গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা সরকারি কলেজের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও শিক্ষার্থীবান্ধব রাখতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কলেজ চত্বর, মূল ফটকের সামনের অংশ, ড্রেনসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ সুন্দর রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে কালিয়াকৈর পৌর যুবদলের সদস্য সচিব আমজাদ হোসেনের উদ্যোগে এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। সকাল থেকেই সংশ্লিষ্টরা কলেজ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করেন। এ সময় কলেজের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখে যেসব স্থানে ময়লা-আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্নতা ছিল, সেসব স্থান পরিষ্কার করা হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে চন্দ্রা সরকারি কলেজের মূল ফটকের সামনের অংশ, কলেজ চত্বর এবং বিভিন্ন স্থানে থাকা ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করে অপসারণ করা হয়। পাশাপাশি ড্রেন ও পানি নিষ্কাশনের পথগুলোও পরিষ্কার করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা সরিয়ে ফেলার ফলে কলেজের পরিবেশ আরও পরিচ্ছন্ন ও চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করা হয়।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানে স্থানীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা অংশ নেন। এতে কালিয়াকৈর পৌর যুবদলের সদস্য সচিব আমজাদ হোসেনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পৌর যুবদলের যুগ্ম-সম্পাদক আব্দুল হামিদ, জালাল উদ্দিন, মো. আনোয়ার হোসেন, ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি শাহ আলম, বাদশাসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা জানান, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নয়; এর সঙ্গে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় জনগণেরও সম্পৃক্ততা রয়েছে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যকর ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন।
চন্দ্রা সরকারি কলেজ কালিয়াকৈর উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ায় প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে আসেন। কলেজের ভেতরের পাশাপাশি মূল ফটকের সামনের অংশ ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বর্ষাকালে ড্রেন ও পানি নিষ্কাশনের পথ ময়লা-আবর্জনায় বন্ধ হয়ে গেলে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে ড্রেন পরিষ্কার রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানের বিষয়ে কালিয়াকৈর পৌর যুবদলের সদস্য সচিব আমজাদ হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ভালো থাকলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশও সুন্দর হয়। তাই সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে এ ধরনের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু একদিন পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, নিয়মিতভাবে পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা সম্মিলিতভাবে সচেতন হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ আশপাশের পরিবেশও পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলেন, বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে স্থানীয়দের অংশগ্রহণ থাকলে তা আরও কার্যকর হয়। পরিচ্ছন্নতা একটি চলমান বিষয়। তাই ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা, ড্রেন ও পানি নিষ্কাশনের পথ পরিষ্কার রাখা এবং যেখানে-সেখানে বর্জ্য না ফেলার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
তারা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কলেজ প্রাঙ্গণ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে সচেতন করা গেলে এর ইতিবাচক প্রভাব পরিবার ও সমাজেও পড়তে পারে। এজন্য নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের সময় কলেজের বিভিন্ন অংশ পরিষ্কার করার পাশাপাশি ময়লা-আবর্জনা যত্রতত্র না ফেলার বিষয়ে সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্থানীয়দের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ সুন্দর রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শুধু বিশেষ কোনো দিনে নয়, প্রতিদিনই নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্ন পরিবেশ শিক্ষার্থীদের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আগত অভিভাবকদের জন্যও প্রয়োজনীয়। কলেজ প্রাঙ্গণে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকলে পরিবেশের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধ ও বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলা এবং নিয়মিতভাবে তা অপসারণের ব্যবস্থা থাকা জরুরি।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানের মাধ্যমে কলেজের বিভিন্ন অংশ পরিষ্কার করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক দায়িত্ববোধ ও পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও তুলে ধরা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত পরিচালিত হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ আরও সুন্দর রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও নিজেদের প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সচেতনতা বাড়বে।
শনিবারের এ পরিচ্ছন্নতা অভিযানে স্থানীয় নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণের ফলে কলেজ প্রাঙ্গণ ও আশপাশের বিভিন্ন অংশে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃতভাবে পরিচালনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।
পড়ুন : জামালপুরে সাংবাদিক নেতার বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ


