বিজ্ঞাপন

নোংরা পরিবেশ ও কুকুরের অবাধ বিচরণ: নেত্রকোনায় বেকারিকে জরিমানা

বিজ্ঞাপন

জনস্বাস্থ্য যখন হুমকির মুখে, তখন নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা দিতে কঠোর অবস্থানে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নেত্রকোনা সদর উপজেলার কেন্দুয়া রোডে অবস্থিত ‘আল নূর বেকারি’র উৎপাদন কারখানায় ঝটিকা অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। কারখানার ভেতরের চিত্র ছিল রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো- স্যাঁতসেঁতে নোংরা মেঝে, যত্রতত্র ছড়ানো বর্জ্য আর এর মাঝেই অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে রাস্তার কুকুর! চরম অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদনের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের সূত্রে জানা যায়, বাইরে থেকে পরিপাটি মনে হলেও বেকারির ভেতরের পরিবেশ ছিল কল্পনাতীত নোংরা। উৎপাদিত রুটি, বিস্কুট ও অন্যান্য বেকারি পণ্য যেখানে প্যাকেটজাত করা হচ্ছিল, ঠিক তার পাশেই স্তূপ করে রাখা ময়লা-আবর্জনা, ভাঙা বাঁশের ঝুড়ি ও প্লাস্টিকের বর্জ্য। আরও ভয়াবহ বিষয় হলো, কারখানার ভেতরেই কুকুরের অবাধ বিচরণ দেখা গেছে। কুকুরগুলো বেকারি পণ্যের ট্রে ও কাঁচামালের আশেপাশে অনায়াসে ঘুরঘুর করছিল। মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল তৈরি করা খাবার। কারখানার শ্রমিকদের স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই ছিল না। এমন পরিবেশে তৈরি খাবার সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভয়াবহ এই পরিস্থিতি আমলে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাহাবুদ্দিন। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও নিরাপদ খাদ্য আইনের আওতায় জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এমন পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের অপরাধে আল নূর বেকারিকে নগদ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একইসঙ্গে কারখানার মালিকপক্ষকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিবেশের উন্নতি ঘটাতে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। পুনরায় এমন গাফিলতি ও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পেলে প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে সিলগালা করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাহাবুদ্দিন গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, “সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিরাপদ খাদ্য পৌঁছে দিতে জেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর। খাদ্যে ভেজাল মেশানো বা এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না।” তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থে এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে জেলা প্রশাসনের এ ধরনের তদারকি ও মোবাইল কোর্ট অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

এ অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন। অভিযানকালে উপস্থিত স্থানীয় জনতা জেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং জনস্বার্থে নিয়মিত এমন অভিযান পরিচালনার জোর দাবি তোলেন।

পড়ুন : শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নৈতিক স্খলনের দায়ে দুর্গাপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বহিষ্কৃত

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন