বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

যমুনার ভাঙ্গণে ৪ গ্রামের একমাত্র স্কুল, ২৯৫ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে যমুনা নদীতে গতকয়েকদিন ধরে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে নদীর তীরে থাকা চৌহালী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়টি এখন বিলীন হওয়ার আশঙ্কায়। ইতোমধ্যে বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে প্রায় ১শ’ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে বিদ্যালয় ভবন থেকে যমুনা নদীর দূরত্ব মাত্র ১৫ ফুট।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলার খাষকাউলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ খাষকাউলিয়া গ্রামে সোমবার সকালে জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়। মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় যেকোনো সময় বিদ্যালয়ের ভবন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়টি রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন কবলিত এলাকায় জিওটেক্স বালুর বস্তা ফেলে ডাম্পিং করতে হবে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ৪ গ্রামের শিক্ষার্থীদের একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি নদী গর্ভে হারিয়ে যেতে পারে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক শহিদুল ইসলাম, আব্দুল রাজ্জাক, বাবুল আক্তার ও আকবর আলী বলেন, নদীভাঙনে এ এলাকার বহু মানুষ ইতোমধ্যে নিঃস্ব ও অসহায় হয়ে পড়েছেন। সন্তানদের দূরের বিদ্যালয়ে পড়ানোর মতো আর্থিক সামর্থ্য অনেক পরিবারের নেই। স্কুলটি নদীতে বিলীন হয়ে গেলে আমাদের সন্তানদের পড়ালেখাই বন্ধ হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুল হক বলেন, হঠাৎ নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। বিদ্যালয় ভবন থেকে নদীর দূরত্ব এখন মাত্র ১৫ ফুট। তিনি বলেন, কিছুদিন আগেই পশ্চিম জোতপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যমুনার ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হয়েছে। একই পরিণতি যেন চৌহালী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের না হয়, সেজন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, চারটি গ্রামের নদীভাঙনকবলিত হতদরিদ্র পরিবারের ২৯৫ জন শিক্ষার্থী এ বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে। আশপাশে আর কোনো বিদ্যালয় না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি তাদের একমাত্র ভরসা। বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে ভাঙনকবলিত স্থানে দ্রুত বালুর বস্তা ফেলে ডাম্পিং করা হলে স্কুলটি রক্ষা করা সম্ভব হবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

খাষকাউলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবলু বলেন, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে ভাঙন দেখা দেয়। এতে বিদ্যালয়টি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামই যমুনার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত জিওব্যাগ ডাম্পিং করে চৌহালী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়টি রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, ভাঙন রোধে দ্রুত ওই এলাকায় জিওটেক্স বালুর বস্তা ফেলার কাজ শুরু করা হবে। তিনি আরও জানান, ওই এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য ৯০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে সেখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।

বিদ্যালয়টি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, বিলম্ব হলে শুধু একটি বিদ্যালয় নয়, চার গ্রামের ২৯৫ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনও চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।

পড়ুন:সংসার চলছে জোড়াতালিতে, হিসাব মিলছে না নিম্ন ও মধ্যবিত্তের

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন