ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আন্দোলনকারীদের সাথে সভা শেষে যা জানালেন এমপি-ডিসি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নকে ভেঙে বরিশল নামে নতুন আরও একটি ইউনিয়ন গঠন করে বিভক্ত করার প্রতিবাদে আন্দোলনকারীদের সাথে জেলা প্রশাসনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার দুপুরে সদর উপজেলার কোড্ডায় রেলপথ ও সড়ক পথ অবরোধ স্থগিত করার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বানিজ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, জেলা প্রশাসক মো.আবুসাঈদ ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম, আন্দোলনকারীদের ১০-১২জন প্রতিনিধি ও জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।

সভার শুরুই বক্তব্য রাখেন বাসুদেব ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ভূইয়া নয়নসহ আন্দোলনকারীদের তিনজন প্রতিনিধি। তারা বক্তব্যে জানান, নতুন বরিশল ইউনিয়ন বাসুদেব ইউনিয়নের ৬টি গ্রাম নিয়ে গঠন করা হয়েছে। কিন্তু এরমধ্যে কোড্ডা, চান্দি, কোড়াবাড়ি ও শ্যামনগরের বাসিন্দারা এই ইউনিয়নে থাকতে চান না। প্রয়োজনে বরিশল গ্রাম ও বৈষ্ণবপুর গ্রাম নিয়ে বরিশল ইউনিয়ন গঠন করুক। এনিয়ে উপস্থিত সবার মধ্যে আলোচনা হয়।

সভা শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ জানান, প্রায় ছয় মাস আগে গঠিত বরিশল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চারটি গ্রাম বের হয়ে যাওয়ার বিষয় নিয়ে এলাকাবাসী আন্দোলন করেছিল। স্থানীয় সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলামসহ বিএনপির নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। চারটি গ্রাম নবগঠিত বরিশল ইউনিয়নে থাকতে চাই না বলে তারা জানিয়েছে। তারা আবেদন বা স্মারকলিপি জমা দিবে। সেটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে সদর ও বিজয়নগরের চার ইউনিয়ন নিয়ে বরিশল নামে নতুন একটি উপজেলা গঠনের মতামত চাওয়া হয়েছিল। দুই মাস আগে আসা মতামতের চিঠি স্থগিত অবস্থায় আছে। এর বিপক্ষে চার ইউনিয়নের লোকজন একটি স্মারকলিপি দিয়েছে বলেছেন যে নতুন বরিশল উপজেলা হলে তারা যাবে না। স্মারকলিপি পাওয়ার পরদিনই মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব বলেন, ছয়টি গ্রাম নিয়ে গঠিত বরিশল ইউনিয়ন চার গ্রামের লোকজন আন্দোলন করেছে তারা বরিশলে থাকতে চাই না। তাদেরকে আবেদন লিখিত আকারে দেওয়ার জন্য বলেছি। জেলা বিএনপিও তাদের সঙ্গে একমত। চার গ্রাম যেন বাসুদেব ইউনিয়নের সঙ্গে থাকতে পারে সে ব্যাপারে জেলা বিএনপির দলীয় প্যাডে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনুরোধ জানাব। প্রশাসন প্রথমদিকে বরিশল ইউনিয়নের প্রতি নমনীয় ছিল। কিন্তু আজকে দেখলাম তারা সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে।

এরআগে, রোববার সকাল ৭টা থেকে এই কোড্ডা এলাকায় বিক্ষুব্ধরা ঢাকা-চট্রগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথ অবরোধ করে। পাশাপাশি অবরোধ করেছে সুলতানপুর-আগরতলা সড়ক। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়ন থেকে ৬টি গ্রাম নিয়ে সম্প্রতি বরিশল ইউনিয়ন গঠন করা হয়৷ নতুন এই ইউনিয়নটি যুক্ত করা হয় আখাউড়া উপজেলার সাথে। এ বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি বাসুদেব ইউনিয়নের বাসিন্দারা। এনিয়ে বেশ কয়েকবার আন্দোলন করেও কোন সুফল পায়নি তারা। ফলে সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়ন অখণ্ড ও পুনর্বহাল রাখার দাবিতে এবং সদর উপজেলাকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ভূরুঙ্গামারীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন