বিজ্ঞাপন

আমি প্রশাসক নই, শিক্ষক: ডেঙ্গু সচেতনতায় ঝাড়ু হাতে নেবি ভিসি

বিজ্ঞাপন

রবিবারের সকাল। নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (নেবি) টিএসসি ও ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণে অন্যরকম এক চাঞ্চল্য। এদিন দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দৃশ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে বসে যিনি গোটা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন, সেই উপাচার্যই নিজ হাতে তুলে নিয়েছেন ঝাড়ু!

মাথায় সার্জিক্যাল ক্যাপ, হাতে গ্লাভস আর ঝাড়ু নিয়ে তিনি নেমে পড়েছেন ক্যাম্পাসের আগাছা আর ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করতে। তিনি প্রফেসর ড. মো: খালেদ উজ্জামান, নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।

দেশে যখন ডেঙ্গুর ভয়াল থাবা, যখন এডিস মশার কামড়ে ঝরে যাচ্ছে একের পর এক তাজা প্রাণ, এমনকি নিষ্পাপ শিশুরাও- ঠিক তখন কেবল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে নির্দেশ দিয়েই ক্ষান্ত হননি তিনি। নিজে মাঠে নেমে প্রমাণ করেছেন, চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার কাজটি ছোট নয়, বরং এটি সবার বাঁচার তাগিদ।

উপাচার্য যখন নিজে হাতে ময়লা পরিষ্কার করছিলেন, তখন তাকে ঘিরে ছিলেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা। এমন দৃশ্য দেখে মুগ্ধ সবাই। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অত্যন্ত সহজ-সরল ভাষায় তিনি বলেন, “আমি শিক্ষার্থীদের বার্তা দিচ্ছি, আমি একজন শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষক। আমি এখানে ভিসি হিসেবে নিজেকে প্রশাসক মনে করি না।”

তার এই একটি কথাই যেন নিমেষেই ঘুচিয়ে দেয় প্রশাসক আর শিক্ষার্থীর মাঝের অদৃশ্য দেয়াল। তিনি বিশ্বাস করেন, নিজে কাজ করলে তাকে দেখে শিক্ষার্থীরাও উদ্বুদ্ধ হবে। ক্যাম্পাসে চলমান পরীক্ষার কারণে অনেক শিক্ষার্থী চাইলেও এই কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেনি, তবে পরীক্ষা শেষে সবাইকে নিয়েই পরিচ্ছন্নতা উৎসব চলবে বলে জানান তিনি।

মূলত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে ‘তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’। তবে উপাচার্যের লক্ষ্য আরও সুদূরপ্রসারী। তিনি চান পরিচ্ছন্নতা যেন শুধু তিন মাসের কোনো রুটিন কাজে আটকে না থাকে। বাড়ির আঙিনা, ফুলের টব থেকে শুরু করে ক্যাম্পাস- সবই যেন সারা বছর তকতকে থাকে।

উপাচার্য মনে করিয়ে দেন সেই শাশ্বত বাণী- “পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ।” চারপাশ পরিষ্কার থাকলে মন প্রফুল্ল থাকে, আর ডেঙ্গুর মতো প্রাণঘাতী রোগ থেকে জীবন বাঁচাতে এর বিকল্প নেই। উপরওয়ালার ওপর ভরসা রাখার পাশাপাশি নিজেদেরও যে সজাগ ও সচেতন হতে হবে, সেই তাগিদই বারবার উঠে এসেছে তার কণ্ঠে।

নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকালটি তাই শুধু গতানুগতিক অভিযানের উদ্বোধনের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি হয়ে উঠেছে দায়িত্ববোধ, সচেতনতা আর বিনয়ের এক অনন্য গল্প। উপাচার্যের হাতের ওই ঝাড়ু যেন এদিন কেবল ক্যাম্পাসের ময়লাই পরিষ্কার করেনি, ধুয়ে মুছে দিয়েছে পদমর্যাদার অহংকারও। আর দিয়ে গেছে এক শক্তিশালী বার্তা- সুস্থভাবে বাঁচতে হলে সচেতনতার শুরুটা হতে হবে নিজেকে দিয়েই।

পড়ুন : জাতিসংঘ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ৩৫ জন

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন