প্রথম সংসারের তিক্ততা, নানা টানাপোড়েন ও মানসিক যন্ত্রণার অধ্যায় পেরিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করেছিলেন মডেল ও অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। দেখতে দেখতে সেই নতুন পথচলারও এক বছর পূর্ণ হয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তা তানজিম তৈয়বের সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ের প্রথম বিবাহবার্ষিকীতে তাই পুরোনো দিনের নানা কষ্টের কথা স্মরণ করার পাশাপাশি বর্তমান জীবনের সুখ ও প্রাপ্তির কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
বিবাহবার্ষিকীর প্রথম প্রহরটা ঘরোয়াভাবেই উদ্যাপন করেছেন শবনম ফারিয়া ও তানজিম তৈয়ব। বিশেষ এই দিনে কেক কাটার কয়েকটি মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন অভিনেত্রী। সেই ছবির সঙ্গে নিজের জীবনের অতীত অভিজ্ঞতা, ভুল সিদ্ধান্ত, সামাজিক চাপ, মানসিক লড়াই এবং বর্তমান জীবনের শান্তির কথা তুলে ধরে একটি আবেগঘন বার্তাও দেন তিনি।
অতীতের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ টেনে ফারিয়া লিখেছেন, জীবনে অন্য সবার মতো তিনিও অনেক ভুল করেছেন। তবে তার কিছু সিদ্ধান্তকে শুধু ভুল হিসেবে দেখলে হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সামাজিকতা রক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে নিজের চরিত্রের বাইরে গিয়ে অন্যায় সহ্য করার কথাও জানান এই অভিনেত্রী।
নিজের অতীতের সেই অভিজ্ঞতা বোঝাতে গিয়ে ফারিয়া লেখেন, ‘প্রত্যেকটা মানুষের মতো আমিও জীবনে অনেক ভুল করেছি, কিন্তু আমার কিছু ভুল শুধু ভুল বললে হবে না; লিটরালি নিজের সাথে নিজে অন্যায় করেছি।’
তিনি আরও জানান, দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নিতে গিয়ে তার মনে অনেক ক্ষত তৈরি হয়েছিল। সেই ক্ষত এতটাই গভীর ছিল যে, সময় পেরিয়ে গেলেও তা সহজে মুছে যাওয়ার নয়—এমন অনুভূতির কথাও উঠে এসেছে তার লেখায়।
শুধু সামাজিক চাপ বা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের কথাই নয়, মানসিকভাবে ভালো থাকার জন্য নিজের জায়গা থেকে যে চেষ্টা করেছেন, সেটিও প্রকাশ করেছেন ফারিয়া। জীবনের কঠিন সময়গুলো সামলাতে কাউন্সেলিং ও থেরাপির সহায়তা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
অভিনেত্রীর ভাষায়, কখনো কখনো ভেতরে জমে থাকা রাগ ও কষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। তবে সেখানেই থেমে থাকেননি। নিজের এবং অন্যের ওপর জমে থাকা অভিমান ও জেদ কাটিয়ে উঠতে কাউন্সেলিং, থেরাপিসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা নিয়েছেন। তার কথায়, জীবনের বেশ কয়েকটি বছর ভেতরে জমে থাকা আর্তনাদ থেকে পালাতে পালাতেই কেটে গেছে।
তবে অতীতের সেই কঠিন সময় পেছনে ফেলে বর্তমানে জীবনের নতুন অধ্যায় নিয়ে সন্তুষ্ট শবনম ফারিয়া। দ্বিতীয় বিয়েকে নিজের জীবনের সৌভাগ্য হিসেবে দেখছেন তিনি। স্বামী তানজিম তৈয়বের পাশাপাশি তার পরিবারের কাছ থেকেও যে ভালোবাসা ও আন্তরিকতা পেয়েছেন, সেটির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী।
ফারিয়া লিখেছেন, আল্লাহ তার সৃষ্টিকে খুব বেশিদিন কষ্টে রাখেন না। তারও বহু বছরের কষ্টের পর জীবনে তানজিমকে পাঠানো হয়েছে—এমন বিশ্বাসের কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে তানজিমের পরিবারকে নিজের জন্য আরও বড় একটি উপহার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে নিজের বিভিন্ন বিষয় ভাগ করে নেওয়া এবং ননদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেছেন ফারিয়া। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার সহজ ও স্বাভাবিক সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, তাদের সঙ্গে নিজের নানা বিষয় শেয়ার করতে পারেন, এমনকি ননদের সঙ্গে তার ভাইকে নিয়েও হাসাহাসি করতে পারেন। সবশেষে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ।’
আবেগঘন সেই বার্তার শেষটাও অবশ্য নিজের স্বভাবসুলভ রসবোধ দিয়ে সাজিয়েছেন অভিনেত্রী। স্বামী তানজিমকে ট্যাগ করে বিবাহবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি পরের বছরের জন্য মজার কিছু ‘প্রতিপাদ্য’ও ঠিক করে দিয়েছেন তিনি।
তানজিমকে উদ্দেশ করে ফারিয়া লেখেন, সামনের বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় হবে—‘রুম থেকে বের হলে লাইট/ফ্যান/এসি অফ করতে হয়’ এবং ‘ফ্রিজ থেকে পানি বের করলে ফ্রিজের দরজা বন্ধ করতে হয়।’ স্বামীর দৈনন্দিন অভ্যাস নিয়ে এমন মজার মন্তব্যে তার পোস্টে আবেগের পাশাপাশি হাস্যরসও যোগ হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে প্রথম স্বামী হারুনুর রশীদ অপুর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় শবনম ফারিয়ার। এরপর দীর্ঘ পাঁচ বছর পর ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর তানজিম তৈয়বকে বিয়ে করেন তিনি। পেশায় ব্যাংকার তানজিম অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলস থেকে ফিন্যান্সিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন বলে ফারিয়ার দেওয়া তথ্যে জানা যায়। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকে অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কর্মরত।
প্রথম সংসারের অভিজ্ঞতা ও বিচ্ছেদের পর নতুন করে জীবন শুরু করা শবনম ফারিয়ার জন্য দ্বিতীয় বিয়ের প্রথম বছরটি তাই কেবল একটি বিবাহবার্ষিকী নয়; বরং অতীতের কষ্ট পেরিয়ে নতুন বাস্তবতায় নিজেকে খুঁজে পাওয়ারও একটি উপলক্ষ। নিজের কথায়, জীবনের সেই তিক্ত অধ্যায়গুলো এখন পেছনে ফেলে তানজিম ও তার পরিবারের সান্নিধ্যে নতুনভাবে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ফারিয়ার এই দীর্ঘ বার্তার পর তার ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাকে বিবাহবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে বর্তমানের সুখের জায়গায় পৌঁছানোর গল্পই যেন এবারের বিবাহবার্ষিকীতে তার বার্তার মূল সুর—জীবনের কঠিন অধ্যায় পেরিয়ে কখনো কখনো নতুন শুরুতেই খুঁজে পাওয়া যায় স্বস্তি ও আনন্দ।
পড়ুন:পুরনোটার রেশ কাটতে না কাটতেই ‘জাকিরের’ ৫ মিনিটের ভিডিও ভাইরাল
ইমি/


