২০২৭ সালের পবিত্র হজ নিবন্ধনের অর্থ জমা দেওয়ার সুবিধার্থে আগামী শুক্র ও শনিবার সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখা খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ব্যাংকের নির্ধারিত লেনদেনের সময় শেষ হওয়ার পরও হজের অর্থ জমা দিতে আসা গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিকস ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে। দেশের সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৭ সালের পবিত্র হজের নিবন্ধন কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হজের নিবন্ধনের অর্থ গ্রহণকারী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো শুক্রবার ও শনিবার স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী খোলা থাকবে।
হজের নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ জমা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় ব্যাংকগুলোকে এ বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ছুটির দিনে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখা খোলা রাখার মাধ্যমে হজযাত্রীদের অর্থ জমা দেওয়ার সুযোগ সহজ করা হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ব্যাংকের স্বাভাবিক লেনদেনের নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পরও যদি কোনো হজযাত্রী বা গ্রাহক অর্থ জমা দেওয়ার জন্য ব্যাংকে উপস্থিত থাকেন, তাহলে তাদের অর্থ গ্রহণ করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
অর্থাৎ নির্ধারিত ব্যাংকিং সময় শেষ হওয়ার কারণে কোনো হজগ্রহীতা ব্যাংকে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও অর্থ জমা দিতে না পারেন—এমন পরিস্থিতি এড়াতে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে অর্থ গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। হজযাত্রীদের একটি বড় অংশ ব্যাংক শাখায় গিয়ে নিবন্ধনের অর্থ জমা দেন। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ জমা দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে অতিরিক্ত সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এ নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব ব্যাংক হজের নিবন্ধনের অর্থ গ্রহণ করে, তাদের সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো শুক্রবার ও শনিবার কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এসব শাখায় হজ নিবন্ধনের অর্থ গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখতে হবে।
ব্যাংকগুলোকে একই সঙ্গে গ্রাহকদের অর্থ গ্রহণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে নির্ধারিত ব্যাংকিং সময়ের পরও হজগ্রহীতা উপস্থিত থাকলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অর্থ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হজ নিবন্ধনের শেষ সময় ঘনিয়ে এলে ব্যাংক শাখাগুলোতে গ্রাহকের চাপ বাড়তে পারে। ছুটির দিনে শাখা খোলা রাখার সিদ্ধান্তের ফলে হজযাত্রীরা অতিরিক্ত সময় পাবেন এবং নিবন্ধনের অর্থ জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সময়সংকট কিছুটা কমবে।
এদিকে হজের নিবন্ধন ও অর্থ জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, হজের অর্থ গ্রহণকারী শাখাগুলো শুক্রবার ও শনিবার স্বাভাবিক সময়সূচিতে খোলা থাকবে। পাশাপাশি ব্যাংকিং লেনদেনের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও উপস্থিত হজগ্রহীতাদের অর্থ গ্রহণের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
২০২৭ সালের পবিত্র হজ পালনের জন্য নিবন্ধন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ জমা দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এই বিশেষ ব্যবস্থা হজ নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও নির্বিঘ্ন করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পড়ুন:ডলার ছাড়াই টাকায় আমদানি-রপ্তানির অর্থ পরিশোধের সুযোগ
ইমি/


