বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সোনারগাঁয়ে অবৈধ ৫টি চুনা কারখানা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে, অধরাই মূল অপরাধীরা!

​নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন  ও অবৈধ চুনাকারখানা গুড়িয়ে দিয়েছে  তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি-এর জোনাল বিক্রয় অফিস (মেঘনাঘাট)। অভিযানে অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করা ৫টি চুনা ও ১টি ঢালাই কারখানা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

​সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শাহরিয়ার পারভেজের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

​তিতাস সূত্র জানায়, সোনারগাঁয়ের গোলাবাড়ি, পিরোজপুর, প্রতাপেরচর ও ঝাউচর এলাকার মোট ৬টি স্পটে (৮টি পয়েন্টে) এই অভিযান চালানো হয়। এতে চুনা কারখানার ১২টি এবং ঢালাই কারখানার ১টি অবৈধ ভাট্টি ভেঙে গুঁড়িয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ১.৫ ইঞ্চি ২০ ফুট এমএস পাইপ এবং ১ ইঞ্চি প্রায় ৩০ ফুট প্লাস্টিক পাইপ জব্দ করা হয়। তিতাসের হিসাব অনুযায়ী, এই সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন করায় প্রতি ঘণ্টায় ২৫,৬০০ ঘনফুট হিসেবে দৈনিক প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকার সরকারি গ্যাস চুরি বন্ধ ও সাশ্রয় হবে।

​তিতাসের এই উদ্যোগ সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রশংসনীয় হলেও অভিযানের নেপথ্যে উঠে এসেছে অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি ছবি। বিপুল পরিমাণ অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও ভাট্টি ধ্বংস করা হলেও কোনো অপরাধীকে গ্রেপ্তার বা জরিমানা করা সম্ভব হয়নি। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কারখানার মালিকদের ঘটনাস্থলে না পাওয়ায় কোনো জেল বা জরিমানা করা সম্ভব হয়নি।

​বিষয়টি স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ সরকারি গ্যাস চুরি করে খোলা আকাশের নিচে এমন বিশাল ভাট্টি চালানো হলেও ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পৌঁছানোর আগেই সব মালিকের গা-ঢাকা দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয়দের দাবি, অভিযানের তথ্য আগেই ফাঁস হয়েছিল কি না কিংবা এই কোটি কোটি টাকার গ্যাস চুরির সিন্ডিকেটের নেপথ্যে কাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

​তিতাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারখানাগুলোর জমির মালিক ও পরিচালকদের তথ্য সংগ্রহ করে সোনারগাঁ থানায় মামলা ও এফআইআর করা হয়েছে। তবে সচেতন মহলের মতে, কেবল ‘অজ্ঞাতনামা’ মামলা বা প্রচারমুখী উচ্ছেদে সীমাবদ্ধ থাকলে কয়েকদিন পর আবারও এসব অবৈধ ভাট্টি চালু হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। মূল অপরাধী ও নেপথ্যের মদদদাতাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : তথ্য যাচাই না করে প্রতিক্রিয়া নয়: ডিসি জাহিদ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন