আশির দশকের কবি ও অভিনেতা রিফাত চৌধুরী শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের নতুন ভবনের মেডিসিন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন এই অভিনেতা। বর্তমানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
রিফাত চৌধুরীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন ধরে তিনি দুর্বলতা ও অতিরিক্ত ক্লান্তিসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এর সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা ও নিদ্রাহীনতার মতো সমস্যাও দেখা দেয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রিফাত চৌধুরীর চিকিৎসা নিয়মিতভাবে চলছে। তাঁর শারীরিক অবস্থার দিকে চিকিৎসকেরা নজর রাখছেন। দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন—এটাই এখন পরিবার, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রত্যাশা।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে রিফাত চৌধুরী পাঁচ শতাধিক নাটকে অভিনয় করেছেন। মঞ্চ ও টেলিভিশনে তাঁর অভিনয়ের নানা চরিত্র দর্শকের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি যেমন জনপ্রিয় ধারাবাহিক ও একক নাটকে অভিনয় করেছেন, তেমনি ভিন্নধর্মী চরিত্রেও নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।
‘হাউসফুল’, ‘এইম ইন লাইফ’, ‘পাটিগণিত’, ‘ফোর টোয়েন্টি’, ‘সিক্সটি নাইন’, ‘বনমানুষ’, ‘বাইসাইকেল’, ‘৪২০’, ‘ক্যারাম’ ও ‘মুড়ির টিন’সহ বহু নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি।
তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলোর মধ্যে ‘সিক্সটি নাইন’ নাটকের ‘জাতীয় কাকা’ চরিত্রটি বিশেষভাবে দর্শকের নজর কাড়ে। চরিত্রটির অভিনয় ও উপস্থাপনা তাঁকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। পরবর্তী সময়ে এই চরিত্রের কারণে অনেক দর্শকের কাছে তিনি আলাদা পরিচয়ে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
রিফাত চৌধুরীর অভিনয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা। কমেডি থেকে শুরু করে সামাজিক ও বাস্তবধর্মী বিভিন্ন চরিত্রে তাঁকে দেখা গেছে। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নানা ধরনের চরিত্রে কাজ করার মাধ্যমে তিনি টেলিভিশন নাটকের দর্শকদের কাছে নিজের একটি অবস্থান তৈরি করেছেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি কবি হিসেবেও রিফাত চৌধুরীর রয়েছে দীর্ঘ পথচলা। আশির দশকে কবিতার জগতে তাঁর প্রবেশ। ১৯৮৪ সালে ‘আলিঙ্গনের নাম’ কবিতার মাধ্যমে তাঁর কবিতাচর্চার শুরু বলে জানা গেছে।
অভিনয়ের ব্যস্ততার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে তিনি কবিতা লিখেছেন। তাঁর লেখায় ব্যক্তিগত অনুভূতি, সম্পর্ক, জীবনবোধ ও সময়ের নানা অভিজ্ঞতার প্রতিফলন দেখা যায়। এ পর্যন্ত তাঁর ২৯টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
একজন শিল্পীর জীবনে অভিনয় ও সাহিত্যচর্চার এই দ্বৈত পথচলা রিফাত চৌধুরীকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। একদিকে তিনি অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের কাছে পৌঁছেছেন, অন্যদিকে কবিতা ও গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে সাহিত্যাঙ্গনেও নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন।
বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও আবারও অভিনয় ও কবিতার জগতে ফিরতে চান রিফাত চৌধুরী। দীর্ঘদিনের শিল্পীজীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই দুই ক্ষেত্রেই নতুন করে কাজ করার আগ্রহ রয়েছে তাঁর।
সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আশা, চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে আবারও ক্যামেরার সামনে দাঁড়াবেন তিনি। একই সঙ্গে কবিতার খাতায় নতুন লেখা নিয়ে ফিরবেন বলেও প্রত্যাশা তাঁদের।
রিফাত চৌধুরীর অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী, বন্ধু এবং শিল্প-সাহিত্য অঙ্গনের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন।
রিফাত চৌধুরীর দীর্ঘ শিল্পীজীবনের সঙ্গে যুক্ত থাকা সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁর চিকিৎসার বিষয়ে পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁর দ্রুত আরোগ্যের জন্য সবার কাছে দোয়া ও শুভকামনা চেয়েছেন তাঁরা।
একজন শিল্পীর দীর্ঘ পথচলায় দর্শক ও পাঠকের ভালোবাসা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি অসুস্থতার সময়ে সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থনও বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে। রিফাত চৌধুরীর ক্ষেত্রেও এখন সেই সমর্থনই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আশির দশক থেকে কবিতা ও অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকা এই শিল্পী তাঁর সৃষ্টিশীল কাজের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে দর্শক ও পাঠকের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেছেন। পাঁচ শতাধিক নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি ২৯টি গ্রন্থ প্রকাশ তাঁর বহুমাত্রিক শিল্পীসত্তার পরিচয় বহন করে।
বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন রিফাত চৌধুরী। পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা আশা করছেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও বিশ্রামের পর দ্রুতই তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হবে। আবারও অভিনয় ও কবিতার জগতে সক্রিয় হয়ে দর্শক-পাঠকের সামনে ফিরবেন তিনি—এটাই এখন তাঁর সহকর্মী ও ভক্তদের প্রত্যাশা।
পড়ুন:স্ত্রীর প্রশংসা করার বিশেষ দিন আজ
ইমি/


