বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ডালের বাজারে মন্দা, বাড়ছে পরিবহন খরচ

চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে বিভিন্ন ধরনের ডালের বেচাকেনায় ভাটা দেখা দিয়েছে। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও ক্রেতাদের মধ্যে চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় আগের মতো বিক্রি হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে ডিজেলের দাম বাড়ায় দূরপাল্লার পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়েছে। ফলে সামনে ডালের বাজারে বাড়তি দামের চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজার ঘুরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ধরনের ডালের সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে চাহিদা কম থাকায় পাইকারি পর্যায়ে বিক্রির পরিমাণ কমেছে। অনেক আড়তদারকে আগের তুলনায় কম পরিমাণে ডাল বিক্রি করতে হচ্ছে।

বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে ভারতীয় চিকন মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৫২ টাকা দরে। এ ছাড়া মোটা মসুর ডাল ৮১ টাকা, মুগডাল ১১৫ টাকা, চনার ডাল ৯৭ টাকা এবং মটর ডাল ৫৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে চুলা ডালের দাম মান ও ধরনভেদে কেজিপ্রতি ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৯৪ টাকা পর্যন্ত রয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে ডালের বেচাকেনায় এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গত কয়েক মাসের তুলনায় অনেক আড়তে বিক্রির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এতে ব্যবসায়ীদের পুঁজি ঘুরতে সময় বেশি লাগছে। একই সঙ্গে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পণ্য আনা-নেওয়ার খরচও বাড়ছে।

চাক্তাইয়ের মেসার্স গৌর নিতাই ভাণ্ডারের ব্যবসায়ী নয়ন সওদাগর বলেন, ডালের বাজারে বর্তমানে চাহিদা খুব কম। বেচাকেনা আগের মতো নেই। গত দুই-এক মাসের তুলনায় বিক্রি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। বাজারে পণ্যের সরবরাহ থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি এবং কেনার পরিমাণ কম থাকায় ব্যবসায়ীদের বিক্রিতে তার প্রভাব পড়ছে।

তার মতে, ডালের বাজারে চাহিদা স্বাভাবিক না হলে বেচাকেনা আগের অবস্থায় ফিরতে সময় লাগতে পারে। একই সঙ্গে পরিবহন ব্যয় বাড়তে থাকলে ব্যবসায়ীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এহসান উল্লাহ জাহেদী বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ার প্রভাব ইতোমধ্যে পণ্য পরিবহনে দেখা যাচ্ছে। তিনি জানান, শরীয়তপুর থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত একটি পণ্যবাহী গাড়ির ভাড়া আগে যেখানে ২৫ হাজার টাকা ছিল, এখন সেখানে প্রায় ৩৪ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, একেকটি গাড়ির ভাড়া প্রায় ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। দূরবর্তী এলাকা থেকে ডালসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে আনতে এই অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় সরাসরি ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ তৈরি করছে।

ব্যবসায়ীদের মতে, পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়লে তা দীর্ঘমেয়াদে পণ্যের পাইকারি দামের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে বাজারে চাহিদা কম থাকায় বাড়তি পরিবহন ব্যয়ের পুরো চাপ তাৎক্ষণিকভাবে দামের মধ্যে প্রতিফলিত না হলেও পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। কারণ ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের খরচ শেষ পর্যন্ত পণ্যের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হয়।

চট্টগ্রাম ডাল মিল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বাবু সঞ্জয় দেব থোকন বলেন, ডালের বাজারে বর্তমানে চাহিদা কম রয়েছে। তবে পরিবহন খরচ বেড়ে গেলে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের ব্যয়ও বাড়বে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ডালের দামের ওপর পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, ডালের দাম শুধু স্থানীয় বাজারের চাহিদা বা সরবরাহের ওপর নির্ভর করে না। আমদানি মূল্য, ডলারের বিনিময় হার, পরিবহন ব্যয় এবং সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতিও দামের ওপর প্রভাব ফেলে। ফলে এসব খাতে ব্যয় বাড়লে বাজারে তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পাইকারি ভোগ্যপণ্যের বাজার। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে পণ্য এনে পাইকারি পর্যায়ে বিক্রি করেন। আবার চট্টগ্রাম থেকে এসব পণ্য দেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। ফলে পরিবহন ব্যয়ের পরিবর্তন এই বাজারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

বর্তমানে ডালের চাহিদা কম থাকায় বাজারে সরবরাহ ও বিক্রির মধ্যে এক ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ক্রেতারা প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত পরিমাণে ডাল কিনছেন। ফলে আড়তগুলোতে আগের তুলনায় কম বেচাকেনা হচ্ছে। এতে বাজারে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি না হলেও ব্যবসায়ীদের বিক্রির পরিমাণ কমে গেছে।

অন্যদিকে পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে সামনে ডালের বাজারে নতুন করে মূল্যচাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চট্টগ্রামে ডাল ও অন্যান্য ভোগ্যপণ্য আনার ক্ষেত্রে যদি পরিবহন ব্যয় আরও বাড়ে, তাহলে এর প্রভাব পাইকারি বাজারের পাশাপাশি খুচরা বাজারেও পড়তে পারে।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধু পরিবহন ব্যয় বাড়লেই ডালের দাম কতটা বাড়বে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বাজারের চাহিদা, সরবরাহ পরিস্থিতি, আমদানি ব্যয় এবং অন্যান্য খরচের ওপরও বিষয়টি নির্ভর করবে। বর্তমানে চাহিদা কম থাকায় ব্যবসায়ীরা বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামলানোর চেষ্টা করছেন।

সব মিলিয়ে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ডালের বাজারে এখন একদিকে ক্রেতার চাহিদায় ভাটা, অন্যদিকে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির চাপ রয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও বিক্রি কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে দূরপাল্লার পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে ডালের বাজারে এর প্রভাব কতটা পড়ে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

পড়ুন:ডিজিটাল ব্যাংক: মানুষের উপকারে আসবে কতটুুকু?

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন