দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা (তথ্য অফিসার) ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।’
জানা গেছে, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করা হবে। এসব কমিটির কার্যক্রমের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) মাসিক ভিত্তিতে প্রতিবেদন সংগ্রহ করবে। পরে ওই প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগে দাখিল করা হবে।
এর আগে ২০২৫ সালের ২১ জুলাই দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী সচেতনতা কার্যক্রম জোরদারে ডকুমেন্টারি ও থিম সং প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছিল মাউশি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সপ্তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
মাউশির মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইংয়ের পরিচালক কাজী মো. আবু কাইয়ুম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, মাদকের কুফল সম্পর্কে প্রচার ও সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রস্তুত করা একটি ডকুমেন্টারি ও থিম সং প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসব উপকরণ দেখানোর ব্যবস্থা করতে বলা হয়।
নির্দেশনায় ঐ বছরের ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের গুগল ফর্মে তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছিল। চিঠির সঙ্গে একটি গুগল ডক লিংক ও কিউআর কোডও সংযুক্ত করা হয়।
এর আগে ২০২২ সালে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রথমবারের মতো মাদকবিরোধী কমিটি গঠনের কার্যক্রম শুরু করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। তখন পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি স্কুল ও কলেজে এ কমিটি গঠন করা হয়। পরে এর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দেশব্যাপী কার্যক্রমটি বিস্তারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ধারাবাহিকভাবে কমিটির কাঠামো নির্ধারণের পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হয়।
গঠিত মাদকবিরোধী কমিটির প্রধান দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতন করা এবং প্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী পরিবেশ তৈরি করা। শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে নিয়মিত সচেতনতামূলক সভা, সেমিনার ও শ্রেণিভিত্তিক আলোচনার আয়োজন করার কথা রয়েছে কমিটির।
এ ছাড়া পোস্টার, লিফলেট ও স্টিকার বিতরণসহ বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করবে কমিটি। মাদকসংক্রান্ত কোনো সমস্যা বা সন্দেহজনক ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন সদস্যরা।
শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে রাখতে পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা তৈরিও কমিটির কাজের অংশ। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী বার্তা ছড়িয়ে দিতে মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং অন্য শিক্ষকদের এ কাজে উৎসাহিত করার কথা রয়েছে কমিটির সদস্যদের।
পড়ুন : গঙ্গার পানিবণ্টনে নতুন চুক্তি চায় বাংলাদেশ: পানিসম্পদমন্ত্রী
সা/


