নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে বাংলাদেশের অভিযান শেষ হয়েছে সেমিফাইনালে। ভারতের বিপক্ষে ৪০ রানের হারে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের পর ব্যাটিং ব্যর্থতা ও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যেই টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। এশিয়ান গেমস শেষ হওয়ার পর সংক্ষিপ্ত সংস্করণে আর নেতৃত্ব দেবেন না তিনি। ফলে এখন সামনে এসেছে নতুন প্রশ্ন—বাংলাদেশ নারী টি-টোয়েন্টি দলের পরবর্তী অধিনায়ক কে?
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) ই-মেইলের মাধ্যমে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন জ্যোতি। তবে ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব আপাতত চালিয়ে যাবেন তিনি। বিসিবির নারী বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এশিয়ান গেমসের পর টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে জ্যোতিকে আর দেখা যাবে না।
জ্যোতির সিদ্ধান্তের পর নতুন অধিনায়ক বাছাইয়ের আলোচনা শুরু হয়েছে বিসিবিতে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার ও অলরাউন্ডার সোবহানা মোস্তারির নাম সামনে এসেছে। বিসিবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে ক্রিকবাজ জানিয়েছে, বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তারা নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় বসলে এই দুজনের নাম গুরুত্বপূর্ণভাবে আলোচিত হতে পারে।
নাহিদা আক্তার বাংলাদেশের নারী দলের অন্যতম অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। বাঁহাতি স্পিনে দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের বোলিং আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ তিনি। নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও তার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০২৬ সালের এশিয়া কাপ ও এশিয়ান গেমসের জন্য ঘোষিত বাংলাদেশ দলেও তিনি সহ-অধিনায়ক ছিলেন। ফলে জ্যোতির পর টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তার নাম আলোচনায় আসাটা স্বাভাবিক।
নাহিদাকে বিবেচনায় নেওয়ার ক্ষেত্রে তার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি দলের সিনিয়র সদস্য হিসেবে ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক নির্বাচনের সিদ্ধান্ত বিসিবির বোর্ড পর্যায়ের আলোচনার ওপর নির্ভর করবে।
নাহিদার পাশাপাশি অলরাউন্ডার সোবহানা মোস্তারির নামও সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে টি-টোয়েন্টি দলে নিয়মিত সুযোগ পাওয়া এই ক্রিকেটার ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি দলের প্রয়োজনে বল হাতেও অবদান রাখতে পারেন।
এশিয়া কাপেও দলের ব্যাটিং ব্যর্থতার মধ্যেও সোবহানার ব্যাট থেকে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস এসেছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের পরাজয়ের ম্যাচে তিনি ৩৪ রান করেছিলেন। ফলে সংক্ষিপ্ত সংস্করণে তার ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাও অধিনায়ক নির্বাচনের আলোচনায় জায়গা পাচ্ছে।
নাহিদা ও সোবহানার পাশাপাশি ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে অপেক্ষাকৃত তরুণ ক্রিকেটারদের নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করার বিষয়টিও আলোচনায় থাকতে পারে। রাবেয়া খাতুন, শারমিন আক্তার ও স্বর্ণা আক্তারের মতো ক্রিকেটাররা ভবিষ্যতে নেতৃত্বের বিকল্প হতে পারেন—এমন আলোচনা রয়েছে।
তবে জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে এখনই তাদের কাউকে দায়িত্ব দেওয়া কিছুটা আগেভাগে হয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও দলের বর্তমান ভারসাম্য বিবেচনা করে বিসিবি সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
২০২২ সালে টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব নেওয়ার পর জ্যোতি দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার অধীনে বাংলাদেশ ৮০টি টি-টোয়েন্টি খেলেছে, যার মধ্যে ৩২টিতে জয় পেয়েছে। তার নেতৃত্বের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসে ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে এক দশক পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচসহ পুরো টুর্নামেন্টে ব্যাট ও উইকেটকিপিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন জ্যোতি। চার ইনিংসে তার সংগ্রহ ছিল ১০৪ রান এবং উইকেটের পেছনে ছিল সাতটি ডিসমিসাল। TThe Daily Star+1
এ ছাড়া ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে জ্যোতির নেতৃত্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। তবে পরবর্তী সময়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ হার, স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে মিশ্র ফল এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচে দুই জয়—এসব ফলাফলের পর তার নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা বাড়ে। সর্বশেষ এশিয়া কাপে ভারতের কাছে সেমিফাইনালে হারের পর সেই আলোচনা আরও জোরালো হয়।
এশিয়া কাপে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি ছিল ব্যাটিং। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে জিতেও সেমিফাইনালে ওঠার ম্যাচে বাংলাদেশ ৫৫ রানে ৬ উইকেট হারিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বোলারদের পারফরম্যান্সে ৩৪ রানের জয় পেয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেয় দল। এরপর ভারতের বিপক্ষে ১৪৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ১০৯ রানেই থেমে যায়।
জ্যোতির টি-টোয়েন্টি নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে নতুন একটি অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। তবে তার নেতৃত্বের মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ দলের টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলোই অধিনায়ক হিসেবে তার শেষ দায়িত্ব হতে পারে। এরপরই নতুন অধিনায়ক বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবে বিসিবি।
এদিকে বাংলাদেশ নারী দলের কোচিং স্টাফেও পরিবর্তনের আলোচনা রয়েছে। ফলে অধিনায়ক পরিবর্তনের পাশাপাশি দলের নেতৃত্ব কাঠামো ও টিম ম্যানেজমেন্টে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, সেটিও নজরে থাকবে।
নতুন অধিনায়ক হিসেবে নাহিদা, সোবহানা কিংবা ভবিষ্যতের জন্য কোনো তরুণ ক্রিকেটারকে বেছে নেওয়া হবে কি না—তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিসিবির পরবর্তী বৈঠক ও সিদ্ধান্তের পরই পরিষ্কার হবে জ্যোতির উত্তরসূরি হিসেবে কে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। তবে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, এশিয়ান গেমসের পর বাংলাদেশ নারী টি-টোয়েন্টি দলকে দেখা যাবে নতুন নেতৃত্বের অধীনে।
পড়ুন:টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক শর্মার বিশ্বরেকর্ড
ইমি/


