনা যাচ্ছে।
৫. রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ কামাল হোসেন, মিজানুর রহমান মিজান, বুলবুল আহমেদ, জাফর আহমেদ, সাখাওয়াত হোসেন মৃধা ও অহিদুল ইসলামসহ ৬ জনের কথা শোনা যাচ্ছে।
৬. উপজেলার অন্যতম পদ্মা অধ্যুষিত ইউনিয়ন কাঞ্চনপুর। এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে বর্তমান চেয়ারম্যান গাজী বনি ইসলাম রূপক, সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মুসা, আমিনুর রহমান আজাদ গায়ান, খোরশেদ আলম চান, শরিফুল ইসলাম সজল ও্ আফজাল হোসেন সহ (ভোলা মাষ্টার) মোট ৬জন।
৭. উপজেলার সদর ইউনিয়ন খ্যাত বয়ড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে নাম শোনা যাচ্ছে, বর্তমান চেয়ারম্যান ফরিদুর রহমান, সাবেক তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান তুষার, আলতাব হোসেন, মহিদুর রহমান, হাফেজ রমজান আলী, ইমরান হোসেন, মুরাদ হোসেনসহ মোট সাতজন।
৮. বলড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে বর্তমান চেয়ারম্যান মোসলেম উদ্দিন খান কুন্নু, সাবেক চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম তারেক, আব্দুল করিম, শাহিন মৃধা ও শহীদুল ইসলামসহ ৫ জন।
৯. পদ্মা ভাঙ্গন কবলিত হারুকান্দি ইউনিয়নে নাম শোনা যাচ্ছে বর্তমান চেয়ারম্যান শেখ মোশারফ হোসেন, মোঃ সেলিম মিয়া, কাজল মাহমুদ আতোয়ার, বাদল শিকদারসহ ৪ জন।
১০. উপজেলার পদ্মা ভাংনকৃত আরেকটি ইউনিয়নের নাম ধুলশুড়া। এই ইউনিয়নে গত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত বর্তমান চেয়ারম্যান জায়েদ খান, সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান, আক্তার হোসেন, সাইফুল ইসলাম, প্রবাসী আবদুল আউয়াল খান, আব্দুস সালাম ও বাহালুল মৃধা সহ সাতজনের নাম শোনা নাম শোনা যাচ্ছে।
১১. উপজেলার দুর্গম চলাঞ্চলের আজিমনগর ইউনিয়নে এখন পর্যন্ত এক প্রার্থী একমাত্র প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে সাবেক চেয়ারম্যান আলী আকবর খান।
১২. দুর্গম চরাঞ্চলের আরেকটি ইউনিয়ন সুতালড়ি। এ ইউনিয়নে ফিরোজ খান, হান্নান মোল্লা, হায়দার খান, মিন্টুখানসহ ৪ জন প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে।
১৩. চরাঞ্চলের অপর ইউনিয়ন লেছরাগঞ্জ। এই ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, মিশন চৌধুরী, ফিরোজ আল মামুন, আজাহার উদ্দিন, রবিউল ইসলাম, মোতালেব হোসেন সহ ৬ জনের নাম শোনা যাচ্ছে।
এরমধ্যে প্রার্থীর সংখ্যা কমতে এবং বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক দল গুলোর মধ্যে কেন্দ্রীয় বা জেলার সঠিক নির্দেশনা আসার আগেই বিভিন্ন এলাকায় তাঁরা মাঠে নেমে পড়েছেন। প্রার্থী নিশ্চিত করতে তৃনমূলের নেতাদের নির্দেশনা থাকলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা জোর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে।
জেলা উপজেলা বিএনপির নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনে অংশ গ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় কেন্দ্রীয়ভাবে এখনো কোন নির্দেশনা আসেনি। তবে প্রার্থীতা জানান দিতে এবং পরিচিত হতে তারা চায়ের দোকান থেকে শুরু করে মাঠে-ঘাটে নিজেদের মতো করে প্রচারণা শুরু করেছেন বলে অনেকেই দাবি করেন।
তবে সব মিলিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মাঠপর্যায়ের উত্তাপ ছড়াতে পারে বলে মনে করছেন সাধারণ জনগণ।
দলীয় ও মাঠপর্যায়ের সূত্র বলছে, বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে বিএনপির একাধিক নেতা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার জোর প্রস্তুতি রয়েছে। কোথাও তিন-চারজন, আবার কোথাও ছয়-সাতজন পর্যন্ত বিএনপি নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে ফলে একজনকে দলীয়ভাবে সমর্থন দিয়ে বাকিদের ঐক্যবদ্ধ করা বিএনপির জন্য বড় সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনের আগে সমঝোতা না হলে তৃণমূলে বিরোধ সৃষ্টি হয়ে দলের সাংগঠনিক শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হরিরামপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল বারিক বলেন, স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। নির্দেশনা এলে কমিশনের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেওয়া হবে।
হরিরামপুরের ১৩টি ইউনিয়নে মোট ভোটার ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৭২ হাজার ৯৩৮, নারী ৭২ হাজার ৮৭৩ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার একজন।
পড়ুন : একই ছবিতে অসংখ্য ভুয়া এনআইডি: নেত্রকোনায় জালিয়াতির কারিগর গ্রেপ্তার


