বিজ্ঞাপন

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল : তিন ভাগের এক ভাগ ডাক্তারও নেই

বিজ্ঞাপন

নানামুখী সংকটে জর্জরিত হয়ে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ঠ সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল এখন যেন নিজেই রোগী হয়ে দাড়িয়ে আছে। সম্প্রতি ধারন ক্ষমতার কয়েকগুন বেশি রোগী ভর্তি থাকলেও তীব্র চিকিৎসক, জনবল ও শয্যা সংকটের কারনে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এমন অবস্থায় চিকিৎসা না পেয়ে চরম ভোগন্তিতে পড়তে হচ্ছে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের।

সুনামগঞ্জ জেলার ১২টি উপজেলার লাখ লাখ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ঠ সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল। হাওরপাড়ের লাখো মানুষের চিকিৎসার একমাত্র আশ্রয়স্থলটি এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত। এখানে ৭৪টি চিকিৎসকের পদ থাকলেও শূন্য রয়েছে ৪৯টি। বাকি ২৫ জন চিকিৎসক দিয়েই কুড়িয়ে কুড়িয়ে চলছে হাসপাতালটির দৈনন্দিন কার্যক্রম। সংকট রয়েছে নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিষ্টেরও। এদিকে সম্প্রতি ধারন ক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুন বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশীম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। অন্যদিকে শয্যা সংকটে অনেক রোগীকেই মেঝে, বারান্দা ও করিডোরে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। এমন অবস্থায় চিকিৎসকের তীব্র সংকট ও পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। ফলে হাওর ও প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সামর্থ্যবানরা বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকি চিকিৎসা নিতে পারলেও ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাড়িয়েও সরকারি সেবা পাচ্ছেন না অসহায় রোগীরা। শুধু চিকিৎসাই নয় প্রয়োজনীয় ঔষুধ, সময় মতো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না পাওয়াসহ হাসপাতালের অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ রোগী ও তাদের স্বজনদের।

জয়নগরের রকিব বলেন আমার বাচ্চাকে নিয়ে সকালে হসপিটালে এসেছিলাম, এসে নিচতালা উপর তালা সব জায়গায় ঘুরো ডাক্তার পাওয়া যায় না, কোন চেম্বারে ডাক্তার নাই ডাক্তারের সংখ্যা খুবই কম, শুনছি আই সি ইউ আছে তবে এটার কাজ কোনদিন দেখলাম না।

চিকিৎসা সেবা নিতে আশা একজন রোগী বলেন, আমরা আজকে ৪ দিন ধইরা আইছি , একজন ডাক্তার ২/৩শ রোগী দেখা লাগে। পর্যাপ্ত ডাক্তার নাই, অনেক ওষুধ নাই আমরা বাইরে থেকে কিনে আনা লাগে।

একজন রোগী বলেন, আমরা সুনামগঞ্জের ওয়াজখালি এলাকা থেকে আইছি। এখানে আমরা ঠিকমতো চিকিৎসাসেবা পাই না। সরকারি হাসপাতালে আসলেও অনেক সময় ওষুধ নিজের টাকায় কিনতে হয়। এখন ডাক্তারকে বলে, আইয়া দেইখা যান, ওষুধ লিখে দেন, আমরা কিনে আনি। ডাক্তারও নিয়মিত থাকেন না। মাঝে মাঝে আসেন। সকালে একবার আসেন, কিন্তু বিকেলে অনেক সময় ডাক্তার থাকেন না। এতে আমরা ঠিকমতো চিকিৎসাসেবা পাই না।

মানবাধিকার সুনামগঞ্জের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন বলেন আমি সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রায় মানবাধিকার কর্মী হিসেবে যাই। ২৫০ সজ্জা বিশিষ্ট হসপিটালে যেখানে ৭৪ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও মাত্র ২৪ জন কর্মরত রয়েছেন। হাসপাতালটি যেন নিজেই রোগী হয়ে রয়েছে, আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করি এখানে পর্যাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী দেন। এই এলাকার গরিব দুঃখী মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্য অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট, সুনামগঞ্জ সদর হসপিটালের তত্ত্বাবধায়ক, ডা.আলী আশরাফ সোহাগ বলেন চিকিৎসক থাকার কথা ৭৪ জন তবে চিকিৎসক আছেন ২৫ জন, এরমধ্যে ৫ থেকে ৬ জন ছুটিতে আছেন, নার্স ফাংশনাল আছেন ১৫০ জন যেখানে থাকার কথা ২৬৩ জন, এর থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৩২ % পদ শূন্য। মেডিকেল টেকনোলজির ৫০ প্রায় ৪০ শতাংশ, এবং ফার্মাসিস্টের পদ শূন্য রয়েছে ৫০ শতাংশ। সকল বরাদ্দ আমাদেরকে দেওয়া হয় আড়াইশো জন রোগীর অনুপাতে, সেটা দিয়ে আমাদের দিতে হয় ৭০০/৮০০ রোগীকে। আমরা রোগীকে সেবা দিতে পারতাম, আমাদের ম্যানপাওয়ার তিনভাগের একভাগ রয়েছে। গত সাত থেকে আট মাস প্রতিদিন থেকে ৭০০ থেকে ৮০০ জনরোগী প্রতিদিনই সেবা নিচ্ছেন, অন্য কোন দিন ৯০০ বেশি ও রোগী হয়। গত ৭/৮ মাস যাবৎ প্রতিদিনিই অতিরিক্ত রোগী থাকায় চিকিৎসকসহ জনবলের অভাবে চিকিৎসাসেবা দিতে অনেকটা হিমিশিম খেতে হচ্ছে বলে জানান সদর হাসপাতালে নব-যোগদানকৃত এই কর্মকর্তা।

২৫০ শয্যা বিশিষ্ঠ সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের শয্যা, চিকিৎসক, জনবল সংকটসহ সকল সমস্যার স্থায়ী সমাধান করে মানুষকে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা পেতে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নিবে এমনটাই প্রত্যাশা হাওরপাড়ের মানুষদের।

পড়ুন : কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীতে তিন দিনব্যাপী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা শুরু

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন