নওগাঁর নিয়ামতপুরে এক ব্যক্তির পৈতৃক সম্পত্তিতে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে ঘর ভাঙচুর, ঘরের আসবাবপত্র ও জমির দলিলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লুটপাট এবং হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে আপন ভাই ভাতিজার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে নিয়ামতপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগসূত্রে জানা যায়, উপজেলার চন্দননগর গণেশপাড়া গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে মোঃ আলমগীর হোসেন চন্দননগর মৌজায় অবস্থিত তাঁর পৈতৃক সম্পত্তিতে বাড়িঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন যাবৎ ভোগদখল করে আসছিলেন। বর্তমানে তিনি নিয়ামতপুর ইউনিয়নের তিলিহারী গ্রামে বসবাস করেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেনের অনুপস্থিতিতে তার আপন ভাই ভাতিজা অভিযুক্ত চন্দননগর গণেশপাড়া গ্রামের মোঃ সুলতান আলী, মোসাঃ শাহিদা বেগম, মোঃ আমিনুল ইসলাম ও মোঃ ইমরান আলী সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে আলমগীর হোসেনের বসতঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। অভিযুক্তরা ঘর থেকে যাবতীয় জিনিসপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জমির দলিল নিয়ে যায়। খবর পেয়ে আলমগীর হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কারণ জিজ্ঞাসা করলে অভিযুক্তরা তাঁকেই গালিগালাজ শুরু করে এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার উদ্দেশ্যে তেড়ে আসলে তিনি প্রাণভয়ে সেখান থেকে সরে যান।
প্রত্যক্ষদর্শী নূরনবী বলেন, আমার ভাই আলমগীর শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করায় মাঝে মধ্যে এই বাড়িতে আসে। ঘটনার দিন দেখি ভাতিজা সুলতান ঘরের তালা ভেঙে ঘর দখল করছে। বিষয়টি আমি মুঠোফোনে আলমগীরকে জানাই।
অপর ভাই আব্দুল মান্নান জানান, অভিযুক্তরা ঘর দখলের পর আলমগীর থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ এসে ওই কক্ষে প্রবেশে নিষেধ করে যায়। কিন্তু পুলিশ চলে যাওয়ার পর তারা আবারও ঘরটি জবরদখল করে।
ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেন বলেন, তারা আমার ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও জমিজমার গুরুত্বপূর্ণ দলিল লুট করে নিয়ে গেছে। আমি বাধা দিতে গেলে তারা মারমুখী হয় এবং খুন জখমের হুমকি প্রদান করে। আমি ও আমার পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত সুলতান আলীর সঙ্গে কথা বললে তিনি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পড়ুন : মমেক হাসপাতালে আগুন : মৃত্যু নিয়ে মিথ্যাচারের প্রতিবাদ


