বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ান এস এম জাহাঙ্গীর, শামসুলকে দিলেন নতুন আশার ঠিকানা

বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়েছে। শারীরিক সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। তবু কারও কাছে হাত পেতে বাঁচতে চাননি বৃদ্ধ শামসুল হক। জীবনের শেষ প্রান্তেও নিজের শ্রমে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা তাঁকে তাড়িয়ে বেড়িয়েছে। তাই খিলক্ষেত খাপাড়া ও লা মেরিডিয়ান সংলগ্ন ফুট ওভারব্রিজের পাশে গলায় ঝোলানো ঝুলিতে করে পান-বিড়ি বিক্রি করতেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দিনের পর দিন এভাবেই চলছিল তাঁর জীবন। আয় ছিল সামান্য, কিন্তু আত্মমর্যাদার জায়গাটি ছিল অটুট। ভিক্ষাবৃত্তির পথ বেছে না নিয়ে নিজের শ্রমে উপার্জন করে বেঁচে থাকার এই সংগ্রামই যেন ছিল শামসুল হকের সবচেয়ে বড় পরিচয়।

এই বৃদ্ধের জীবনসংগ্রামের কথা জানতে পারেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। শামসুলের কষ্টের কথা শুনে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন তিনি।

সোমবার ভর দুপুরে শুধু তাৎক্ষণিক আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে দায়িত্ব শেষ করেননি এস এম জাহাঙ্গীর। শামসুল যেন আর ফুট ওভারব্রিজের পাশে ঝুলিতে করে পান-বিড়ি বিক্রি করতে বাধ্য না হন, নিজের একটি নির্দিষ্ট জায়গা থেকে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন এবং কারও ওপর নির্ভরশীল না হয়ে বাকি জীবনটা আত্মমর্যাদা নিয়ে কাটাতে পারেন—সেই চিন্তা থেকেই তাঁর জন্য একটি টং দোকানের ব্যবস্থা করে দেন তিনি।

একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও শামসুলের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন এস এম জাহাঙ্গীর।

একটি টং দোকান হয়তো খুব বড় কোনো উপহার নয়। কিন্তু বৃদ্ধ শামসুল হকের কাছে এর মূল্য অনেক বেশি। এতদিন যে মানুষটি ফুট ওভারব্রিজের পাশে দাঁড়িয়ে বা বসে গলায় ঝোলানো ঝুলিতে করে পান-বিড়ি বিক্রি করেছেন, এখন তাঁর সামনে রয়েছে নিজের একটি ছোট্ট দোকান। সেখানে বসেই তিনি নিজের জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন।

এটি শুধু একটি দোকান নয়—শামসুলের জন্য এটি আত্মমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার নতুন সুযোগ।

আপদে-বিপদে মানুষের পাশে এস এম জাহাঙ্গীর


খিলক্ষেত ও আশপাশের এলাকার মানুষের কাছে এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের এমন মানবিক উদ্যোগ নতুন কোনো ঘটনা নয়। এলাকার মানুষের যেকোনো আপদ-বিপদে তাঁকে পাশে পাওয়া যায়—এমন কথা বলেন স্থানীয় অনেকেই।

ব্যক্তিগত অসহায়ত্ব, বিপদ কিংবা স্থানীয় কোনো সংকট—প্রয়োজনের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি। কখনো তাৎক্ষণিক সহযোগিতা, কখনো সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ, আবার কখনো মানুষের জীবিকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর এই ভূমিকা প্রকাশ পায়।

শামসুল হকের ঘটনাটিও তারই একটি দৃষ্টান্ত। একজন অসহায় বৃদ্ধের কষ্টের কথা শুনে তাঁর হাতে শুধু সহায়তা তুলে না দিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর একটি সুযোগ করে দিয়েছেন এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।

মানবিকতার জায়গাটি এখানেই সবচেয়ে স্পষ্ট। কারণ শামসুল ভিক্ষা চাননি, চেয়েছিলেন কাজ করার সুযোগ। আর সেই চাওয়াটিকেই সম্মান জানিয়েছেন জাহাঙ্গীর।

হয়তো দোকানটি ছোট। হয়তো সেখান থেকে উপার্জনও হবে সীমিত। কিন্তু একজন মানুষের কাছে নিজের উপার্জনের পথ ফিরে পাওয়ার আনন্দ অনেক বড়। শামসুল হকের জন্য সেই আনন্দের সঙ্গে মিশে আছে দীর্ঘদিনের কষ্ট থেকে কিছুটা মুক্তির স্বস্তি।

এলাকার মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর যে ধারাবাহিকতার কথা স্থানীয়রা বলেন, শামসুল হকের জীবনে নতুন জীবিকার এই ব্যবস্থা তারই আরেকটি মানবিক প্রতিচ্ছবি।

একজন বৃদ্ধের হাতে একটি ছোট্ট দোকানের চাবি তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন যেন আরও একবার দেখালেন—মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানে শুধু বিপদের মুহূর্তে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো একজন মানুষকে এমন একটি সুযোগ করে দেওয়া, যার মাধ্যমে তিনি নিজের জীবনটা নিজেই এগিয়ে নিতে পারেন।

পড়ুন: ‘মামলা না হওয়ার অযুহাতে’ পুলিশ কি দায়িত্ব এড়াতে পারে?

আর/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন