বিজ্ঞাপন

মারা গেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা জেমস

বিজ্ঞাপন

হলিউডে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র ‘দ্য স্টিং’-এর অভিনেতা জেমস স্লোয়ান আর নেই। ৮৫ বছর বয়সে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। পরিবারের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার’।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২২ জুলাই নিজ বাড়িতেই মৃত্যু হয় জেমস স্লোয়ানের। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও বিজ্ঞাপনের কণ্ঠশিল্পী হিসেবে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছিলেন তিনি। বিশেষ করে ‘দ্য স্টিং’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে পরিচিতি পান এই অভিনেতা। পাশাপাশি জনপ্রিয় ‘স্টার ট্রেক’ ফ্র্যাঞ্চাইজিতে একাধিক চরিত্রে অভিনয় করেও দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি।

১৯৪১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানাপোলিসে জন্মগ্রহণ করেন জেমস স্লোয়ান। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। তার বাবা জেমস স্লোয়ান সিনিয়র ছিলেন একজন নির্মাণ প্রকৌশলী।

অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের আর্মিতে তিন বছর দায়িত্ব পালন করেন স্লোয়ান। সেনাবাহিনীর চাকরি শেষে অভিনয়ের প্রতি নিজের আগ্রহকে পেশাগত রূপ দেন তিনি। নিউ ইয়র্কের আমেরিকান একাডেমি অব ড্রামেটিক আর্টস থেকে অভিনয়ের শিক্ষা নেন।

শিক্ষাজীবন শেষে মঞ্চনাটকের সঙ্গেও যুক্ত হন স্লোয়ান। জোসেফ পাপের নিউ ইয়র্ক শেকসপিয়র ফেস্টিভ্যালে তলোয়ার খেলার কোরিওগ্রাফার হিসেবে কাজ করার মধ্য দিয়ে পেশাদার থিয়েটারজগতে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। মঞ্চে তার অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে অভিনয়ের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

১৯৬৯ সালে আর্থার কোপিটের ‘ইন্ডিয়ানস’ নাটকের মাধ্যমে ব্রডওয়েতে অভিষেক হয় জেমস স্লোয়ানের। মঞ্চে কাজের পাশাপাশি অল্প সময়ের মধ্যেই বড় পর্দায়ও নিজের জায়গা তৈরি করেন তিনি।

এর পরের বছর ‘দ্য ট্রাভেলিং এক্সিকিউটর’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তার। এরপর ধীরে ধীরে বিভিন্ন চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রযোজনায় অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি।

তবে তার অভিনয়জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় ১৯৭৩ সালের ‘দ্য স্টিং’। জর্জ রয় হিল পরিচালিত এই অস্কারজয়ী চলচ্চিত্রে ‘মটোলা’ চরিত্রে অভিনয় করেন স্লোয়ান। সিনেমাটিতে তার অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং হলিউডে তার পরিচিতি আরও বাড়িয়ে দেয়।

এরপর ১৯৮০ সালের মিউজিক্যাল ফ্যান্টাসি সিনেমা ‘জানাদু’-তেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যায় তাকে। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি টেলিভিশনেও নিয়মিত কাজ করে গেছেন এই অভিনেতা।

জেমস স্লোয়ানের অভিনয়জীবনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় ‘স্টার ট্রেক’ ফ্র্যাঞ্চাইজি। নব্বইয়ের দশকে ‘স্টার ট্রেক: দ্য নেক্সট জেনারেশন’, ‘ডিপ স্পেস নাইন’ এবং ‘ভয়েজার’ সিরিজে অভিনয় করেন তিনি।

এই তিন সিরিজে চারটি ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে নিজের বহুমুখী অভিনয় দক্ষতার পরিচয় দেন স্লোয়ান। একই অভিনেতাকে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন ‘স্টার ট্রেক’-এর দর্শকেরা। ফলে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ভক্তদের কাছেও আলাদা পরিচিতি তৈরি হয় তার।

দীর্ঘ টেলিভিশন ক্যারিয়ারে ‘দ্য স্ট্রিটস অব সান ফ্রান্সিসকো’, ‘কোজাক’, ‘ওয়ান্ডার ওম্যান’, ‘মার্ডার, শি রোট’ এবং ‘দ্য এক্স-ফাইলস’-এর মতো জনপ্রিয় সিরিজেও অভিনয় করেছেন তিনি। ছোট পর্দায় তার বিচিত্র চরিত্রাভিনয় তাকে কয়েক দশক ধরে দর্শকের কাছে পরিচিত মুখ করে রেখেছিল।

শুধু অভিনয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না জেমস স্লোয়ান। কণ্ঠশিল্পী হিসেবেও তার দীর্ঘ ক্যারিয়ার রয়েছে। ১৯৮৯ সাল থেকে টানা ১৮ বছর টয়োটার বিলাসবহুল গাড়ির ব্র্যান্ড লেক্সাসের বিজ্ঞাপনের প্রধান কণ্ঠশিল্পী হিসেবে কাজ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপনে তার কণ্ঠস্বরও দর্শক-শ্রোতাদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠে। অভিনয় ও ভয়েসওভার—দুই ক্ষেত্রেই দীর্ঘ সময় সক্রিয় থেকে নিজের বহুমুখী প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি

ব্যক্তিগত জীবনে জেমস স্লোয়ান ১৯৭৩ সালে অভিনেত্রী ডেইর্ড্রে লেনিয়ানকে বিয়ে করেন। দীর্ঘ দাম্পত্যজীবনে তাদের পরিবারে রয়েছে ছেলে ড্যানিয়েল এবং মেয়ে সামান্থা স্লোয়ান।

প্রায় পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয়জগতে সক্রিয় ছিলেন জেমস স্লোয়ান। মঞ্চ, চলচ্চিত্র, টেলিভিশন এবং বিজ্ঞাপনের কণ্ঠ—বিনোদনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করেছেন তিনি। ‘দ্য স্টিং’-এর মতো অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র থেকে শুরু করে ‘স্টার ট্রেক’-এর একাধিক সিরিজ—বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে দর্শকের সামনে হাজির হয়েছেন এই অভিনেতা।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনের পর ৮৫ বছর বয়সে তার চলে যাওয়া হলিউডের বিনোদনজগতের জন্য নিঃসন্দেহে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি। তার অভিনীত কাজগুলোই এখন দর্শকদের কাছে হয়ে থাকবে এই বহুমুখী অভিনেতার স্মৃতির অন্যতম স্মারক।

পড়ুন:জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে কার্তিক, মাম্মুটি, রণদীপ ও ইয়ামির জয়

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন