বিজ্ঞাপন

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সামাজিক জাগরণ: হাতে কোদাল, রাজপথে নেত্রকোনার ডিসি

বিজ্ঞাপন

শনিবারের সকাল। ছুটির দিনের আলস্যে যখন শহরবাসীর অনেকেই আচ্ছন্ন, তখন নেত্রকোনার রাজপথে দেখা গেল অন্যরকম এক দৃশ্য। কারও হাতে ঝাড়ু, কারও হাতে কোদাল। তবে অবাক করার বিষয় হলো, শহরের জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা নিজ হাতে পরিষ্কার করছেন খোদ জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান। তার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন হলুদ টি-শার্ট পরিহিত একদল উচ্ছ্বসিত তরুণ, যাদের বুকে লেখা- ‘লেটস রিবিল্ড আওয়ার নেশন’। এটি নিছক কোনো গতানুগতিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান ছিল না, বরং ডেঙ্গুর মতো ভয়ংকর স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে শহরকে বাঁচাতে শুরু হওয়া এক নতুন সামাজিক জাগরণ।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশজুড়ে চলছে তিন মাসব্যাপী ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’। তারই ধারাবাহিকতায় নেত্রকোনা পৌরসভা হাতে নিয়েছে ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে এ কর্মসূচির দ্বিতীয় সপ্তাহের কার্যক্রম বেশ উৎসবমুখর পরিবেশেই পালিত হয়। প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সেতুবন্ধন যেন শহরটিকে নতুন করে সাজানোর সম্মিলিত এক অঙ্গীকার।

জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান শুধু নিজেই পরিষ্কারের কাজে অংশ নেননি, বরং সাধারণ মানুষকেও এ আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান। ডেঙ্গুকে বর্তমান সময়ের একটি ‘বিশাল চ্যালেঞ্জ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “শুধু সরকারি দপ্তর বা পৌরসভার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। কমিউনিটি বা সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে এর সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে।”

এখন থেকে প্রতি শনিবার নিয়মিতভাবে শহরের প্রতিটি স্পট পর্যায়ক্রমে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আওতায় আনা হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “আজ বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং আমাদের পৌরসভা একযোগে কাজ করছে। এটি কোনো সাময়িক উদ্যোগ নয়, চলমান প্রক্রিয়া। আমরা চাই এটিকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে। আর যদি আমরা একে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে পারি, তবে এটি বছরব্যাপী অব্যাহত থাকবে।”

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা জানান নেত্রকোনা পৌরসভার প্রশাসক এবং স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা। তিনি জানান, ডেঙ্গুর ‘হট জোন’ বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।

নাগরিক সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “কেবল সরকার বা পৌরসভার একক প্রচেষ্টায় শহর পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। সকলের সম্মিলিত সচেতনতা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমেই সুন্দর নগরী গড়ে তোলা সম্ভব।”

এদিনের অভিযানে নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ওয়াহিদুজ্জামান, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিজা খাতুনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। মূলত ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির সময়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করাই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

ছুটির সকালে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তার এমন মাটি-ঘেঁষা সরাসরি অংশগ্রহণ স্থানীয়দের মনে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই বলে দিচ্ছে, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ডেঙ্গুমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন নতুন নেত্রকোনা গড়ার পথে শহরবাসী আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

পড়ুন:টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক শর্মার বিশ্বরেকর্ড

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন