টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ যমুনা নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার দুপুরে দুদক টাঙ্গাইলের উপ পরিচালক ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় হাসপাতালের ওষুধ সংরক্ষণ, মজুত ও বিতরণসংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র যাচাই করা হয়। অভিযানে নানা অনিয়ম এবং মাললা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে সম্মিলিতভাবে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে দুদক। এছাড়াও বিপুল পরিমাণ ওষুধ হাসপাতালের টয়লেট ও পরিত্যক্ত ভবনে সংরক্ষণ করা অবস্থায় দেখতে চায়।
এদিকে এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আবু নইম মোহাম্মদ সোহেল বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়।
এর আগে গত ২৬ আগস্ট মধ্য রাতে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পিকআপ ভর্তি সরকারী ওষুধ ভূঞাপুরের যমুনা নদীতে ফেলার সময় জনতার হাতে আটক হয়। পরে চালককে আটক করে পিকআপসহ ওষুধ থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। এ ঘটনায় পরদিন দিবাগত রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.আবু নয়িম মোহাম্মদ সোহেল বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে দুদকের উপপরিচালক ফখরুল ইসলাম বলেন, শুরুতেই আমরা ব্যাপক গাফিলতি, তদন্তের নামে দায়সারা কার্যক্রম, নানা অনিয়ম, মামলার আলামত নষ্ট এবং মাললা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে ঘটনাটি পরিকল্পিত ও সম্মিলিতভাবে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছি। এখানে অনেক পক্ষের জড়িত থাকার অনুমান করা যাচ্ছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওষুধের বস্তার সাথে থানার অব্দকৃত বস্তার ব্যাপক গড়মিল রয়েছে। থানায় খুবই অল্প পরিমাণ বস্তা জব্দ করা দেখানো হইছে। এতো বড় একটি ঘটনা ঘটার পরেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনো বিপুল পরিমাণ ওষুধ হাসপাতালের টয়লেট ও পরিত্যক্ত ভবনে সংরক্ষণ করে রেখেছে। এই সংরক্ষণ করা ওষুধের কি পরিমাণের মেয়াদ আছে আর কি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে এবং কি কি ধরণের ওষুধ রয়েছে তার কোন তথ্য জানাতে পারেনি। যা চরম অবেলা ও গাফিলতির চিত্র ফুটে উঠেছে।
পড়ুন : দিনাজপুরে জেলা ভেটেরিনারী হাসপাতালের উদ্যোগে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস পালিত


