বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সৈয়দপুরে রেল কর্মকর্তার বাংলোয় নিয়মবহির্ভূত আলোকসজ্জা

সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় যখন সারা দেশে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি পর্যায় থেকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের আহ্বান জানানো হচ্ছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশ রেলওয়ে সৈয়দপুরে দেখা গেল সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। বিদ্যুতের চরম ক্রান্তিকালেও কর্মকর্তা হিসেবে পাওয়ার হাউসের সুবিধা ও পদের প্রভাব খাটিয়ে সরকারি বাংলোতে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা এবং রেলওয়ে মাঠের সার্চলাইট নিজের বাড়ির দিকে ঘুরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বৈদ্যুতিক বিভাগের (এলসি অ্যান্ড ডব্লিউ) জ্যেষ্ঠ উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসএসএই) খাইরুল বাশারের বিরুদ্ধে।

বিজ্ঞাপন

​সৈয়দপুর রেলওয়ের ই/৩১ নম্বর বাংলোটি মূলত ‘এসএসএই ওয়ে (পিডব্লিউআই)’ পদের বিপরীতে বরাদ্দকৃত। এর আগেও এই নির্দিষ্ট বাংলোটি নিয়ে নানা অনিয়মের খবর সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। সম্প্রতি বৈদ্যুতিক বিভাগে নতুন দায়িত্বে আসা খাইরুল বাশার এই বাংলোতে ওঠার পর থেকেই আলো ঝলমলে রূপ দেন পুরো চত্বরে। যেখানে সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ সংকটে ভোগান্তিতে পড়ছে, সেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এমন অতিরিক্ত অপচয় চরম ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

​সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, সৈয়দপুর রেলওয়ে মাঠ আলোকিত করার জন্য যে শক্তিশালী সার্চলাইটটি ব্যবহৃত হওয়ার কথা ছিল, সেটি এখন মাঠের পরিবর্তে শোভা পাচ্ছে উক্ত কর্মকর্তার বাংলো চত্বরে। পুরো মাঠ অন্ধকারে রেখে কেবল নিজের বাসভবন ও আঙিনা ফোকাস করার জন্য লাইটটির দিক পরিবর্তন করে স্থাপন করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

​এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ওয়ার্কস) শরিফুল ইসলাম জানান,বিদ্যুতের কোনো বিষয়ে মতামত দেওয়া বা এর নিয়ন্ত্রণ আমাদের প্রকৌশল (ওয়ার্কস) বিভাগের আওতাভুক্ত নয়।

​অন্যদিকে,অভিযুক্ত কর্মকর্তা খাইরুল বাশার নিজের বিরুদ্ধে ওঠা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করে এক অদ্ভুত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন,আমি কারখানার বৈদ্যুতিক বিভাগে চাকরি করি। আর বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে আলাদা বিভাগ, যাকে পাওয়ার হাউস’ বলা হয়। আমার বাংলোর এই আলোকসজ্জা পাওয়ার হাউস থেকেই করা হয়েছে।

​তার এমন জবাবে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বিদ্যুৎ সংকটের এই সময়ে কর্মকর্তাদের মন রক্ষা করতেই কি ‘পাওয়ার হাউস’ বিভাগ নিয়ম ভেঙে এই বিপুল আলোকসজ্জা ও সার্চলাইটের বন্দোবস্ত করেছে?দেশের ক্রান্তিকালে সরকারি বিদ্যুৎ ও সম্পদের এমন অপব্যবহার নিয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল এ ঘটনার আশু সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন।

পড়ুন : আখাউড়ায় যুবদলের সমাবেশ ও মিছিল

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন