বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সংসার চলছে জোড়াতালিতে, হিসাব মিলছে না নিম্ন ও মধ্যবিত্তের

বাজারে গেলেই হিসাব মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে মধ্যবিত্ত, শ্রমজীবী, দিনমজুর ও সীমিত আয়ের মানুষকে। পকেটে থাকা টাকায় সপ্তাহের প্রয়োজনীয় পণ্যের তালিকা মেলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। চাল কেনার পর আটা ও তেলের খরচ কমাতে না পারলে মাছ কেনার সামর্থ্য থাকছে না। শেষ পর্যন্ত বড় মাছের বদলে ছোট মাছের দামের মধ্যেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে অনেককে।

বিজ্ঞাপন

বাজারের প্রয়োজন মেটানোর পর সামনের পুরো সপ্তাহ কীভাবে চলবেন, সেই চিন্তাও তাদের পিছু ছাড়ছে না। দেশের মধ্যবিত্ত, শ্রমজীবী, দিনমজুর ও সীমিত আয়ের মানুষের প্রতিদিনের চিত্র অনেকটা এমনই। আয় বাড়ার তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সংসারের খরচ কমানোর সুযোগও ক্রমেই সীমিত হচ্ছে। চাল, আটা-ময়দা, তেল, ডিম, মাছ-মাংস ও সবজির বাজারে বিভিন্ন সময়ে একেকটি পণ্যের দাম বাড়ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে জ্বালানি তেলের বাড়তি দাম, বিদ্যুতের বেশি বিল, গ্যাসের মূল্য এবং আমদানি ব্যয়ের চাপ।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলেও দেশের অধিকাংশ শ্রমজীবী ও বেসরকারি চাকরিজীবীর আয় একই গতিতে বাড়ছে না। ফলে আয়ের আগেই ব্যয় বাড়তে থাকায় সংসারের খরচ সামলাতে নাভিশ্বাস উঠেছে অনেকের।

মূল্যস্ফীতি কমলেও স্বস্তি ফেরেনি

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ আগস্টের হিসাবে দেশে সাধারণ মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে। জুলাইয়ে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ০২ শতাংশে।

তবে একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। অর্থাৎ গড়ে মজুরি বাড়ার হার মূল্যস্ফীতির তুলনায় কিছুটা কম।

এখানেই সরকারি মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যানের সঙ্গে সাধারণ মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতার পার্থক্য দেখা যায়। মূল্যস্ফীতি কমেছে বলার অর্থ পণ্যের দাম কমে গেছে—এমন নয়। এর অর্থ হলো আগের তুলনায় দাম বাড়ার গতি কিছুটা কমেছে। গত এক-দুই বছরে তৈরি হওয়া উচ্চ দামের ওপরই নতুন করে মূল্যবৃদ্ধি যুক্ত হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদ ফাহমিদা খাতুনও বলেছেন, মূল্যস্ফীতি কমলেও বাজারে পণ্যের দাম উচ্চ অবস্থানে থাকায় মানুষ এখনও স্বস্তি পাচ্ছে না।

তেলের নতুন ধাক্কায় বাজারে চাপ

বাজারে চাপ বাড়ানোর আরেকটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি। ২১ সেপ্টেম্বর ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ চার ধরনের প্রধান জ্বালানির দাম এক ধাক্কায় লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বেড়েছে।

চলতি বছরের শুরুতে ডিজেলের দাম ছিল ১০২ টাকা, অকটেন ১২২, পেট্রোল ১১৮ ও কেরোসিন ১১৪ টাকা। সে হিসাবে সেপ্টেম্বরের বর্তমান দামে জানুয়ারি থেকে ডিজেলের দাম ৩২ দশমিক ৩৫ শতাংশ, কেরোসিন ৩৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ, পেট্রোল ৩৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং অকটেন ৩৫ দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়েছে।

সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ আন্তর্জাতিক বাজার, পরিবহন ব্যয় ও আমদানি ব্যয়ের চাপের কথা বলেছে। সরকারের হিসাবে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের জ্বালানি বিক্রিতে বড় ধরনের লোকসান হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারেও অপরিশোধিত তেলের দাম উঁচু অবস্থানে রয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ৬০ ডলারে লেনদেন শেষ করে। ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে তা সামান্য কমে প্রায় ১০৫ দশমিক ৭৩ ডলারে নামে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, সরবরাহপথের ঝুঁকি ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার আশঙ্কা বাজারকে অস্থির রেখেছে।

জ্বালানি তেলের প্রভাব শুধু গাড়ির জ্বালানি খরচের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কৃষিতে সেচ, পণ্য পরিবহন, কারখানার উৎপাদন এবং মাছ-মাংস ও সবজি ঢাকায় আনার ক্ষেত্রেও পরিবহন ব্যয় বাড়তে পারে। জ্বালানি তেলের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির পর রাজধানীর বাজারে তেল, রসুন, সবজি, মাছ ও ডিমের দামে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে।

বিদ্যুতের বাড়তি বিলেও বাড়ছে ব্যয়

জুন থেকেই বিদ্যুতের খুচরা দরে বড় পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন খুচরা বিদ্যুতের গড় দাম ইউনিটপ্রতি ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা করেছে। এতে গড় দাম বেড়েছে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

তবে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত জীবনরেখা গ্রাহক এবং ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত আবাসিক গ্রাহকের জন্য আগের হারই বহাল রাখা হয়েছে। নতুন কাঠামোয় ৭৬-২০০ ইউনিটের আবাসিক গ্রাহকের ইউনিটপ্রতি দাম ৮ টাকা ৫০ পয়সা, ২০১-৩০০ ইউনিটে ৯ টাকা ১০ পয়সা, ৩০১-৪০০ ইউনিটে ৯ টাকা ৬২ পয়সা, ৪০১-৬০০ ইউনিটে ১৫ টাকা ১ পয়সা এবং ৬০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারে ১৭ টাকা ৩৫ পয়সা।

শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতেও বিদ্যুতের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। বিদ্যুতের বাড়তি খরচ একদিকে কারখানার ব্যয় বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে সেই ব্যয় পণ্যের দামে স্থানান্তরের চাপ তৈরি করছে।

গ্যাসের ক্ষেত্রেও শিল্পে চাপ রয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে নতুন শিল্প-সংযোগের গ্যাসের দাম ঘনমিটারে ৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ টাকা করা হয়। নতুন নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে দাম নির্ধারণ করা হয় ৪২ টাকা। তবে তখন আবাসিক গ্রাহকের গ্যাসের দাম অপরিবর্তিত ছিল।

আমদানি খরচেও ডলারের প্রভাব

আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে পণ্যের দামের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ডলারের বিনিময় হার। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২৪ সেপ্টেম্বরের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের রেফারেন্স হার ছিল ১ ডলারে ১২৩ টাকা ১৭ দশমিক ৫৪ পয়সা। ২৩ সেপ্টেম্বর এই হার ছিল ১২৩ টাকা ১৬ দশমিক ৭৬ পয়সা।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে টাকার ওপর একমুখী অবমূল্যায়নের চাপ নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে আগস্টের শেষ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডলারের হার ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে ১২৩ টাকায় নেমেছে। অর্থাৎ ওই সময়ে টাকা কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে।

তারপরও আমদানিকারকের ব্যয়ে ডলারের ভূমিকা রয়েছে। পণ্য আমদানির সময় আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম, ডলারের বিনিময় হার, জাহাজভাড়া, বীমা, কর-শুল্ক ও অর্থায়নের ব্যয় মিলেই স্থানীয় খরচ তৈরি হয়। জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে এই সম্পর্ক আরও সরাসরি।

জুলাইয়ে পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির ঋণপত্রের পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬৯ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণাতেও বলা হয়েছে, উচ্চ জ্বালানি ও আমদানি ব্যয় বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি করতে পারে এবং পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

সব পণ্যের দাম একই পথে নয়

সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ বাজার-সমীক্ষায় সব পণ্যের দামে একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। কোনো পণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি, আবার কোনো পণ্যের দাম সামান্য কমছে।

ঢাকায় ব্রয়লার মুরগির দাম প্রতিকেজি ১৯০-২২০ টাকা। গরুর মাংস ৮০০-৮৫০ টাকা কেজি। পাঙাশ ২৩০, তেলাপিয়া ২৬০ এবং চিংড়ি ৮০০-৯০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।

এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকার কয়েকটি বাজারে খোলা আটা ৫০ টাকা কেজি, ময়দা ৮০-৮৫ টাকা এবং সুগন্ধি চাল ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রির খবর পাওয়া যায়। এক সপ্তাহে সুগন্ধি চালের দাম ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছিল।

অন্যদিকে ঢাকার বাজারে ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১০ টাকা কমে ১৪০-১৪৫ টাকায় নেমেছে। ভোজ্য তেলেও সরবরাহের সমস্যা রয়েছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা দাম লিটারে ১৯৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০৪ টাকা করা হয়। তবে দাম বাড়ানোর পরও অনেক দোকানে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।

অর্থাৎ বাজারের সমস্যা শুধু মূল্যবৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ নয়। কোথাও সরবরাহ ঘাটতি, কোথাও পরিবহন ব্যয় এবং কোথাও আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব কাজ করছে।

পে-স্কেলেও নতুন প্রশ্ন

সরকার ৩১ আগস্ট জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুমোদন করে। ১৯ সেপ্টেম্বর এর প্রজ্ঞাপন জারি হয়। নতুন কাঠামোয় ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হবে।

