ময়মনসিংহে যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচজনের বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নে। নিহতদের চারজনই একই পরিবারের সদস্য, যাদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীও রয়েছেন। শুক্রবার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পুরো জেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহতরা হলেন জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নের দড়িহামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন লেবু, তার ৮৫ বছর বয়সী মা রাশিদা বেগম, ২৫ বছর বয়সী মেয়ে মর্জিনা এবং মর্জিনার পাঁচ বছরের ছেলে মিনাল। নিহত অপরজন হলেন সিএনজি অটোরিকশা চালক একই ইউনিয়নের বীর গোবিন্দবাড়ী গ্রামের সুজন আলী।
নিহতের স্বজনরা জানান, পেশায় রাজমিস্ত্রি মোফাজ্জল হোসেন লেবু স্ত্রী ও এক ছেলেকে নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত গাজীপুরের হোতাপাড়া এলাকায় বসবাস করছিলেন। মা মেয়ে ও নাতিকে গাজীপুরের বাসায় নিয়ে যাওয়ার জন্য আগের দিন বৃহস্পতিবার তিনি গ্রামের বাড়িতে আসেন। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা বাড়ি থেকে বের হন। নান্দিনা বাজার থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে প্রথমে তাদের ময়মনসিংহ যাওয়ার কথা ছিল। সেখান থেকে বাসে গাজীপুরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই সড়কে প্রাণ হারান তারা।একসঙ্গে পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন স্বজনরা।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঘাতক বাস ও এর চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
উল্লেখ, ২০ মাসে রাজিব পরিবহনের বাসের কারণে ৯টি দুর্ঘটনায় অন্তত ১৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি সড়কে দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
পড়ুন : সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় পর্নোগ্রাফির মামলায় এক যুবক গ্রেপ্তার


