১৪৬ রানের লক্ষ্য। সেই রানও ৪৭ বল হাতে রেখেই টপকে গেল ইংল্যান্ড। জস বাটলার ও টম ব্যান্টনের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কাকে ৬ উইকেটে হারিয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে নিয়েছে স্বাগতিকরা। কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে এই জয়ে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড।
বৃহস্পতিবার রাতে (১৭ সেপ্টেম্বর) টস জিতে শ্রীলঙ্কাকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ইংল্যান্ড। শুরুতে ভালোই এগোচ্ছিল লঙ্কানদের ইনিংস। লাহিরু উদারা ও পাথুম নিসাঙ্কার উদ্বোধনী জুটি থেকে আসে ৫৬ রান। ২০ বলে ২১ রান করে উদারা আউট হলে ভাঙে এই জুটি। এরপর প্রথম বলেই কামিল মিশারা ফিরে গেলে দ্রুত দুই উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা।
পাওয়ারপ্লেতে ৫৬ রান তুললেও পরে মন্থর হয়ে আসে শ্রীলঙ্কার রান তোলার গতি। এক প্রান্ত ধরে রাখা নিসাঙ্কা ২১ বলে ৩৭ রান করে আউট হন। অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কার ব্যাট থেকে আসে ৩১ বলে ৩১ রান। কামিন্দু মেন্ডিস করেন ১২ রান। শেষদিকে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার ২২ বলে ২৭ রানের ঝোড়ো ইনিংসে দেড় শ’র কাছাকাছি পৌঁছে যায় দলটি। ২০ ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৪৫ রান।
ইংল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন লিয়াম ডওসন। ৪ ওভারে ৩ উইকেট নেন তিনি। জেমি ওভারটন ও জফরা আর্চার দুটি করে উইকেট শিকার করেন। আদিল রশিদ ও সনি বেকার পান একটি করে উইকেট।
১৪৬ রানের জবাব দিতে নেমে আরও আগ্রাসী শুরু করে ইংল্যান্ড। জস বাটলার ও অ্যানেউরিন ডোনাল্ডের উদ্বোধনী জুটি থেকে মাত্র ৩১ বলে আসে ৫১ রান। ১৩ বলে ২১ রান করে ডোনাল্ড ফিরলেও আক্রমণ চালিয়ে যান বাটলার। শেষ পর্যন্ত ১৫ বলে ৩০ রান করে পাওয়ারপ্লের মধ্যেই সাজঘরে ফেরেন তিনি।
প্রথম ৬ ওভার শেষে ২ উইকেট হারিয়ে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল ৬০ রান। এরপর ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। মাত্র ৮ বলে ২৩ রান করে তিনি আউট হলেও ইংল্যান্ডের জয়ের পথে কোনো প্রভাব পড়েনি।
জর্ডান কক্সকে সঙ্গে নিয়ে দলকে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নেন টম ব্যান্টন। কক্সের সমর্থন আর ব্যান্টনের একের পর এক বাউন্ডারিতে দ্রুত কমতে থাকে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান। ৭ বলে ১২ রান করে কক্স আউট হলেও ব্যান্টনের সঙ্গে শেষ কাজটি সারেন উইল জ্যাকস।
ব্যান্টন খেলেন মাত্র ২৪ বলে ৫২ রানের অপরাজিত ক্যামিও। অন্য প্রান্তে জ্যাকস অপরাজিত থাকেন ৬ বলে ৩ রান করে। শেষ পর্যন্ত ১৩ ওভার ১ বলেই ৪ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড।
শ্রীলঙ্কার হয়ে একটি করে উইকেট নেন দুশমন্থ চামিরা, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, ইশান মালিঙ্গা ও থারিন্ডু রাথনায়েকে।
এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নিল ইংল্যান্ড। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর।
বাটলারের টি-টোয়েন্টি (T20) ক্রিকেটের বিশ্বরেকর্ড
ইংল্যান্ডের উইকেটকিপার-ব্যাটার এবং সাদা বলের অধিনায়ক জস বাটলার (Jos Buttler) আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম বিধ্বংসী এবং রেকর্ডধারী ক্রিকেটার। আন্তর্জাতিক এবং ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে তাঁর ক্যারিয়ারে রয়েছে অবিশ্বাস্য সব কীর্তি।
প্রথম ব্যাটার হিসেবে ১৫,০০০ রান: বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম এবং একমাত্র ব্যাটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে (ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক সব লিগ মিলিয়ে) ১৫,০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন বাটলার। তিনি ক্রিস গেইল ও কায়রন পোলার্ডের মতো কিংবদন্তিদের পেছনে ফেলে বর্তমানে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।
সর্বাধিক অর্ধশতরান: টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি (১০৫টির বেশি) হাফ-সেঞ্চুরি করার রেকর্ডটি তাঁর দখলে।
২. আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি (T20I) রেকর্ডরোহিত শর্মাকে টপকে দ্বিতীয় স্থান: আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে রোহিত শর্মাকে (৪,২৩১ রান) টপকে বর্তমানে তিনি পুরুষদের ক্রিকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক (৪,২৯২ রান)। এই তালিকায় তাঁর ওপরে আছেন কেবল পাকিস্তানের বাবর আজম।
ইংল্যান্ডের জার্সিতে সর্বোচ্চ: তিনি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এবং সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ক্রিকেটার।
৩. ওয়ানডে (ODI) রেকর্ডইংল্যান্ডের দ্রুততম ওয়ানডে সেঞ্চুরি: ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ৪৬ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন বাটলার, যা ওয়ানডে ক্রিকেটে যেকোনো ইংলিশ ব্যাটারের পক্ষে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। এ ছাড়া ইংল্যান্ডের দ্রুততম ৩টি ওয়ানডে সেঞ্চুরির রেকর্ডই তাঁর (৪৬, ৬১ এবং ৬৬ বলে)।
এক ইনিংসে উইকেটকিপার হিসেবে সর্বোচ্চ ডিসমিসাল: ওয়ানডে ক্রিকেটের এক ইনিংসে উইকেটকিপার হিসেবে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ৬টি ডিসমিসাল (৬টি ক্যাচ) নেওয়ার রেকর্ড গড়েন।
৭ম উইকেটে সর্বোচ্চ পার্টনারশিপ: ২০১৫ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বেন স্টোকসের সাথে মিলে সপ্তম উইকেটে ১৭৭ রানের বিশ্বরেকর্ড জুটি গড়েন বাটলার।
৪. আইপিএল (IPL) ও অনন্য কীর্তিএক আইপিএল সিজনে ৪টি সেঞ্চুরি: ২০২২ সালের আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে এক সিজনেই ৪টি সেঞ্চুরি ও ৮৬৩ রান করে অরেঞ্জ ক্যাপ এবং টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় (MVP) হন। এক সিজনে ৪টি সেঞ্চুরি করে তিনি বিরাট কোহলির রেকর্ডে ভাগ বসান।
তিন ফরম্যাটেই সেঞ্চুরি: ইংল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার হিসেবে টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি—তিন ফরম্যাটেই আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি করার অনন্য কীর্তি গড়েছিলেন তিনি।
বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক: অধিনায়ক হিসেবে ইংল্যান্ডকে ২০২২ সালের আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ট্রফি এনে দেন। এর আগে ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ী দলেরও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি।
পড়ুন : দক্ষিণ কোরিয়ার কাছেও বড় ব্যবধানে হারলো বাংলাদেশ
সা/


