বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ মেটার বিরুদ্ধে

ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের নীতিমালা, ঘৃণাত্মক বক্তব্য এবং ভুল তথ্য নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে মেটাকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের একটি আদালতের জুরি বোর্ড। অঙ্গরাজ্যটির পক্ষ থেকে চিহ্নিত ২৯টি বক্তব্যের মধ্যে ২৬টিকেই ব্যবহারকারীদের জন্য বিভ্রান্তিকর বলে রায় দিয়েছে জুরি।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার নিউ মেক্সিকোর সান্তা ফে শহরের একটি আদালতে মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়। দুই সপ্তাহ ধরে চলা শুনানি শেষে জুরি মেটার বিভিন্ন বক্তব্য ও নীতিমালা নিয়ে অঙ্গরাজ্যের অভিযোগের কিছু অংশ গ্রহণ করে। তবে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ জুরি গ্রহণ করেনি।

মামলায় মূলত মেটা কীভাবে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহার করে এবং তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে এসব তথ্য কীভাবে ভাগ করে—সেই বিষয়গুলো উঠে আসে। একই সঙ্গে ফেসবুকের ঘৃণাত্মক বক্তব্য ও ভুল তথ্য নিয়ন্ত্রণের নীতিমালা সম্পর্কেও ব্যবহারকারীদের কাছে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও শুনানি হয়।

অঙ্গরাজ্যের অভিযোগ, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য তৃতীয় পক্ষের অ্যাপের কাছে যাওয়ার বিষয়টি যথেষ্ট স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। বিশেষ করে ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারির সময় ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহে একটি তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

মামলাটির সূত্রপাত কয়েক বছর আগে প্রকাশ পাওয়া ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারি থেকে। ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তারা একটি তৃতীয় পক্ষের অ্যাপের মাধ্যমে কোটি কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছিল। পরে ধারণা করা হয়, এভাবে সর্বোচ্চ ৮ কোটি ৭০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করা হয়ে থাকতে পারে।

এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন দেশ ও অঙ্গরাজ্যে মেটার তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হয়।

২০২১ সালে নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল মেটার বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় অঙ্গরাজ্যটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ব্যবহারকারীদের তথ্য কীভাবে সংগ্রহ, ব্যবহার ও তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে ভাগ করা হয়, সে বিষয়ে মেটা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছে। পাশাপাশি ঘৃণাত্মক বক্তব্য ও ভুল তথ্য নিয়ন্ত্রণে ফেসবুকের নীতিমালা নিয়েও ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা জুরির রায়ের সঙ্গে একমত নন এবং নিজেদের অবস্থান রক্ষায় আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।

আদালতে মেটার আইনজীবীরা যুক্তি দেন, অঙ্গরাজ্যের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্যের কিছু অংশ আলাদাভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাদের দাবি, একই বক্তব্যের অন্য অংশে মেটা ব্যবহারকারীদের তথ্যের গোপনীয়তা এবং ভুল তথ্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথাও স্বীকার করেছিল। মেটা আরও বলেছে, তারা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করে না।

জুরির রায়ের পর এখন মেটাকে কত জরিমানা করা হবে, তা নির্ধারণ করবেন বিচারক ফ্রান্সিস ম্যাথিউ। মামলায় ৪ কোটি ৩০ লাখের বেশি লঙ্ঘনের বিষয় উঠে এসেছে। নিউ মেক্সিকোর আইনে প্রতিটি লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা করার সুযোগ রয়েছে।

নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেজ জানিয়েছেন, তার দপ্তর কত পরিমাণ জরিমানা চাওয়া হবে তা পর্যালোচনা করছে। তবে জুরির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ জরিমানা চাওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

এ ছাড়া মেটাকে ব্যবহারকারীদের তথ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার নির্দেশ দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করবে অঙ্গরাজ্যটি। সম্ভাব্য ব্যবস্থার মধ্যে অতীতে দেওয়া বিভ্রান্তিকর বক্তব্য সংশোধন এবং ব্যবহারকারীদের তথ্য কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হয়, তা নিরীক্ষার ব্যবস্থা রাখার বিষয় থাকতে পারে।

তবে জুরি মেটার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ গ্রহণ করেনি। ব্যবহারকারীদের ক্ষতিকর বিষয়বস্তু থেকে সুরক্ষিত রাখতে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন উদ্যোগ এবং তথ্য যাচাইয়ের পদ্ধতি নিয়ে করা কিছু অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

গত ছয় মাসের মধ্যে নিউ মেক্সিকোয় মেটার বিরুদ্ধে এটি দ্বিতীয় জুরি রায়। এর আগে মার্চে একই শহরের একটি জুরি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপে তরুণ ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে মেটা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছে বলে রায় দিয়েছিল। ওই মামলায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়।

পরবর্তী সময়ে ওই মামলার দ্বিতীয় পর্যায়ের শুনানি শেষে বিচারক মেটাকে কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য তহবিলে ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নিউ মেক্সিকোয় কিশোর ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর কয়েক সপ্তাহ পর শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আসক্ত করে তোলার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭টি অঙ্গরাজ্য, ওয়াশিংটন ডিসি এবং কয়েকটি মার্কিন অঞ্চলের সঙ্গে বড় ধরনের সমঝোতায় যায় মেটা। ওই সমঝোতায় প্রতিষ্ঠানটি সর্বোচ্চ প্রায় ১ হাজার ৬৭০ কোটি ডলার দিতে সম্মত হয়।

ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা-সংক্রান্ত ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের অভিযোগে মামলা করা কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে ওই সমঝোতার আওতায় ৪৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার দেওয়ার বিষয়ও ছিল। তবে নিউ মেক্সিকো ওই সমঝোতার অংশ না হওয়ায় সেখানে মেটার বিরুদ্ধে মামলাটি আদালতে গড়ায়।

নতুন এই রায়ের ফলে মেটার ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবস্থাপনা, ভুল তথ্য ও ঘৃণাত্মক বক্তব্য নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত নীতিমালা নিয়ে আবারও আইনি ও জনপরিসরে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এখন মামলায় সম্ভাব্য জরিমানা এবং ব্যবহারকারীদের তথ্য ব্যবস্থাপনায় আদালত কী ধরনের পরিবর্তনের নির্দেশ দেয়, সেদিকেই নজর থাকবে।

পড়ুন:অপটিমাস রোবটের উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে বড় বাধায় টেসলা

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন