বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ইইউ চীনা বাণিজ্যে বিধিনিষেধ দিলে পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি বেইজিংয়ের

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) চীনা কোম্পানি বা পণ্যের ওপর নতুন কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করলে নিজেদের শিল্প ও বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষায় ‘দৃঢ় প্রতিক্রিয়া’ দেখানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে চীন। দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে প্রয়োজনীয় পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বেইজিং।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার রাতে এক বিবৃতিতে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ অবস্থানের কথা জানায়। ইইউর কয়েকটি সদস্যদেশ চীনের সঙ্গে অন্যায্য বাণিজ্য মোকাবিলায় আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য একটি নতুন বাণিজ্যিক ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে—এমন প্রতিবেদনের পর চীনের পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া আসে।

চীনা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থা একটি ‘সুরক্ষাবাদী ও একতরফা পদক্ষেপ’। এটি কার্যকর হলে চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা ব্যাহত হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে বেইজিং।

মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ইইউ যদি একদিকে চীনের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ চালিয়ে যায়, অন্যদিকে বেইজিংয়ের ওপর চাপ বাড়াতে থাকে, তাহলে দুই পক্ষের পারস্পরিক আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে এতে চলমান আলোচনার সামগ্রিক প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস বুধবার এক চীনা পর্যবেক্ষকের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইইউর পদক্ষেপের জবাবে বেইজিংয়ের হাতে বিভিন্ন ধরনের নীতিগত ব্যবস্থা রয়েছে। সম্ভাব্য এসব পদক্ষেপের মধ্যে বৈষম্যমূলক বাণিজ্য আচরণ নিয়ে তদন্ত, শিল্প ও সরবরাহব্যবস্থার নিরাপত্তা তদন্ত এবং বিদেশি ভর্তুকির প্রভাব পর্যালোচনার মতো ব্যবস্থা থাকতে পারে।

গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদনে ইউরোপ-চীন সম্পর্ক নিয়ে কাজ করা রোডিয়াম গ্রুপের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা নোয়া বারকিনের একটি বিশ্লেষণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তিনি বলেছেন, জার্মানি ও ফ্রান্স চলতি সপ্তাহে একটি যৌথ নীতিপত্র চূড়ান্ত করছে।

বারকিনের দাবি অনুযায়ী, ওই নীতিপত্রে ইউরোপীয় কমিশনকে এমন একটি ব্যবস্থা দ্রুত চালুর আহ্বান জানানো হতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সেকশন ৩০১-এর আদলে কাজ করবে। যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অন্যায্য বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় বাজারে আরও কার্যকর বাণিজ্যিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ হতে পারে। তবে প্রস্তাবিত ব্যবস্থাটি এখনো কার্যকর হয়নি এবং এর চূড়ান্ত কাঠামো বা বাস্তবায়ন পদ্ধতিও নিশ্চিত নয়।

চীন জানিয়েছে, ইউরোপীয় পক্ষ যদি চীনা কোম্পানি বা পণ্যের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করে, তাহলে নিজেদের শিল্প খাত ও বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বেইজিংয়ের ভাষ্য, চীন তার বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় যথাযথ নীতিগত হাতিয়ার ব্যবহার করতে প্রস্তুত।

চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। নতুন কোনো বিধিনিষেধ বা পাল্টা ব্যবস্থা কার্যকর হলে বিশ্বের দুই বড় অর্থনৈতিক অংশের বাণিজ্যিক সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে চীন। বেইজিংয়ের মতে, পারস্পরিক চাপ বাড়ানোর পরিবর্তে আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে বাণিজ্যসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হলে দুই পক্ষের সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হবে।

পড়ুন:দেশজুড়ে ওয়ালটন প্লাজার টিভি স্ক্রিনে প্রচারিত হবে ‘মুন অ্যালার্টে’র নিখোঁজ বার্তা

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন