মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কালীগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন ও ভেকু দিয়ে ফসলি জমির মাটি কাটার অভিযোগ তুলে দ্রুত এসব কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন তারা।
সোমবার দুপুরে, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের তরা সেতু এলাকায় এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন সদর উপজেলার পৌলি, চামটা ও খাগড়াকুড়ি ব্যানারে অত্র গ্রামের বাসিন্দারা। এতে স্থানীয় কৃষক, জমির মালিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কালীগঙ্গা নদীর বালুমহাল ইজারা দেওয়ার পর নির্ধারিত সীমানার বাইরে গিয়েও কোথাও কোথাও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভেকু ব্যবহার করে নদীর তীরবর্তী ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে নদীর তীরবর্তী এলাকার ভাঙন ও পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়ছে বলে দাবি করেন তারা।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, এসব জমিতে বছরের বিভিন্ন সময়ে ধান, পাট, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য আবাদ করা হয়। অনেক কৃষক সরাসরি এসব জমির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু জমির মাটি কেটে নেওয়া হলে ভবিষ্যতে সেখানে চাষাবাদ করা কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে নদীর গতিপথ ও তীরের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়ে ভাঙনের আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নদী থেকে বালু উত্তোলনের জন্য নির্ধারিত নিয়ম ও সীমানা থাকলেও তা যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তীরবর্তী ফসলি জমি ও বসতভিটা ঝুঁকিতে পড়লে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা ও কৃষির ওপর।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী স্থানীয় কৃষক আজগর আলী বলেন, ‘‘আমরা কৃষিজমির ওপর নির্ভর করে সংসার চালাই। জমি যদি কেটে নেওয়া হয়, তাহলে আমাদের চাষাবাদের জায়গা থাকবে না। প্রশাসনের কাছে আমরা দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’’
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা লুৎফর রহমান বলেন, ‘‘নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হলে নির্ধারিত সীমানা ও নিয়ম মেনে করা উচিত। কিন্তু ফসলি জমি কেটে নেওয়া হলে সাধারণ কৃষক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’’
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে সরেজমিনে তদন্ত করে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা বন্ধ করার দাবি জানান। একই সঙ্গে বালুমহালের নির্ধারিত সীমানা যাচাই করে তার বাইরে বালু উত্তোলন বা মাটি কাটার অভিযোগের সত্যতা তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
তাদের আরও দাবি, মানিকগঞ্জে নদীর তীরবর্তী কৃষিজমি ও বসতভিটা রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে। অন্যথায় অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন ও মাটি কাটার কারণে ভবিষ্যতে আরও বেশি কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে ফসলি জমি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। কৃষিজমি ও কৃষকদের জীবিকা রক্ষায় অবৈধভাবে মাটি কাটা ও অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি চান তারা।
পড়ুন : বগুড়ায় বাসের ধাক্কায় সিএনজির দুই যাত্রী নিহত
সা/