নতুন বেতন কাঠামো সরকারি কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াবে। তবে এর প্রভাব বাজারে কী হবে, তা নির্ভর করবে বাড়তি আয় কতটা খরচে যাবে, বাজারে পণ্য ও সেবার সরবরাহ কতটা বাড়বে এবং বেতন বৃদ্ধির অর্থায়ন কীভাবে হবে—এসব বিষয়ের ওপর।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বেতন বাড়ানোর বিষয়টি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সেটিই মূল বিবেচনার বিষয়। বেতন বাড়ালেই মূল্যস্ফীতি বাড়বে- এমন নয়। এর প্রভাব নির্ভর করবে বেতন বৃদ্ধির অর্থ কীভাবে জোগান দেওয়া হচ্ছে, বৃদ্ধির পরিমাণ কত, বাজারে পণ্য ও সেবার সরবরাহ পরিস্থিতি কেমন এবং মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির মধ্যে কতটা সমন্বয় রয়েছে তার ওপর।

তার মতে, উচ্চতর কর রাজত্বের পরিবর্তে যদি ব্যাংকঋণ, নতুন টাকা সৃষ্টি কিংবা উন্নয়ন ব্যয় কমিয়ে বেতন বৃদ্ধির অর্থ জোগান দেওয়া হয়, তাহলে অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমান বাজারদরের চাপের প্রধান কারণ পে-স্কেল নয়। ১ সেপ্টেম্বর এফবিসিসিআইয়ের বৈঠকে ব্যবসায়ীরা জ্বালানি ঘাটতি, সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যা, ঋণপত্র খোলার জটিলতা ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবের কথা বলেন।

বাজারে কোনো পণ্যের আন্তর্জাতিক বা পাইকারি দাম কমলেও খুচরা দাম একই গতিতে কমে না—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ভোক্তা অধিকার সংগঠন বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব ও বাজার তদারকির ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে ব্যবসায়ীরাও বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমানো এবং পাইকারি ও খুচরা বাজারে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

মূল্যস্ফীতি আবার বাড়ার শঙ্কা

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের প্রকাশিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ নীতির দুর্বলতার কারণে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি আগামী অর্থবছরে আবার ৯ শতাংশের কাছাকাছি যেতে পারে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাটির মতে, বাহ্যিক ধাক্কার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বলতা এবং যথাযথ বাজার তদারকির অভাবও মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি করছে।

বাজার বিশ্লেষক ও ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা বলছেন, কেবল মুদ্রানীতির সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন বাজার ব্যবস্থাপনা জোরদার করা, সিন্ডিকেট ভাঙা এবং চাঁদাবাজি বন্ধ করা।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনের প্রতিনিধি ও আমদানিকারকরা বলছেন, উচ্চ ব্যাংক সুদের হার, ডলারের দাম এবং দফায় দফায় গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ায় তাদের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। ফলে ইচ্ছা করলেই তারা পণ্যের দাম কমাতে পারছেন না।

গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে কর বা শুল্ক ছাড় না দিলে খুচরা বাজারে স্বস্তি ফেরানো কঠিন হবে বলেও তারা মনে করেন।

মানুষের জীবনে চাপ কতটা

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এএইচএম শফিকুজ্জামান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, মূল্যস্ফীতির সর্বশেষ পরিসংখ্যান পণ্যের দাম বৃদ্ধির বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে না। দাম বেড়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের। এসব মূল্যবৃদ্ধির প্রতিফলন মূল্যস্ফীতির হিসাবে থাকা উচিত।

চিনি ও চালের দাম বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। তার প্রশ্ন, ‘জীবনযাত্রার ব্যয় আসলে কোথায় কমেছে?’

তার মতে, মানুষ স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় কমিয়ে দিচ্ছে। এমনকি খাবারের পরিমাণও কমিয়ে দেওয়ার ঘটনা রয়েছে। শিশুরা পর্যাপ্ত পুষ্টি না পেলে দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব একটি অসুস্থ প্রজন্ম তৈরির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মো. দীন ইসলাম বলেন, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মূল্যস্ফীতির হার কমেছে বলেই প্রকৃত অর্থে মূল্যস্ফীতি কমছে- এমন সিদ্ধান্তে আসা ঠিক হবে না।

সরবরাহ বাড়ানোই বড় চ্যালেঞ্জ

নতুন বেতন কাঠামো নয়, বরং জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, ঋণপত্র (এলসি) খোলায় জটিলতা এবং বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণহীন প্রভাবের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা সম্ভব। উৎপাদনমুখী কারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।

গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে ইতোমধ্যে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি এলসি খোলায় জটিলতার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিকারকরাও বাড়তি সমস্যায় পড়ছেন।

তথ্যসূত্র: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

পড়ুন: ‘বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত’: ওয়াল স্ট্রিটের ব্যবসায়ীদের প্রধানমন্ত্রী

আর/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন