ক্রিকেটারদের নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে মিরপুরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নিজস্ব প্রাঙ্গণে একটি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুশীলন কিংবা ম্যাচ চলাকালে নামাজ আদায়ের জন্য ক্রিকেটারদের যেন বিসিবি প্রাঙ্গণের বাইরে যেতে না হয়, সে লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মসজিদ নির্মাণের জন্য সম্ভাব্য জায়গা পরিদর্শন করে একটি স্থান চূড়ান্ত করা হয়েছে।
শনিবার বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালকে সঙ্গে নিয়ে মসজিদের জন্য নির্ধারিত জায়গা পরিদর্শন করেন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার ও বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। পরিদর্শনের পর মসজিদ নির্মাণের জন্য জায়গাটি চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রকল্পটির সঙ্গে মুশফিককে সম্পৃক্ত রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
বর্তমানে মিরপুরের বিসিবি প্রাঙ্গণে অনুশীলন কিংবা ম্যাচের সময় নামাজ আদায়ের প্রয়োজন হলে ক্রিকেটারদের অনেক ক্ষেত্রে বাইরে যেতে হয়। এতে তাদের সময় ব্যয় হয় এবং ব্যস্ত সূচির মধ্যে অতিরিক্ত ঝামেলায় পড়তে হয়। ক্রিকেটারদের এই সমস্যার সমাধান করতেই বোর্ডের নিজস্ব জায়গায় মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
মুশফিকুর রহিম দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার জন্য পরিচিত। মাঠের ব্যস্ততার মধ্যেও ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের বিষয়টি তিনি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। ফলে বিসিবি প্রাঙ্গণে ক্রিকেটারদের জন্য মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনায় তাকে যুক্ত রাখা হয়েছে। শনিবার তামিম ইকবালের সঙ্গে তার জায়গা পরিদর্শনও সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে মসজিদ নির্মাণের কাজ ঠিক কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি। একইভাবে মসজিদটির আকার, ধারণক্ষমতা, নকশা এবং নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয়ের বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। প্রকল্পের এসব বিষয় পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে।
চলতি বছর বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর তামিম ইকবাল ক্রিকেটারদের সুযোগ-সুবিধা এবং ক্রিকেট অবকাঠামোর উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বোর্ডের নিজস্ব স্থাপনাগুলো আরও কার্যকর করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিসিবি প্রাঙ্গণে মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে অনুশীলন ও ম্যাচের সময় ক্রিকেটারদের নামাজ আদায়ের জন্য বাইরে যেতে হবে না। এতে তাদের সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি বিসিবি প্রাঙ্গণের মধ্যেই ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের সুযোগ তৈরি হবে।
এখন মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরুর সময়, নকশা, আকার ও ব্যয়সহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিক বিষয় চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষা। এসব বিষয়ে বিসিবির পক্ষ থেকে বিস্তারিত ঘোষণা এলে প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানা যাবে। তবে সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন ও জায়গা চূড়ান্ত করার মধ্য দিয়ে বিসিবি প্রাঙ্গণে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগটি ইতোমধ্যে প্রাথমিক ধাপ অতিক্রম করেছে।


