চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রামের পটিয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন চাকরিচ্যুত ব্যাংকাররা। এ সময় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পটিয়া মডেল মসজিদের সামনে জড়ো হন চাকরিচ্যুত ব্যাংকাররা। পরে তারা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে ব্লকেড কর্মসূচি শুরু করেন।
এতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের দুই পাশে আটকা পড়ে বেশ কিছু যানবাহন। সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।
আন্দোলনকারীরা জানান, চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। এর ধারাবাহিকতায় আন্দোলনকারীদের ওপর কয়েক দফা হামলার প্রতিবাদ এবং চাকরিচ্যুতদের চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে এবার মহাসড়ক অবরোধের কর্মসূচি দেওয়া হয়।
কর্মসূচির একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিতে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তি হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কে অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন আন্দোলনকারীরা। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরোধ চলার পর দুপুর আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থলে যান পটিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান। তিনি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দাবির বিষয়টি আগামী বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় উপস্থাপনের আশ্বাস দেন।
ইউএনওর আশ্বাসের পর আপাতত কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। এরপর তারা ধীরে ধীরে মহাসড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আন্দোলনকারী জয়নাল আবেদীন বলেন, চাকরিতে পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। দাবি আদায় না হলে রাজপথে প্রাণ দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। দাবি মেনে না নিলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার কথাও জানান তিনি।
এদিকে ইউএনও ফারহানুর রহমান বলেন, “আগামী বুধবার জেলায় আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মিটিং আছে। সেখানে বিষয়টি উপস্থাপন করব। এই পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য বলেছি।”
চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের কর্মসূচিকে ঘিরে প্রায় দেড় ঘণ্টা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
পড়ুন : অনিশ্চয়তার দিন শেষ, এমপি ধলুর উদ্যোগে ঘর পেলেন দুই অসহায় পরিবার


