দেশে চার ধরনের প্রধান জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন দামে ডিজেল প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. এনামুল হক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা যায়।
এর আগে সেপ্টেম্বরে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত ছিল। তখন ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছিল।
সর্বশেষ বড় ধরনের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল এপ্রিলে। তখন ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা এবং অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম যথাক্রমে ২০, ১৯ ও ১৮ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।
২০২৪ সাল থেকে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির আওতায় দেশে খুচরা জ্বালানি তেলের দাম পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, আমদানি ব্যয়, কর ও শুল্ক, বিনিময় হারসহ অন্যান্য ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে এ দাম সমন্বয় করা হয়।
জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে বিপিসি
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে আগামী ১০ বছরের জন্য বড় ধরনের কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। ২০২৬ থেকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত দুই ধাপে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে তৈরি এই পরিকল্পনায় দেশের তেল পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জ্বালানি তেলের মজুত ৯০ দিনের পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মহেশখালী-মাতারবাড়ীকে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, একাধিক এলপিজি টার্মিনাল ও বটলিং প্ল্যান্ট স্থাপন এবং সরবরাহব্যবস্থাকে অটোমেশনের আওতায় আনার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
বিপিসির এই কর্মপরিকল্পনায় অপরিশোধিত তেল আমদানি থেকে শুরু করে পরিশোধন, খালাস, সংরক্ষণ, পরিবহন, ডিপো পরিচালনা ও বিপণন—জ্বালানি ব্যবস্থাপনার প্রায় প্রতিটি স্তরে সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা, জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন কিংবা আমদানিতে সাময়িক সংকট তৈরি হলেও দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখার সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম-মহেশখালীতে বাড়ছে জ্বালানি অবকাঠামো
দেশের জ্বালানি তেল আমদানি, খালাস, সংরক্ষণ ও পরিশোধন অবকাঠামোর বড় অংশ চট্টগ্রামকেন্দ্রিক। নতুন পরিকল্পনায় এই অঞ্চলের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহেশখালী-মাতারবাড়ীতে জ্বালানি অবকাঠামো সম্প্রসারণের পাশাপাশি এলপিজি আমদানি, সংরক্ষণ ও বটলিং প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। চট্টগ্রামের কাট্টলী, মোংলা ও এলেঙ্গাতেও এলপিজি ইমপোর্ট স্টোরেজ ও বটলিং প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ রাখা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের অধীন বে-টার্মিনালের জায়গায় এলপিজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
ডিপো থেকে বিপণন, অটোমেশনের আওতায় পুরো ব্যবস্থা
বিপিসি কর্মকর্তারা জানান, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় আরেকটি বড় পরিবর্তন আনার লক্ষ্য অটোমেশনের মাধ্যমে। দেশের তেল বিপণন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে ধাপে ধাপে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পদ্মা অয়েল কোম্পানি, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও যমুনা অয়েল কোম্পানির পতেঙ্গা ও চট্টগ্রামের প্রধান স্থাপনাগুলো অটোমেশনের আওতায় আনার প্রকল্প নেওয়া হবে। একই সঙ্গে দেশের সব ডিপোতে অটো গেজিং সিস্টেম স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
পড়ুন : ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার: অর্থমন্ত্রী


