বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি দিলেন সিরাজগঞ্জ বিএনপি নেতা মির্জা মোস্তফা জামান

বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি দিয়েছেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান। আজ শনিবার এ চিঠি দেন তিনি।

চিঠির মূলবিষয় হচ্ছে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির বর্তমান সাংগঠনিক স্থবিরতা, সমন্বয়হীনতা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিরসনে জরুরিভিত্তিতে নতুন জেলা কমিটি গঠনে তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আমি মির্জা মোস্তফা জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি। আমার পিতা মরহুম মির্জা মোরাদুজ্জামান ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ সদর আসনের বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য।

বিএনপির একজন দায়িত্বশীল সাংগঠনিক কর্মী হিসেবে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির বর্তমান সাংগঠনিক পরিস্থিতি আপনার সদয় দৃষ্টিতে আনতে এই খোলা চিঠি লিখছি। যাহা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করছি।

সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে কার্যত স্থবির, বিশৃঙ্খল ও সমন্বয়হীন অবস্থায় রয়েছে। ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির জন্য ১৮ সদস্যের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ২ বছর সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও সেই প্রক্রিয়া কাঙ্ক্ষিত পরিণতিতে পৌঁছায়নি। ফলে জেলার তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের সমন্বয়, কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা ও হতাশা তৈরি হয়েছে।

আমার বক্তব্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়। বরং আমার প্রশ্ন একটাই—সিরাজগঞ্জের মতো ঐতিহ্যবাহী একটি জেলায় কেন দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় বিএনপির ঘোষিত বিলুপ্ত উপজেলা, থানা, পৌর, ইউনিয়ন-ওয়ার্ড এর কার্যকর, পূর্ণাঙ্গ ও প্রতিনিধিত্বশীল কমিটি থাকবে না?
কেন প্রায় ৯ বছরের মেয়াদ উর্ত্তীর্ন দীর্ঘ দিনের জেলা কমিটি দ্বারা দল পরিচালিত হবে?
কেন জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হবে না?
দেশের বিভিন্ন সাংগঠনিক ইউনিটে পুনর্গঠন ও নতুন নেতৃত্ব তৈরির প্রক্রিয়া এগিয়ে গেলেও সিরাজগঞ্জে দীর্ঘসূত্রতায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের সৃষ্টি করছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সিরাজগঞ্জ বিএনপির রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও ত্যাগের ইতিহাস। এই জেলার অসংখ্য নেতাকর্মী বিভিন্ন সময়ে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থেকেছেন, মামলা-হামলা, জেল-জুলুম, গুম-খুন ও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন।
তাদের প্রত্যাশা খুবই স্বাভাবিক— তারা একটি কার্যকর জেলা কমিটি চায়। তারা সাংগঠনিক শৃঙ্খলা চায়। তারা নেতৃত্বের সমন্বয় চায়, তারা ঐক্যবদ্ধ বিএনপি দেখতে চায়। একক নেতৃত্ব বা গোষ্ঠীর আধিপত্যের অবসান চায়। তারা দীর্ঘস্থায়ী অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার অবসান চায়।

কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিনের সম্মেলন প্রস্তুতি প্রক্রিয়া কার্যত একটি স্থায়ী কাঠামোর রূপ নিয়েছে এবং একই জেলায় দুইটি কমিটি বিদ্যমান, যা সারাদেশে বিএনপিতে নজীরবিহীন। যে কারনে তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা, ক্ষোভ ও সাংগঠনিক স্থবিরতা, সমন্বয়হীনতা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় আমি সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির একজন দায়িত্বশীল সাংগঠনিক কর্মী হিসেবে আপনার কাছে সরাসরি ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আমার বিনীত কিন্তু সুস্পষ্ট দাবি—

১। সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির বর্তমান সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির কার্যক্রম জরুরি ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা হোক।
২। প্রয়োজনীয় মনে হলে বর্তমান সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন ও কার্যকর সাংগঠনিক কাঠামো গঠন করা হোক।
৩। অথবা, কোনো প্রকার দীর্ঘসূত্রতা না করে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে অতি দ্রুত জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করে কার্যকরী কমিটি ঘোষণা করা হোক।
৪। জরুরি সাংগঠনিক প্রয়োজন বিবেচনায় সরাসরি একটি নতুন আহ্বায়ক কমিটি/জেলা কমিটি গঠনের বিষয়টি কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।
৫। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে ত্যাগী, পরীক্ষিত, সৎ, মেধাবী, সক্রিয় ও তৃণমূলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ক্লিন ইমেজের নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হোক।
৬। কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা অদৃশ্য প্রভাব যেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে না পারে, সে বিষয়ে আপনার সরাসরি নজরদারি ও সিদ্ধান্ত কামনা করছি।

মাননীয় চেয়ারম্যান,
আপনি আজ শুধু বিএনপির চেয়ারম্যান নন; আপনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও। রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী, গতিশীল ও তৃণমূলনির্ভর রাখার দায়িত্বও আপনার নেতৃত্বের ওপর বর্তায়।

আপনার নেতৃত্বে বিএনপি যখন রাষ্ট্র ও সংগঠনকে নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন, ঠিক তখন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির মতো একটি ঐতিহ্যবাহী সাংগঠনিক ইউনিটের দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা, সমন্বয়হীনতা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। যা দলের ভাবমূর্তি সুস্পষ্ট ভাবে নষ্ট করছে এবং জণগণের আস্থা হারাচ্ছে।

তাই আমি ব্যক্তিগত কোনো পদ বা সুবিধার প্রত্যাশা থেকে নয়, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক স্বার্থে আপনার কাছে এই খোলা চিঠির মাধ্যমে আকুল আবেদন জানাচ্ছি—দয়া করে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করুন। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক স্থবিরতা, সমন্বয়হীনতা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অবসান ঘটান।জরুরিভিত্তিতে নতুন জেলা কমিটি গঠনের ব্যবস্থা করুন। সিরাজগঞ্জের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আপনার একটি কার্যকর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। আপনার সরাসরি হস্তক্ষেপেই সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপিতে নতুন সাংগঠনিক গতি, ঐক্য ও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে—এই প্রত্যাশা রাখছি।

সিরাজগঞ্জের ত্যাগী নেতাকর্মীরা অপেক্ষায় আছে—
একটি সিদ্ধান্তের,
একটি নতুন নেতৃত্বের,
একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ জেলা বিএনপির।

মাননীয় চেয়ারম্যান,
আপনি দয়া করে সিরাজগঞ্জের জেলা বিএনপির দিকে একটু ফিরে তাকান।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : বিশ্ব নদী দিবসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীতে বর্ণাঢ্য নৌ র‍্যালি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন